রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে শিক্ষার্থীদের অবরোধ

0

নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঢাকা: নৌমন্ত্রী শাহজাহান খানের পদত্যাগ, নিরাপদ সড়ক ও ঘাতক জাবালে নূরের চালকদের দ্রুত বিচার ও ফাঁসি দাবিতে বুধবারও রাজপথে নেমেছে শিক্ষার্থীরা।
এদিন, রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা ফার্মগেটের সড়ক অবরোধ করেছেন সরকারি বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থীরা।
এছাড়া হাউজবিল্ডিং ও শনিরআখড়ায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা। এতে করে ওইসব সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
এছাড়া গতকাল মঙ্গলবারের মতো আজও রাজধানীতে কম বাস দেখা গেছে। ফলে জনগণ ভোগান্তিতে পড়েছেন। মানুষজনকে কর্মস্থলে হেঁটে যেতে দেখা গেছে।
আন্দোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘যতদিন পর্যন্ত নৌমন্ত্রী ক্ষমা না চাইবেন ততদিন পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে।’
পাপন দাস নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘দোষীদের কঠোর শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আমরা আজ ঘরে ফিরে যাবো না।’
অপরদিকে বুধবার সকাল ১০টার পর উত্তরায় কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েকশ শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে। নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগ, নিরাপদ সড়ক ও ঘাতক জাবালে নূরের চালকদের দ্রুত বিচার ও ফাঁসি দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছে তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল নয়টার দিকে সরকারি বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থীরা মিছিল বের করে ফার্মগেট এলাকায় অবস্থান নেয়। এসময় তারা সরকারি বিআরটিসি বাসসহ সকল গণপরিবহন থামিয়ে বাস ও চালকের লাইসেন্স আছে কি না চেক করে।
মিরপুরগামী ইটিসি পরিবহনের একটি বাস হেলপার চালাচ্ছিলেন। এসময় শিক্ষার্থীরা তাকে নামিয়ে দেয়।
মতিঝিলগামী সাইফুল ইসলাম নামে এক যাত্রী বলেন, এই যে শিক্ষার্থীরা গাড়ি ও চালকের লাইসেন্স আছে কি-না, এ কাজ করার কথা ছিল পুলিশের। কিন্তু আজ সেই কাজ করছে শিক্ষার্থীরা।
তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সফলতা কামনা করে বলেন, এতে আমাদের দুর্ভোগ হচ্ছে। তারপরও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে চালকদের লাইসেন্স প্রক্রিয়াটা যেন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়।
এদিকে, শনির আখড়ায় সড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা। এতে শনির আখড়া থেকে যাত্রাবাড়ী- সায়েদাবাদের রাস্তা ও ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়কের রাস্তা অচল হয়ে গেছে।
শিক্ষার্থীরা ওই সড়কে কমপক্ষে ৫০টি গাড়ি ভাংচুর করেছে।
এদিকে ঢাকায় প্রবেশের পথে ব্যস্ততম এই সড়ক বন্ধ করায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। তারা পায়ে হেঁটে যে যার গন্তব্যের দিকে রওনা হয়েছেন।
রাইসুল ইসলাম নামের এক কলেজ শিক্ষার্থী বলে, আর কতো ভাইবোন রক্ত দিলে পরে আমরা নিরাপদ সড়ক পাবো? কেন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এত নির্মম পরিণতি হবে? আমরা নিরাপদ সড়ক চাই আর দিয়া-করিমের মৃত্যুর পেছনে যারা দায়ী তাদের ফাঁসি চাই।
অপরদিকে হাউজবিল্ডিং সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে যান চলাচল বন্ধ।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বেপরোয়া বাস বিমানবন্দর সড়কের জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারের গোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই দু’জন নিহত হন।

Share.

About Author

Leave A Reply