প্রেগনেন্সিতে এপেন্ডিসাইটিস

0

স্বাস্থ্য ডেস্ক : পেন্ডিকস আর পেটের মধ্যে পরিপাকতন্ত্রের একটি অংশ বৃহদন্ত্র। এ বৃহদন্ত্রের শুরুতে আঙুলের মতো যে অংশটি থাকে তাকে এপেন্ডিকস বলে। এই এপেন্ডিকসে ইনফেকশন হলে তাকে বলা হয় এপেন্ডিসাইটিস। এপেন্ডিসাইটিস সাধারণত তরুণ-তরুণীদের হয়। তাই মাতৃত্বকালীন এপেন্ডিসাইটিস হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক বেশি। বস্তুতপক্ষে তরুণ বয়সে এপেন্ডিসাইটিস হওয়ার যে সম্ভাবনা, একই বয়সের একজন প্রেগনেন্ট মহিলারও এপেন্ডিসাইটিস হওয়ার সম্ভাবনা ততটুকু। এটি মাতৃত্বকালীন সবচেয়ে সাধারণ সার্জিক্যাল সমস্যা। যদিও মাতৃত্বকালীন এপেন্ডিসাইটিস একটি সাধারণ সমস্যা, তার পরও এই সময়ে এ রোগ নির্ণয় করা একটু কঠিন। কারণ অন্য সময়ে এপেন্ডিসাইটিসের লক্ষণগুলো যেভাবে প্রকাশ পায়, প্রেগনেন্সির কারণে তা ভিন্নভাবে প্রকাশ পায়।
সাধারণত এপেন্ডিসাইটিসে তলপেটের ডান দিকে ব্যথা হয়, কিন্তু প্রেগনেন্সিতে বৃহৎ জরায়ুর কারণে এপেন্ডিসটি ওপরে উঠে যায়। ফলে বদলে যায় ব্যথার স্থানটি। চিকিৎসকরা বিষয়টি খেয়াল না করলে ভুল করতে পারেন। এপেন্ডিসাইটিসের লক্ষণ যেমন তলপেট ব্যথা, বমি হওয়া, পেট ফেঁপে যাওয়া এর সবই সাধারণ প্রেগনেন্সিতে হতে পারে। ফলে রোগী নিজে এবং অনেক সময় চিকিৎসকও মনে করেন প্রেগনেন্সির কারণে এসব সমস্যা হচ্ছে। ফলে প্রেগনেন্সির সময় প্রায়ই এপেন্ডিসাইটিস নির্ণয় করা বিলম্বিত হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বিলম্ব মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে।
এপেন্ডিসাইটিস একটি আপাত নিরীহ রোগ হলেও প্রেগনেন্সিতে এটি মারাত্মক। বিশেষ শারীরিক গঠনের কারণে প্রেগনেন্ট মহিলাদের এপেন্ডিসাইটিস হলে তা দ্রুত সারা পেটে ছড়িয়ে পড়ে। আমাদের পেটের অভ্যন্তরে একটি অঙ্গ আছে যার নাম ওমেন্টাম (ঙসবহঃঁস), এটি পেটের ভেতর কোনো ইনফেকশনকে সহজে ছড়াতে দেয় না, দেয়াল দিয়ে রাখে। এই ওমেন্টাম বৃহৎ জরায়ুর কারণে এপেন্ডিকস থেকে দূরে সরে যায়, এপেন্ডিকসের ইনফেকশন এটি ঘিরে রাখতে পারে না, ফলে ইনফেকশন সারা পেটে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এপেন্ডিকসের সাধারণ যে জটিলতা যেমন এপেন্ডিকস ফুটো হয়ে যাওয়া, পচে যাওয়া, ফোড়া হওয়া, সারা পেটে ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়া এসবই প্রেগনেন্সিতে অনেক বেশি।
প্রেগনেন্সিতে এপেন্ডিসাইটিস এসব কারণে অত্যন্ত মারাত্মক একটি রোগ। এই বিপদ মা ও শিশু উভয়ের জন্য। এপেন্ডিকসের ইনফেকশন হলে সহজেই তা পাশের জরায়ুতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে মায়ের প্রসব ব্যথা অনেক আগে থেকেই শুরু হতে পারে। এতে সময়ের আগে শিশুর জন্ম (চৎবসধঃঁৎব নধনু) হতে পারে।
প্রেগনেন্সিতে এপেন্ডিসাইটিস শিশু ও মাতৃ মৃত্যুর অন্যতম কারণ। তাই প্রেগনেন্সির সময় পেটে কোনো অস্বাভাবিক ব্যথা বা সমস্যা দেখা দিলে তাকে প্রেগনেন্সির ব্যথা মনে করে বসে না থেকে দ্রুত একজন সার্জারি বিশেষজ্ঞের মতামত নেয়া প্রয়োজন। তাতে মা ও শিশু উভয়ের জীবন রক্ষা হবে। আনন্দের ব্যাপার হচ্ছে, এসব রোগের চমৎকার চিকিৎসা আছে, যা সুন্দর আগামী তৈরি করতে পারে।

Share.

About Author

Leave A Reply