মাধবদীতে জঙ্গী আস্তানায় বসবাসরত দুই নারী জঙ্গীর আতœসমর্পন

0

মোঃ আল আমিন:
মাধবদী (নরসিংদী) থেকে ঃ ৪১ ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মাধবদীর গাংপাড় আফজাল হাজীর নিলুফা ভিলা নামক ৭ তলা ভবনের ৭ম তলার একটি ফ্ল্যাটে বসবাসরত জঙ্গী আস্তানা থেকে স্বীকৃত দুই নারী জঙ্গীকে আতœসমর্পন করতে বাধ্য করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেল দুই টায় তারা আতœসমর্পন করে। আতœসমর্পনকারী জঙ্গীরা হলো খাদিজা আক্তার মেঘনা ও মৌ। খাদিজা আক্তার মেঘনা বিবাহিত নারী এবং মৌ অবিবাহিত। খাদিজার স্বামী জেএমবি’র বড় মাপের একজন নেতা। তারা সেই সুত্র ধরেই জেএমবি’র সদস্য জঙ্গী। গত মঙ্গলবার ভগিরথপুরের জঙ্গী আস্তানা থেকে যে দুই জঙ্গীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে তারাও জেএমবি’র সদস্য। তাদের সঙ্গে খাদিজা ও মৌ এর যোগাযোগ ছিলো। খাদিজার মাধবদীর আস্তানায় তাদের যাতায়াত ছিলো। মঙ্গলবারের উদ্ধারকৃত মরদেহ দু’টি সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রী। এদের দু’জনের নাম পরিচয় খাদিজার নিকট থেকে জানা গেছে। এরা হলো স্বামী আবু আব্দুল্লাহ আল বাঙ্গালী এবং স্ত্রী আকলিমা আক্তার মনি। খাদিজা, মৌ ও আকলিমা তারা ৩ জনই ঢাকার মানারত ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটির ছাত্রী ছিলেন। তারা গুলশান হলি আর্টিজন মামলার আসামী হিসেবে র‌্যাব কর্তৃক গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে অন্তরিন ছিলো। তারা স্বীকৃত জঙ্গী সংগঠন জেএমবি’র সদস্য। সম্প্রতি তারা জামিনে মুক্তি পেয়ে পলাতক হয়ে মাধবদীর গাংপাড় ও ভগিরথপুরে বাসা ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছিলো। বুধবার বিকেল ২:৫০ মিনিটের সময় অভিযান শেষ করে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন। এসময় ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজিপি চৌধূরী আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং নরসিংদী পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন উপস্থিত ছিলেন। তিনি আরো জানান, আটককৃত জঙ্গীদের আস্তানা থেকে কয়েকটি তাজা বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। বোমা নিশক্রিয়কারী দল এগুলো নিশক্রিয় করতে কাজ করছে। আতœসমর্পনকারী দুই নারী জঙ্গীর বিরোদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবে মাধবদী থানা পুলিশ। যাহা তদারকি করবে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। এর আগে গত সোমবার রাত ৯ টায় মাধবদীর গাংপাড় ব্যবসায়ী আফজাল হাজীর নিলুফা ভিলাকে ঘিরে ফেলে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও নরসিংদী জেলা পুলিশ। এরপর বাড়িটির ৭ম তলার একটি ফ্ল্যাটে বাইরে থেকে তালা বন্ধ করে দেয় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। পরে একে একে বাকি ১৩ টি ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেয় পুলিশ। দীর্ঘ ৪১ ঘন্টা পর বুধবার সকাল ৯ টায় শুরু হয় আনুষ্ঠানিক অভিযান। অভিযানের শুরুতেই কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা জঙ্গীদের আতœসমর্পন করতে চাপ প্রয়োগ শুরু করে। একপর্যায়ে বেলা দুইটার সময় তারা আতœসমর্পন করতে রাজি হয়। সকাল ১০ টার দিকে ড্রোন দিয়ে ৭ম তলার জঙ্গী আস্তানা ভিডিও করা হয়। কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের তথ্য মতে তারা পূর্বেই বুঝতে পেরেছিলো ভেতরে আটকে পড়া জঙ্গীরা নারী ও শিশু হতে পারে। সে কারণেই পুলিশ আতœসমর্পনের দিকে জোর দেয় এবং সফলও হয়েছে। উল্লেখ্য একই সময়ে ভগিরথপুরের জঙ্গী ডাইং ও প্রিন্টিং ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেনের ভবনের ৫ম তলার একটি ফ্ল্যাটে তালা দিয়েছিলো কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। মঙ্গলবার দিনভর অভিযানের শেষে এক নারীসহ দুই জঙ্গীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধর করেছিলো কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। এ দু’টি অভিযানে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট, সোয়াত, র‌্যাব, পুলিশ হেড কোয়াটার্স ইনটেলিজেন্স গ্রুপ, পুলিশের বোম নিশক্রিয়কারী দল, নরসিংদী জেলা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও নরসিংদী জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক দল অংশ গ্রহন করে।

Share.

About Author

Leave A Reply