বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে শহীদ বেদীতে হামলা :রিজভী

0

নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঢাকা: বিএনপির যুগ্ন মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিএনপির ভাবমূর্তি ুণ্ন করতে সরকারি এজেন্টরা শহীদ বেদীতে হামলা চালিয়েছে।
রবিবার বিকেলে নয়াপল্টন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে শহীদ বেদীতে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শহীদ বেদীতে জুতা পায়ে ওঠার অভিযোগকে প্রত্যাখ্যান করে রিজভী বলেন, শহীদ বেদীতে বিএনপির নেতাকর্মীরা কেউ জুতা পায়ে ওঠেনি বরং সবাই খালি পায়ে উঠেছিল। কিন্তু ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতাকর্মীরাই মতার দাপটে জুতা নিয়ে শহীদ বেদীতে উঠেছে।
তিনি বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও অসত্য। কারণ, শহীদ মিনার পরিচালনা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সরকারের অঙ্গসংগঠনগুলোও সেখানে তৎপর। সুতরাং তারাই এটি করতে পারে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপ সরকারের প্রেসক্রাইব বক্তব্যের বাইরে কোনো কথা বলতে পারবেন না, বলেনও না। কারণ, উনারা সরকারের চাকুরি করেন। অথচ এটি নিশ্চিত যে, বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। যুবলীগ, শ্রমিক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের যারা নেতা-কর্মী তাদের মধ্য থেকেই সেখানে দায়িত্ব পালন করছে।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আরো বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, একুশ হচ্ছে আমাদের প্রথম জাতিসত্ত্বার পরিচয়ের দিন। আর আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের চূড়ান্ত যে পরিণতি তার প্রথম সোপান হচ্ছে আমাদের ভাষা আন্দোলন।
একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে তাহলে কারা জুতা পায়ে প্রবেশ করেছিলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি পরিচালনা করছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সরকারের অঙ্গ সংগঠনগুলোও সেখানে তৎপর। সুতরাং এটি তারাই করতে পারে।
বিএনপির কয়েকজন নেতা কর্মীর নাম উল্লেখ রুহুল কবির রিজভী বলেন,শহীদ মিনারের যে মর্যাদা অুণ্ন রাখার জন্যে আমরা সেখানে অবস্থান নিয়েছিলাম। আমরা সেখানে কাউকে জুতা পায়ে আসতে দেখিনি। সরকারের কিছু মিডিয়া বানোয়াট একটি ফুটেজ দেখিয়েছে। বিশেষ দিবস উপলে তারা বিএনপি’র ভাবমূর্তীকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য সরকার যেমন নান কথা নান বিষয়ে বলছে ঠিক তার সমান্তরালে এটা বলার জন্য একটা কালিমা লিপ্ত করার প্রচেষ্টার একটা অংশ মাত্র।
রিজভী বলেন, হিংসাকে আওয়ামী লীগ পরম ধর্ম বলে মনে করে। এরা হত্যা আর রক্তের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র ও মানুষের স্বাধীনতাকে সমাধিস্থ করে ফেলেছে। শাসকদলের অনুগ্রহের ছায়াতলেই এদেশের মানুষকে বাঁচতে হয়। বর্তমান শাসনকালকে মনে হয়-চারিদিকে শকুন আর হায়েনার জয়জয়কার।
রিজভী বলেন, দেশকে স্বৈরতান্ত্রিক একনায়কতান্ত্রিকবাদী শাসনের শক্ত শিকলে বেঁধে যারা উন্নয়নের কথা বলছেন তারা মূলত: নিজেদের লুটপাটে অর্জিত অবৈধ টাকার উন্নয়ন ছাড়া দেশ ও দেশের মানুষের জন্য আর কিছুই করতে পারেনি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, শনিবার একুশের প্রথম প্রহরে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়স্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ৫২ র ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উপস্থিত হয়েছিলেন।
তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিএনপি চেয়ারপারসনের শ্রদ্ধা নিবেদনের বিষয়ে তার সার্বিক নিরাপত্তা বিধান করতে পুলিশ ও র‌্যাব প্রধানদের কাছে দলের প থেকে চিঠি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপারসন তার গুলশানস্থ বাসভবন থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আসা পর্যন্ত পুলিশ বারবার বাধা প্রদান করে।
রিজভী জানান, গুলশানে তার বাসভবনের সামনেই পুলিশ ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। সব বাধা অতিক্রম করে বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়ীবহর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কাছাকাছি আসলে পুলিশ দুই জায়গায় ব্যারিকেড সৃষ্টি করে অপেমান বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত আক্রমন চালায়।
তিনি জানান, এই ঘটনায় প্রায় ৫০ জনের অধিক বিএনপি নেতাকর্মী মারাত্মকভাবে আহত হন। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান বিএনপির এই নেতা।

Share.

About Author

Leave A Reply