জনগণ বিভ্রান্ত হয়নি, আ.লীগের পাশেই আছে: প্রধানমন্ত্রী

0

PM
নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জনগণ বিভ্রান্ত হয়নি। তারা সকল অপপ্রচার ভুলে আওয়ামী লীগের পাশেই ছিল।’
জাতীয় সংসদে মঙ্গলবার অধিবেশনের শুরুতে এক অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এজন্য দেশবাসীকে অভিনন্দন জানান।
উল্লেখ্য, আজ আওয়ামী লীগ নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে দলের ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার কে এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে আত্মপ্রকাশ ঘটে দলটির।
দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগকে সব সময় অপপ্রচার মোকাবেলা করেই এগিয়ে যেতে হয়েছে। বাংলাদেশকে শান্তিপূর্ণ ও উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে তিনি সবার সহযোগিতা চান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ আওয়ামী লীগকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, আমরা সে দায়িত্ব আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করছি। আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার বহু চেষ্টা হয়েছে। কেউ সফল হয়নি, পারবেও না।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ পারে, বাংলাদেশ পারবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া এই দেশ এগিয়ে যাবেই, যাবে।’
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বলতেন, যে জাতি আত্মমর্যাদায় নির্ভরশীল হয়েছে, ত্যাগ স্বীকার করেছে, সে জাতির ত্যাগ কখনো বৃথা যায় না। মহৎ অর্জনের জন্য মহৎ ত্যাগের প্রয়োজন। আওয়ামী লীগ সেই ত্যাগ করেছে। ত্যাগ করেছে বলেই বাংলাদেশের সকল অর্জন আওয়ামী লীগের হাত দিয়েই এসেছে।’
তিনি বলেন, পঁচাত্তরের পর এই দলটিকে শেষ করার বহু চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরাই এই দলটিকে সুসংগঠিত রেখেছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ থেকে ৯৬ পর্যন্ত সাধারণ মানুষ কি পেয়েছে? তাদের কোনো অধিকার ছিল না। কিন্তু আওয়ামী লীগ আজীবন মানুষের অধিকারের জন্য সংগ্রাম করেছে।
তিনি বলেন, ’৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হলে জনগণ দীর্ঘ ২১ বছর পর উপলব্ধি করতে পেরেছিল আওয়ামী লীগ জনগণের সেবক। ২০০৮ সালে সরকার গঠন করার সময় বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা থাকা সত্ত্বেও এ দেশ এগিয়ে গেছে। এভাবেই এগিয়ে যাবে।
তিনি আরো বলেন, ১৯৯৬-২০০১ আওয়ামী লীগ সরকার আমল ছিল স্বর্ণযুগ। এরপর ২০০১ সালে ক্ষমতা ছাড়ার পর আবার আঘাত আসে। যারা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ঠাট্টা করেছে তারাই এখন বলছে বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকা। জন্মলগ্ন থেকে আওয়ামী লীগ উজানে নৌকা ঠেলে ঠেলেই এগিয়ে যাচ্ছে। আদর্শে গড়া দলকে কেউ নিশ্চিহ্ন করতে পারে না, পারবে না।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের পুরো ইতিহাসই বাঙালি জাতির ত্যাগ-তিতীক্ষার ইতিহাস। প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যদিয়ে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত। স্বাধীনতা আওয়ামী লীগের হাত দিয়েই হয়েছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘ত্যাগের কারণেই দেশের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছে আওয়ামী লীগ। শুরু থেকেই দেশের প্রতিটি মানুষ আওয়ামী লীগের পাশে ছিল, আছে, থাকবে।’
তিনি বলেন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা শুরু হওয়ার ৬ মাস আগে তাকে (বঙ্গবন্ধু) কোথায় রেখেছিল তা আমরা পরিবারের কেউ জানতাম না। বঙ্গবন্ধুর আগে থেকেই পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশকে স্বাধীন করবেন। স্বাধীন বাংলাদেশ বিশ্বে আত্মমর্যাদা লাভ করবে, এটাই ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন।
শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার পর মাত্র দেড় বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধু যে সংবিধান দিয়েছেন এতো সুন্দর বিশ্বের কোথাও নেই। দেশ গঠন এবং জাতিকে এগিয়ে নেওয়ার সব কাজ বঙ্গবন্ধু করেছেন। সমুদ্রসীমা, স্থল সীমানা সব আইন বঙ্গবন্ধু করে গিয়েছিলেন। সেগুলো শুধু বাস্তবায়ন বাদ ছিল।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আওয়ামী লীগ নিধন শুরু হয়। যেমনটি ১৯৭১ সালে শুরু করেছিল ইয়াহিয়া খান। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে ’৭৫ পরবর্তী যারা ক্ষমতায় আসে তারাও সেভাবেই আওয়ামী লীগের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে।
ক্রিকেটে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয় বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্রিকেট খেলায় দেশ এভাবে জয়ী হচ্ছে, তা অনুসরণীয়। বিশ্বকাপ জয়ী দলকে হারাতে পারে রয়েল বেঙ্গল টাইগাররা। রয়েল বেঙ্গল টাইগাররা আবারো প্রমাণ করেছে বাঙালি একটু সুযোগ পেলে সব করতে পারে।
আওয়ামী লীগের ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংসদের অনির্ধারিত আলোচনায় আরো অংশ নেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু প্রমুখ।

Share.

About Author

Leave A Reply