খাগড়াছড়িতে পিবিসিপি’র ডাকা সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ বিক্ষিপ্ত ঘটনার মধ্যে পালিত

0

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ঃ খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদ(পিবিসিপি)র ডাকা সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধটি বিক্ষিপ্ত ঘটনার মধ্যে শান্তিপূর্ন ভাবে পালিত হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত খাগড়াছড়ি-ঢাকা ও ফেনী-খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রামে সড়কে এ অবরোধ চলাকালে দুরপালা কোন যানবাহন ছেড়ে যায়নি। সড়ক অবরোধটি সকাল ৬টা থেকে স›দ্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পালন করা হয়। তবে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহি নৈশ কোচ কড়া পুলিশি পাহাড়ায় গন্তব্য স্থলে পৌছে দেওয়া হয়েছে। জেলা শহরে ভারী-হাল্কা যান চলাচল ও বাজারে দোকান-পাট স্বাভাবিকভাবে রয়েছে। দুপুরে দিকে অবরোধকারী পিকেটারদের বিক্ষিপ্ত ঘটনায় চেংগী স্কোয়ার-৩টি, শাপলা চত্বর-১১টি, কোর্টবিল্ডিং এলাকায়-৫টি, মহাজন পাড়া-৩টি, খাগড়াপুর নেন্সী বাজারে-৫টি, হালপাতাল সড়কে-২টিসহ মোট ২৯টি হাল্কা ও ভারী যানবাহন ভাংচুর করেছে অবরোধ কারীরা। অবরোধকারীদের বাধা প্রদান, ইট-পাটকেল ও লাঠি-সোটা হামলায় আহতরা হলেন নারানখাইয়ার স্বাস্থ্যকর্মী গায়ত্রী খীসা(৩৪), বাঘাইছড়ির অনুপম চাকমা(৩৫), টমট ড্রাইভার পমতি ত্রিপুরা(৩০) শালবনে মো: হোসেন আলি(৩৭), নয়পুরে জয়নাল আবেদীন(৪০), কলাবাগানে মিনু বড়–য়া(২২), ফটিকছড়ি ভূজপুরে ফিকাজল আলম(৫৫), খাগড়াপুরে নয়ন তারা ত্রিপুরা(১৪), লংরাও ¤্রাে(৩২) ।
আলোক নবগ্রহ ধাতু চৈত্যে শৈথি(ছাতা) স্থাপন ও উৎসর্গ অনুষ্ঠানে য়ংড বৌদ্ধ বিহার হতে শুরু হয়ে চেংগী স্কোয়ারে উদ্দেশ্যে যাওয়া র‌্যালীটি কোর্ট বিল্ডিং এলাকায় অবরোধকারীদের বাধার মুখোমখি অবস্থানে গেলে ধাওয়া-পাল্টা-দাওয়া হলে পুলিশ লাটি চার্জ করে পিকেটারকে ছত্রবংগ করে দেয়। ষ্পর্শকাতর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, আর্মড-ডিবি-ডিএসবি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
খাগড়াছড়ি জেলার রিছাং ঝর্না এলাকায় মোটর চালক আজিজুল হাকিম শান্তকে জবাই করে হত্যার প্রতিবাদে এবং হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবীতে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ খাগড়াছড়ি জেলা শাখা কর্তৃক ঘোষিত আজকের সকাল-সন্ধা অবরোধ শান্তিপূর্ণ ভাবে পালিত হয়েছে। অবরোধের সমর্থনে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের নেতা কর্মীরা সকাল থেকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্পটে অবস্থান নিয়ে পিকেটিং করেছে। এই সময় নেতা কর্মীরা রাস্তায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছে। খাগড়াছড়ির আলুটিলা রিছাং ঝর্না সল্ট প্লান্টেশন এলাকা থেকে মটর সাইকেল চালক আজিজুল হাকিম শান্ত’র গলাকাটা লাশ উদ্ধারের প্রেেিত রোববার দুপুরে শহরের চেঙ্গী স্কোয়ারে পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদ খাগড়াছড়ি জেলা শাখার উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সভার মাধ্যমে এ অবরোধ ঘোষনা করেন।
