অবশেষে মায়ের কোলে ফিরলো আনসারি

0

Chuadanga Pi
রেজাউল করিম লিটন, চুয়াডাঙ্গা ঃ ময়মুনা বেবা, অশীতিপর বৃদ্ধা। সন্তানের প্রতি মায়ের মমতা যে কত গভীর, তা আরো একবার বুঝিয়ে দিলেন এ বৃদ্ধা। ছেলে আব্দুল আনসারিকে বুকে জড়িয়ে ধরে দর্শনা সীমান্তে হাঁউমাঁউ করে কাঁদলেন ময়মুনা। কাঁদালেন উপস্থিত সবাইকে। দীর্ঘদিন পর নাড়ি ছেঁড়া ধনকে ফিরে পেয়ে মায়ের মমতায় সিক্ত করলেন সবাইকে। বাংলাদেশের কুষ্টিয়া কারাগারে ২ বছর ২ মাস ২০ দিন কারাভোগ শেষে অবশেষে আপন ঠিকানায় ফিরতো পারলো ভারতীয় নাগরিক আব্দুল আনসারি।
ময়মুনা বেবা জানালেন, ছেলেকে দেখতে ৮ বার গিয়েছি কুষ্টিয়া জেলে। আর ফেরত পেতে ৫ বার এসেছি গেঁদেয় ( দর্শনা বিপরীতে ভারতীয় সীমান্ত)। আলøাহর রহমতে আজ ছেলেকে ফিরে পেয়েছি।
তিন দিনের জেল কিন্তু কারাভোগ দীর্ঘ ২ বছর ২ মাস ২০ দিন। এরপরও দেশে ফিরতে পারছিল না ভারতীয় নাগরিক আব্দুল আনসারী। দেশে ফেরার জন্য কুষ্টিয়া কারাগার থেকে এর আগে দু’দফায় চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তের জয়নগর চেকপোস্টে এসেও সীমান্তের হ¯Íান্তর প্রক্রিয়ার জটিলতার কারনে আবারও কারাগারে ফেরত যেতে হয়েছে তাকে।
জানা গেছে, বিনা পাসপোর্টে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানার বাগমারি গ্রামে আত্মীয়র বাড়িতে আসছিলেন ভারতের মালদা জেলার গাজল থানার পান্ডুয়া গ্রামের বাসিন্দা আজুল আনসারির ছেলে আব্দুল আনসারি (৪৮)। সেদিন ছিল ২০১৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি। এরপর চিলমারি সীমান্তে বিজিবির হাতে ধরা পড়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের দায়ে জেলে যেতে হয় তাকে। আদালত তাকে তিনদিনের কারাদন্ডাদেশ দেন। কিন্তু বিধিবাম; সেই থেকে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারেই দিন কাটছিল আনসারির। তিনদিনের কারাদন্ডাদেশ যেন ২ বছর ২ মাস ২০ দিনেও শেষ হচ্ছিল না।
অবশেষে আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১ টায় দর্শনা আইসিপি চেকপোস্ট সীমান্তে এক পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আব্দুল আনসারিকে েেদশে ফেরত পাঠালো বিজিবি ও দর্শনা ইমগ্রেশন পুলিশ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিজিবির দর্শনা কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার রবিউল ইসলাম, দর্শনা চেকপোস্ট ইমগ্রেশন অফিসার রাশেদুজ্জামান, বিএসএফ’র গেঁদে ক্যাম্পের ইনচার্জ জেএস চিব, ইমিগ্রেশন অফিসার বিজেশ যাদব ও মালদা থানার পুলিশ অফিসার জীবন সিং।

Share.

About Author

Leave A Reply