নাশকতা মামলার তদন্ত দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়া হয়েছে : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

0

PM
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকা: বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের সময় বিভিন্ন নাশকতায় করা মামলার তদন্তকাজ দ্রুত শেষ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, এসব মামলা সন্ত্রাস দমন আইনের অধীনে বিচারের জন্য জেলা জজদের এখতিয়ার দেয়া হয়েছে।
বুধবার জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সামশুল হক চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সকাল সাড়ে ১০টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনকে ‘কারণবিহীন’ অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা আন্দোলন করে শুধু দেশের সম্পদের ক্ষতি করেনি, দেশের ভাবমূর্তিও নষ্ট করেছে। তাদের কর্মকাণ্ড বৈদেশিক বিনিয়োগকে অনেকাংশে নিরুৎসাহিত করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াতের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও অরাজকতার বিরুদ্ধে সারা দেশে অসংখ্য মামলা হয়েছে। এসব মামলা সন্ত্রাস দমন আইনের অধীনে বিচারের জন্য জেলা জজদের এখতিয়ার দেয়া হয়েছে। মামলাগুলোর তদন্তকাজ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
শরীফ আহমদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মানবপাচার একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। মানব পাচারকারীরা আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে জড়িত। বাংলাদেশ মানব পাচারের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় না দেয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাচার হওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং মানব পাচার রোধে এ অঞ্চলের দেশগুলো যাতে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, তার জন্য সরকার কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।
সরকারি দলের মাহফুজুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ৫ জানুয়ারির পরে হরতাল-অবরোধের নামে সহিংসতা ও নাশকতা, পেট্রলবোমায় মানুষ পুড়িয়ে মারাসহ নানা ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড যারা ঘটিয়েছে এবং এসব কর্মকাণ্ডের হুকুমদাতাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট অবরোধ ও হরতাল কর্মসূচির নামে সহিংসতা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সামাজিক শান্তি ও শৃঙ্খলা নষ্ট করার অপচেষ্টা চালায়। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকরী বাহিনীর দৃঢ়তায় জনজীবনে নিরাপত্তা ও স্বস্তি বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। দেশের মানুষ অনৈতিক অবরোধ ও হরতাল মানেনি।
ফরহাদ হোসেনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বাংলাদেশ সফর ফলপ্রসূ হয়েছে। আমরা পরস্পরের উদ্বেগ ও অগ্রাধিকারের জায়গাগুলো বুঝেছি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনের বিষয়টিকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছেন। তিনি তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি শিগগির করার আশ্বাস দিয়েছেন।”

Share.

About Author

Leave A Reply