সদর সার্কেলে সি: সহকারী পুলিশ সুপার মো: রইচ উদ্দিন জানান, সাধারন মানুষের জান-মান নিরাপত্তা স্বার্থে সব ধরনে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তিন স্থর বিষ্টিত নিরপত্তাবাহিনী তৎপরতা জোরদার করা ছিল। ঢাকা থেকে আসা যাত্রীবাহি নৈশ কোচগুলো কড়া নিরাপত্তায় গন্তব্য স্থলে পৌছে দেওয়া হয়েছে ।
এদিকে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি মোঃ সাহাজল ইসলাম(সজল) এক বিবৃতিতে বলেন পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতি সন্ত্রাসীরা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ডের সংঙ্গে জড়িত রয়েছে। তারা দেশের জাতীয় দিন গুলোকে(১৬ই ডিসেম্বর, ২১শে ফের্রুয়ারি, ২৬শে মার্চ) টার্গেট করে পার্বত্য চট্টগ্রামে অরাজকতা সৃষ্টি করছে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ২১শে ফের্রুয়ারি আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবসে মাটিরাঙ্গা উপজেলার দরিদ্র মোটরসাইকেল চালক আজিজুল হাকিম শান্তকে জবাই করে হত্যা করে। পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ এই হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাছে এবং হত্যাকান্ডে জড়িত উপজাতি সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার পূর্বক বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং হত্যাকান্ডের শিকার দরিদ্র আজিজুল হাকিম এর পরিবারকে ক্ষতিপূরনের ব্যবস্থা করতে হবে।
বিবৃতীতে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনা ক্যাম্প প্রত্যহার করায় হত্যাকান্ডের মূল কারন হিসেবে চিহ্নিত করেন। তাই সরকারের কাছে আমাদের দাবী পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার করা যাবেনা। প্রত্যাহারকৃত সেনা ক্যাম্প সমূহ স্ব-স্ব স্থানে পূনরায় স্থাপন করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে র‌্যাবের ইউনিট গঠন করতে হবে। পাশাপাশি উপজাতি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযানের মাধ্যমে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। প্রশাসন যদি আজিজুল হাকিমের হত্যাকারিদের গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয় তাহলে পরবর্তিতে আমরা আরো কঠোর কর্মসূচী দিতে বাধ্য হব।
বিবৃতিতে জেলা সভাপতি অভিযোগ করেন, অবরোধের সমর্থনে শন্তিপূর্ণ মিছিল বেড় হলে বিনা কারনে শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ অর্তকিত হামলা ও লাঠি চার্জ করে। আমাদের বেশ কয়েক জন নেতাকর্মীকে মারাক্তক ভাবে আহত করে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি। এ ঘটনার সাথে জড়িত যে সকল উপজাতি পুলিশ রয়েছে অবিলম্বে তাদেরকে সমতলে হস্তান্তর পূর্বক দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় আমরা হরতাল অবরোধ এর মত কঠিন কর্মসূচী দিতে বাধ্য হবো। আজকের অবরোধ শান্তিপূর্ণ ভাবে সফল করার জন্যে সাংবাদিকবৃন্দ, পরিবহন সেক্টর, যাত্রীবৃন্দ, প্রশাসন এবং খাগড়াছড়ি জেলার সর্বস্তরের জনসাধারনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ খাগড়াছড়ি জেলা শাখা সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মো: আবদুল মজিদ ও পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. সারওয়ার জানান, অপহৃত মটর সাইকেল চালক আজিজুল হাকিমের হত্যাকারীদের বিচার, পানছড়িতে অপহৃত দুই বাঙালী নির্মাণ শ্রমিকে অবিলম্বে উদ্ধার করার দাবীতে সোমবার জেলাব্যাপী সকাল-সন্ধ্য অবরোধের শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে।
