মেহেরপুরে মোবাইল ফোনে চাঁদাবাজির অভিযোগে স্কুল শিক্ষিকা গ্রেফতার

0

মেহের আমজাদ,মেহেরপুর ঃ শিশু পুত্রকে অপহরণের হুমকি দিয়ে মোবাইল ফোনে চাঁদাবাজির অভিযোগে নওরিন ফেরদৌস (২২) নামের এক স্কুল শিক্ষিকাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার বিকেলে গাংনী থানা পুলিশের একটি টীম তাকে তেরাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে গ্রেফতার করে। সে ওই বিদ্যালয়ের সদ্য নিয়োগ প্রাপ্ত সহকারী শিক্ষিকা এবং চৌগাছা গ্রামের বিশ্বাসপাড়া’র আতাহার আলীর মেয়ে। মঙ্গলবার দুপুর বারটার দিকে অভিযোগকারী আফতাব উদ্দীন থানায় মামলা করার পর বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাংনী থানার ওসি আকরাম হোসেন।
অভিযোগকারী আফতাব উদ্দীন জানান, প্রথমে জ্বীনের বাদশা হিসেবে পরিচয় দিয়ে মোবাইল ফোনে স্বর্ণালংকার দাবী করে গ্রেফতার হওয়া নওরীনের এক বয়ফ্রেন্ড। অন্যথায় তার শিশু পুত্রকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। সন্তানের প্রাণ বাঁচাতে স্বর্ণালংকার দিতে রাজি হলে দুই ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার গ্রামের পাশ্ববর্তী মাঠের একটি নির্দিষ্ট স্থানে রেখে আসতে বলে। তার কথা মত তিনি সেখানে স্বর্ণালংকার রেখে আসেন। এ ঘটনার কিছু দিন পর আবারও ওই একই নম্বর থেকে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করা হয়। দাবী পূরণে ব্যর্থ হলে তার শিশু পুত্রকে অপহরণ করে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়া হয়। প্রাণ ভয়ে তিনি বিকাশ নম্বর ০১৭৮০৭৩৩২৮৮ তে পাঁচ কিস্তিতে মোট ৮৯ হাজার টাকা বিকাশ করেন। বারবার চাঁদা নিতে থাকায় তিনি গাংনী থানায় একটি জিডি করেন দুই সপ্তাহ আগে। বিকাশ নম্বরটি হচ্ছে আটককৃত শিক্ষিকা নওরিন ফেরদৌসের। ওই নম্বরের সূত্র ধরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
গাংনী থানার ওসি তদন্ত মোক্তার হোসেন জানান, আফতাব উদ্দীনের জিডিতে উল্লেখিত বিকাশ নম্বর ট্র্যাকিং করে প্রথমে নওরিনের কথিত প্রেমিক গাংনী উপজেলার পূর্ব মালসাদহ গ্রামের একরামুল হক কে আটক করেন। তাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার এক পর্যায়ে বিকাশ নম্বরটি শিক্ষিকা নওরিনের বলে জানায়। এরপর সোমবার বিকেলে নওরিনকে তার স্কুল প্রাঙ্গন থেকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি আরও জানান, সম্ভবত নওরিন একটি চাঁদাবজ চক্রের সদস্য। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তবে অভিযুক্ত নওরিন জানিয়েছে, কুষ্টিয়ায় পড়ালেখা করার সময় তার এক বয় ফ্রেন্ড তার কিছু নগ্ন ছবি তোলে। সেগুলো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাক মেইল করে চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে তার বিকাশ নম্বরটি ব্যবহার করে আসছে সে।

Share.

About Author

Leave A Reply