বাগেরহাটে আ‘লীগ নেতার অত্যাচার থেকে বাঁচতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

0

বাগেরহাট প্রতিনিধি ॥ বাগেরহাটে আওয়ামী লীগ নেতা আলোচিত ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবুলের অত্যাচার থেকে বাঁচতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগীরা। মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাট প্রেসকাবে এলকাবাসীর পক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রামপাল উপজেলারা বড়কাটালী গ্রামের মোঃ গোলাম রসুল শেখের ছেলে ও নির্যাতিত স্কুল শিক্ষিকা খাদিজা ইয়াসমিনের স্বামী মোঃ রবিউল আলম খোকন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২০১৪ সালের ১৪ জুন সকালে বড়কাটালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আমার ¯ত্রী খাদিজা ইয়াসমীন নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার জন্য বড়কাটালী বাজারে যান। এসময় পেড়ীখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ( বাবুল) ওই স্থানে গিয়ে বে-আইনী ভাবে একজনকে ভোটার করতে নির্দেশ দেন। আমার স্ত্রী খাদিজা এটি তার কাজ নয় বলে জানালে চেয়ারম্যান বাবুল অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে বেধড়ক মারপিট শুরু করে। এসময় বাজারে আমার চায়ের দোকানের ভিতর ঘটতে থাকা এই পরিস্থিতি দেখে আমি কিংকর্তব্যবিমুড় হয়ে যাই। এক পর্যয়ে আমার স্ত্রীর আত্মচিৎকারে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে চেয়ারম্যান আমাকেও এলাপাতাড়ি মারপিট করেন। এতে আমরা উভই গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা আমাদের হাসপাতালে প্রেরণ করে। ঘটনার সময় উপস্থিত বড়কাটালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হাওলাদার জাহাংগীর হোসেনসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। একারনে পরবর্তিতে চেয়াম্যান বাবুলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় তারা প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবে স্বাক্ষী হন। আর এই স্বাক্ষী হওয়ার ফলে এসব ব্যাক্তিদের উপর বাবুল বাহিনী চালাতে থাকে হামলা, মিথ্যা মামলা, বিভিন্ন দপ্তরে ভূয়া বানোয়াট অভিযোগ। এরফলে আমিসহ এইসব স্বাক্ষীদের অনেকে জীবন বাঁচাতে পরিবার পরিজন নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, এই মামলার প্রধান স্বাক্ষী দুই বারের নির্বাচিত সাবেক ইউপি সদস্য হাওলাদার জাহাংগীর হোসেনসহ অনেক লোক এলাকা ছেড়ে পালিয়ে জীবন বাঁচাচ্ছেন। বাবুলের বিরুদ্ধে কথা বললে তাদের উপর স্টীম রুলার চালানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবুল শুধু ওই শিক্ষিকাকে নির্যাতন করে ক্ষ্যান্ত হননি তিনি সরকারী ডাক্তার, পুলিশের ওসি, মহিলা মেম্বর, সাংবাদিক, ড্রেজার মাষ্টার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ অসংখ্য ব্যাক্তিকে অকর্থ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারপিট মারধর করে আহত করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য ২০১৩ সালের ১ আগষ্ট সাবেক রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিল্লুর রহমানকে জীবন নাসের হুমকি দেয়। এ ব্যাপারে ওই কর্মকর্তা রামপাল থানায় সাধারন ডায়েরী করেন।
২০০৭ সালের ২১শে জুন রামপাল থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসলাম খানকে থানায় ঢুকে প্রকাশ্যে জীবন নাসের হুমকি দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এ ব্যাপারে ওই সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে আটকাদেশ জারী করা হয়।