পার্বত্য নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো: আলকাছ আল মামুন ভুইয়া জানান, গত কয়েক দিনে পাহাড়ের রাঙ্গামাটিতে ৩জন, খাগড়াছড়িতে পানছড়ির মরা টিলায় ২জন, মাটিরাঙ্গায় ১জন এবং বান্দরবানে ১জন বাঙ্গালী অপহৃত হয়েছিল, মাটিরাঙা উপজেলার অপহৃত মটর সাইকেল চালক আজিজুল হাকিম শান্ত’র লাশ করা উদ্ধার হয়। বাকীদের কপালে কি ঘটেছে তা এখনোও জানা যায়নি। এ হত্যাকান্ডের খুনীকে গ্রেপ্তার,দোষীদের বিচার, মৃত ব্যক্তির পরিবারকে তিপুরণ দেওয়া ও অপহৃতদের উদ্ধারের দাবিতে সোমবার খাগড়াছড়ি জেলায় সড়ক ও নৌপথ সকাল-সন্ধা অবরোধ কর্মসূচী পালন করা হচ্ছে ।
অপরদিকে ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ) খাগড়াছড়ি জেলা ইউনিটের প্রধান সংগঠক প্রদীপন খীসা রোববার এক বিবৃতিতে জেলার মাটিরাঙ্গায় নিরীহ পাহাড়িদের উপর সেটলার হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘শনিবার সকালে জেলার অন্যতম পর্যটন স্পট আলুটিলা রিছাং ঝর্ণা এলাকার জঙ্গল থেকে আজিজুল হাকিম নামে এক মোটর সাইকেল চালকের লাশ উদ্ধার করার পর দুপুরের দিকে কিছু সেটলার মাটিরাঙ্গা বাজারে পাহাড়িদের উপর হামলা চালিয়ে উছিমং মারমা(১৮) নামে এক কলেজ ছাত্রসহ কমপে ১০-১২জনকে আহত করেছে। এর মধ্যে গুরুতর আহত উছিমং মারমা খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র। তিনি লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার মংলা পাড়ার অংগ্যজাই মারমার ছেলে। সকালে তিনি বাড়ি থেকে খাগড়াছড়ি আসার পথে মাটিরাঙ্গা বাজারে পৌঁছলে সেটলাররা তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করে। তার পুরো শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে বর্তমানে মাটিরাঙ্গা উপজেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া একই গ্রামের সাজাইউ মারমার ছেলে মংসানো মারমা নামে অপর একজনকে আহত অবস্থায় পুলিশ প্রথমে মাটিরাংগা থানায় নিয়ে যায়। পরে বিকালে তাকেও মাটিরাংগা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই গাড়িতে করে তিনিও খাগড়াছড়ি আসছিলেন।
প্রদীপন খীসা অভিযোগ করে বলেন, হামলার সময় আগ্রাসী সেটলাররা মাটিরাঙ্গা বাজারে দোকানপাট বন্ধ করে দেয়, খাগড়াছড়ি-ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়ক অবরোধ করে মিছিল সমাবেশ করে এবং গাড়ি ভাঙচুর ও পাহাড়িদের মারধর করে। এ সময় সেনাবাহিনী ও পুলিশ উপস্থিত থাকলেও সেটলারদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
বিবৃতিতে ইউপিডিএফ নেতা আরো বলেন, নিহত আজিজুল হাকিমের মৃত্যু রহস্য অনুসন্ধান না করে অন্যায়ভাবে পাহাড়িদের দায়ি করে তাদের উপর সাম্প্রদায়িক হামলা চালানো কেবল নিন্দনীয়, গর্হিত ও অপরাধমূলক কাজ নয়, তা সভ্য সমাজের সকল মূল্যবোধের বিরোধী।
