মঠবাড়িয়ায় এতিম খানার নামে সরকারী অর্থ লুটপাটের অভিযোগ

0

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি : মঠবাড়িয়ায় হাজী গুলশান আরা শিশু সদন এর সভাপতি আবদুল গফ্ফার (৬০) এর বিরুদ্ধে এতিম খানার ভূয়া এতিমের নামে সরকারী অর্থ লুটপাটের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। সরকারী অর্থের বিল স্বাক্ষর না করায় গফ্ফার ও সহযোগী এতিম খানার শিক্ষক মাওলানা মোস্তফা মাহামুদ (৫০) মিলে গত ৩ জুন উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তার ওপর হামলা চালিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায় এবং অফিস ভাংচুর করে। গফ্ফর উপজেলার বড় হারজী গ্রামের মৃত কাঞ্চন সিপাহীর ছেলে। ওই কর্মকর্তাকে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় দেশজুড়ে বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে সমাজ সেবার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
জানাগেছে, মঠবাড়িয়া উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভায় এ ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে বেড়িয়ে আসে গফ্ফারের বিভিন্ন দুর্নীতি ও প্রভাব খাটানোর চাঞ্চল্যকর তথ্য। “গফ্ফার সিকিউরিটি” নামে প্রতারক গফ্ফার একটি প্রাইভেট কোম্পানি সমাজ সেবা অধিদপ্তরের সাথে চুক্তিতে আউট সোর্সিং কর্মী নিয়োগ করে। এতে বেকার তরুন তরুনীদের সরকারী চাকুরী দেয়ার নাম করে জনপ্রতি ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
দাউদখালী ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক রাহাত খান জানান, ৮০র দশকে উপজেলার দধিভাংগা বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল মজিদ বেপারী দোকানের মালামাল ক্রয় করতে খুলনা যাওয়ার পথে গফ্ফার তাকে কাঁথা চাপা দিয়ে ১২ হাজার টাকা লুটে নেয়। ওই থেকে এলাকায় গফ্ফারের কাথাঁ চাপা গাফ্ফার নামে পরিচিতি পায়। তিনি আরও জানান, ১৯৯৭ সালে ভূয়া দলিল দিয়ে গফ্ফার সমাজ সেবা থেকে মায়ের নামে “হাজী গুলশান আরা শিশু সদন” প্রতিষ্ঠা করে। শুরু থেকেই নামমাত্র এতিম থাকলেও অধিক সংখ্যক এতিমের নামে মোটা অংকের বরাদ্দ এনে টাকা আত্মসাৎ করে আসছিল। মঠবাড়িয়া সমাজ সেবা কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান দায়িত্ব থাকা কালে ৪৯ জন এতিমের ডিজি অফিসের আগাম বরাদ্দ দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করার অপরাধে তৎকালীন থানার ওসি আব্দুল বারেক তাকে গ্রেফতার করেন। এসময় গফ্ফার ৮ মাস হাজতবাস করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সমাজসেবার দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারীরা জানান, গফ্ফার সমাজসেবা দপ্তরের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে আধিপত্য বিস্তার করে আসছিল। উপজেলা কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে অধিদপ্তরের কর্মচারীদের হয়রাণিমূলক বদলি করা ও বদলি ঠেকাতে তদবিরের নামেও মোটা অংকের বানিজ্য করতো। ওই অধিদপ্তরের ক্যাপিটেশন গ্রান্ট নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত এতিমখানায় বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল। এর প্রেক্ষিতে বড় হারজী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ মাহমুদ তালুকদার ইউএও বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তদন্ত প্রতিবেদন গফ্ফারের দূর্নীতি প্রকাশ পায়। প্রতিবেদন পেয়ে ইউএও জি.এম. সরফরাজ উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা আখলাকুর রহমানকে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিলে তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দেন। পরে ছয় মাসের বিল চাইলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করলে ক্ষুব্দ হয়ে গফ্ফার সন্ত্রাসী নিয়ে সমাজ সেবা কর্মকর্তাকে নিজ অফিস কক্ষে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা ও অফিস ভাংচুর করে। ওই ঘটনায় মামলা হলে আবদুল গফ্ফার গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে।
আরও জানাযায়, পল্লী মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন নামে সমাজ সেবা অধিদপ্তর থেকে একটি এনজিও করে মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে প্রকল্প নিয়ে দরিদ্র ভিজিডির কর্মসূচির অন্তর্ভূক্তি দুস্থ মহিলাদের ট্রেনিং ও পূণর্বাসনের প্রকল্প বান্দরবন এবং বরগুনা জেলায় কাজ পায়।
পাথরঘাটা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফতিমা পারভিন জানান, পল্লী মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন সংস্থাটির কর্মকান্ড দৃশ্যমান নয়। তিনি উপজেলা সমন্বয় সভায় বিষয়টি উত্থাপন করে প্রতিষ্ঠানটি কালো তালিকা ভুক্তি করার জন্য সমাজ সেবা ও মহিলা বিষয়ক অদিপ্তরে সুপারিশ করার প্রস্তাব করেন।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক সেলিম মাতুব্বর বলেন, বাগেরহাটের এম.পি সমাজসেবার স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. মোজাম্মেল ও মহাপরিচালক গাজী নুরুল কবিরের নাম ভাঙ্গিয়ে অফিসার কর্মকর্তা কর্মচারীদের ধমক দিয়ে বেড়ায়। সে একজন চিহ্নিত স্বাধীনতা বিরোধীর সন্তান।
উপজেলা মক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বাচ্চু মিয়া আকন জানান, গফ্ফারের বাবা কাঞ্চন হাজী মুক্তিযুদ্ধকালীন সময় দাউদখালী ইউনিয়নের শান্তি কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. গোলাম ছরোয়ার বলেন, সরকারী কর্মকর্তার ওপর হামলা ও সরকারী কাজে বাঁধা দানের অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় আবদুল গফ্ফার ও ওই এতিমখানার শিক্ষক মোস্তফা মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

Share.

About Author

Leave A Reply