২০১৫ সালের ১৭ নভেম্বর মংলা-ঘষিয়াকালী আন্তর্জাতিক নৌরুটের খনন কাজের ড্রেজার মাষ্টার শাহজাহানকে প্রকাশ্যে দিবালোকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। তাৎক্ষনিক রামপাল থানায় পুলিশ তাকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। এঘটনায় তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামালা বিচারাধীন রয়েছে।
২০০৬ সালে ৬ নভেম্বর উপজেলার পেড়িখালী ইউনিয়ন পরিষদের ৭, ৮ ও ৯ নং সংরতি আসনের সাবেক মহিলা মেম্বার সাফিয়া ওরপে মাফিয়ার বাড়িতে ঢুকে নিজেই তাকে মারধর করে বেবস্ত্র করে। পরে তিনি মারা যান। এ ব্যাপারে রামপাল থানায় দায়ের করা মামলায় তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।
ডাকরা বদ্ধ ভূমি মহানাম যজ্ঞের হিন্দুদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান থেকে ২০১৫ সালে বাবুল চেয়ারম্যানের বন্দুকধারী সন্ত্রাসী ক্যাডার বাহিনী কর্তৃক এক হিন্দু বিধবাকে জোরপূর্বক তুলে নৌকায় নিয়ে রাতভর তারা পালাক্রমে উপর্যপুরী গণধর্ষণ করে। এ ব্যাপারে সুচতুর ওই চেয়ারম্যান ধরা ছোঁয়ার বাহিরে থাকলেও তার অস্ত্রধারী ০৪ জনের নামে রামপাল থানায় ধর্ষণ মামলা হয়। ওই মামলায় ০২ জন পলাতক থাকলেও আজও দুইজন জেল হাজতে আটক রহিয়াছে।
মংলা উপজেলার সোনাইলতলা গ্রামে তার ক্যাডার বাহিনী হামলা চালিয়ে সম্প্রতিক এক চিংড়ি ঘের মালিককে কোদাল দিয়ে পিটিয়ে ০৩ টি দাঁত ভেঙ্গে দিয়ে চিংড়ি ঘের দখল করে নেয়।
চেয়ারম্যান বাবুল সরকারি খালে বাঁধ নির্মাণ করে চিংড়ি ঘেরের হারির টাকা পরিশোধ না করাসহ বিভিন্ন অপকর্মের বিরোধিতা করা ও তার সন্ত্রাসী কার্যক্রম স্থানীয় সাংবাদিকরা পত্র-পত্রিকায় লেখার কারণে রামপাল প্রেস কাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি জাতীয় দৈনিক ভোরের ডাক পত্রিকার রামপাল প্রতিনিধি এস.এম আঃ হাকিমের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে বাবুল চেয়ারম্যানের চিংড়ি ঘেরের কর্মচারী ফিরোজ শেখকে বাদী করে মিথ্যা, বানোয়াট মামলা ও বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক অভিযোগ দিয়ে তাকে এলাকা ছাড়া করেছে। সে স্ব-পরিবারে ঢাকায় বসবাস করছেন।
বাবুল চেয়ারম্যান বড় কাটালী গ্রামের পূর্ব বিলে সাড়ে চার’শ বিঘা চিংড়ি ঘেরের মধ্যে সরকারি রেকর্ডীয় কয়েকটি খালে অবৈধ ভাবে বাঁধ নির্মাণ করে চিংড়ি চাষ করায় আমার প্রতিবেশী ভাই কামাল হাওলাদার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করার কারণে সেসহ একই এলাকার ইকবাল হাওলাদার, রুহুল আমিন হাওলাদার, কালাম হাওলাদার, আবুল হোসেন হাওলাদার, আল-আমিন হাওলাদার এদের নামে ঢাকা নারায়নগঞ্জের কোর্টে অজ্ঞাত নামা ভুয়া লোক সাজিয়ে টাকার দাবীতে বানোয়াট, মিথ্যা মামলা দায়ের করে।
এলাকায় সরল-নিরীহ, স্বল্প শিতি কিছু লোককে কারো বিধবা ভাতার কার্ড দেওয়ার কথা বলে, কারো সরকারি কেরর্ডীয় খাল কেটে দেওয়ার কথা বলে, কারো এলাকায় বিদ্যুৎ আনার কথা বলে সাদা কাগজে স্বার নিয়ে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের নামে উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন অভিযোগ দায়ের করে। যা পুলিশি তদন্তে মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে।
এধরনের অর্ধশতাধিক ন্যক্কারজনক কাজ করেও অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে সে বারবার পার পেয়ে যায়। বাবুল চেয়ারম্যানের নির্যাতন থেকে বাঁচতে ভূক্তভোগীরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী কামাল হোসেন হাওলাদার, মোঃ আল আমিন, রুহুল আমিন হাওলাদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Share.

About Author

Leave A Reply