তিনি মোটর সাইকেল চালক আজিজুল হকের মৃত্যুর ঘটনার নিরপেক্ষ ও যথাযথ তদন্ত ও খুন হয়ে থাকলে খুনীদের আইনানুগ শাস্তি এবং একই সাথে মাটিরাঙ্গায় পাহাড়িদের উপর হামলার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার থেকে মাটিরাঙ্গায় ফেরার পথে চারদিন পর আলুটিলার রিচাং ঝর্না এলাকা সল্ট প্লান্টেশন থেকে মাটিরাঙ্গার মোটর সাইকেল চালকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খাগড়াছড়ির আলুটিলা পাহাড়ে তার লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় পাহাড়ী-বাংগালীদের মাঝে মাটিরাঙ্গায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজমান হয়। যানবাহন-দোকানপাঠ ব্যাপক ভাংচুর করার হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সকল দোকান পাঠসহ চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি-ফেনী-ঢাকার সকল যানবাহন চলাচল। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা পর আবার যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। লাশটি মাটিরাংগা পুলিশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তে জন্য খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ময়না তদন্ত করা হয়েছে। লাশ দেখতে সংগে নিয়ে যাওয়া পুলিশ ঘটনার সন্দেহে সাপমারা এলাকার বাসিন্দা খগেন্দ্র ওরফে বিকাশ ত্রিপুরা(২০)কে আটক করেছে মাটিরাংগা থানা পুলিশ।

খাগড়াছড়ির পানছড়ি থেকে অপহৃত দুই বাঙালী ব্যবসায়ীকে উদ্ধার
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ঃ খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার চাঁদা না দেয়ায় অজ্ঞাত সন্ত্রাসী কর্তৃক জেলার সীমান্তবর্তী পানছড়ি উপজেলার থেকে অপহৃত দুই বাঙালী ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। সোমবার দুপুরে পানছড়ির তালতলার কাছাকাছি স্থান থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের খাগড়াছড়ি সদরে নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি থেকে আল-ফালাহ ট্রেডিং কর্পোরেশনের ঠিকাদার মো: সাইফুদ্দিন শাহীন গাজী(৩৫) ও ম্যানেজার রুহুল আমিনকে(৫০) অপহরণ করে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা। তারা দু’জনেই পিরোজপুর জেলার বাসিন্দা।
আল-ফালাহ ট্রেডিং করপোরেশন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক নাসির মল্লিক জানান, খাগড়াছড়ির পানছড়ি-গৌরাঙ্গপাড়া সড়কে এলজিইডির ১৪কি.মি. সড়কে প্রায় ১কোটি ৭০লাখ টাকার কাজ চলছিল। কাজটি তদারকি করছিলেন ঠিকাদার সাইফুউদ্দিন শাহীন গাজী ও ম্যানেজার রহুল আমীন। কাজ চলাকালে একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠনের নামে চাঁদা দাবি করা হয়।
এদিকে জেলার সীমান্তবর্তী পানছড়ি উপজেলার তালতলা এলাকা থেকে আল-ফালাহ্ ট্রেডিং কর্পোরেশনের ঠিকাদারসহ দু’জন অপহরণের ঘটনায় সুকুমার দেব(৩৫) নামে একজনকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করেছে পানছড়ি থানা পুলিশ। শনিবার রাতে উপজেলা পরিষদ এলাকার নিজ বাড়ির সামনে থেকে তাকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করা হলে বিজ্ঞ আদালতে জামিন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণ করে।
খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মো. মজিদ আলী জানান, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সুকুমার দেবকে আটকের পর ৫৪ধারায় তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে অপহরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ মামলা দায়ের করেননি।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আল-ফালাহ্ ট্রেডিং কর্পোরেশনের সত্বাধিকারী নাছির মল্লিক আরো জানান, এলজিইডির অর্থায়নে পানছড়ি বাজার থেকে মরাটিলা পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ কাজের জন্য স্থানীয় অজ্ঞাতরা চাঁদা দাবি করে আসছিল। এরই জের ধরে গত ১৪ফেব্রুয়ারি রোববার সকালে ঠিকাদার সাইফুদ্দিন শাহিন গাজী(৩৫) ও ম্যানেজার মো. রুহুল আমিন(৫০) অপহরণ হয়। তিনি আরো জানান, অপহরণকারীদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা মুক্তিপণের বিনিময়ে ৩০লাখ টাকা দাবি করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আলোক নবগ্রহ ধাতুচৈত্যে শৈ^থী (ছাতা) স্থাপন ও উৎসর্গ অনুষ্ঠান উপলক্ষে খাগড়াছড়ির শহরে র‌্যালী
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ঃ খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার আলুটিলা সাংকস্সনগরে আলোক নবগ্রহ ধাতুচৈত্যে শৈ^থী(ছাতা) স্থাপন ও উৎসর্গ অনুষ্ঠান উপলক্ষে বাজারে য়ংড বৌদ্ধ বিহার হতে র‌্যালী শোভা যাত্রা শুরু হয়ে চেংগী স্কোয়ার ঘুরে কলেজ প্রাংগনে গিয়ে শেষ হয়। সোমবার সকালে সাধারন দায়ক-দায়িকা, প্রবজ্যা নারী-পুরুষ, শ্রমন-ভান্তে স্বতষ্পুর্ত ভাবে অংশ গ্রহন করে। র‌্যালী নেতৃত্বে ছিলেন আলোক নবগ্রহ ধাতুচৈত্যে প্রতিষ্ঠাতা, জনবল বৌদ্ধ বিহারে অধ্যক্ষ ড. শ্রীমৎ চন্দ্রমনি মহাস্থবির ও কাপ্তাই চিং¤্রং বৌদ্ধ বিহারে অধ্যক্ষ শ্রীমৎ পাংবোক্ষা মহাস্থবির। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলোক নবগ্রহ ধাতুচৈত্যে শৈ^থী(ছাতা) স্থাপন ও উৎসর্গ অনুষ্ঠান উদ্যাপন কমিটির সভাপতি ও পাজেপ প্রাক্তন চেয়ারম্যান চাইথোঅং মারমা, সদস্য সচিব উষা মারমাসহ চাকমা, মারমা, বড়–য়া, মগ, রাখাইন সম্প্রদায়ের বৌদ্ধ ধর্মীয় গন্যমান্য বক্তিরা। সাধু সাধু প্রতিধ্বনিতে ধর্মীয় গান পরিবেশন করা হয়। এসময় র‌্যালী শোভা যাত্রা বড় প্রতিকী জাদি, পিদিসা, সিভিউ নানা সাজে-সজ্জিত চার পাশে পরিকেশতিত দাড়িয়ে সাধারন লোকজন দান-দক্ষিনা প্রদান করেন। অপরাহৃ ১টায় ১০০জনের অধিক প্রব্যজ্জ্য(শ্যাংলন ওয়ং) গ্রহন করা হয়। এর আগে মংগলবার সকাল থেকে একটানা খাগড়াছড়ি সদরস্থ আলুটিলা আলোক নবগ্রহ ধাতুচৈত্যের অভিধম্ম পিটক হতে অবিরাম ৪৮ঘন্টা ব্যাপী পাঠদান করা হয়েছে।
মংগলবার সকাল ৯টা থেকে দিনব্যাপী কর্মসূচীর মধ্যে পঞ্চশীল গ্রহন, সংঘদান, অষ্টপরিখারা দান, ধর্মদেশনা, অতিথিদের বক্তব্য ও উৎসর্গকরন।
উল্লেখ্য মায়ানমার সরকারের ”সদ্ধম্ম জ্যোতিকা ধ্বজা” উপাধি প্রাপ্ত পুন্যতীর্থ চিংম্রং বিহারের বিহারাধ্যক্ষের অন্যতম শিষ্য, খাগড়াছড়ি সদরের আলুটিলায় আপনাদের কায়িক, বাচনিক, মানসিক ও আর্থিক দানের দ্বারা নির্মিত ’আলোক নবগ্রহ ধাতু চৈত্যে’র স্বপ্ন-দ্রষ্টা ও রুপকার ভদন্ত উ: চন্দ্রমনি মহাস্থবিরের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ধাতু চৈত্যের চুড়ায় শ্বৈথি(ছাতা) স্থাপনের মাধ্যমে চৈত্যের উৎসর্গ অনুষ্ঠান ২১,২২,২৩ফ্রেব্রয়ারী ২০১৬খ্রি: তারিখ(রবি, সোম, মংগলবার) অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মহতি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানকে পুন্যময় ও সাফল্য মন্ডিত করে তোলার জন্য মৈত্রীময় আহবান করেছেন ।

Share.

About Author

Leave A Reply