তফসিল পেছানোর সুযোগ নেই : সিইসি

0

নিজস্ব প্রতিনিধি :
ঢাকা: প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) খান মো. নুরুল হুদা বলেছেন, নির্বাচনের তফসিল পেছানোর সুযোগ নেই, সব দল চাইলে সেটা ভিন্ন কথা, ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন করা উচিত।
তিনি আরো বলেন, বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র গ্রহণ না করতে আদালতের নির্দেশনা মানবে ইসি।
মঙ্গলবার সকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
‘সোমবার ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে তফসিল পেছানোর যে দাবি করা হয়েছে, সেটি নিয়ে ইসি কী ভাবছে আর তফসিল পেছানো হলে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করতে ইসিকে বিড়ম্বনায় পড়তে হবে কি না’Íআজ মঙ্গলবার সকালে এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘না, তফসিল পেছানোর কোনো উপায় নেই। আমরা পেছাব না।’
‘তারা বলেছেন যে ৭ নভেম্বর তাদের সংলাপ হবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। সেটা যেন আমরা আমলে নেই। আমরা আমলে নেব সেটা,’ যোগ করেন সিইসি।
সকালে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশনের ইটিআই ভবনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সিইসি। সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান।
সুষ্ঠু নির্বাচন, সেনা মোতায়েন, ইভিএম বাতিল, সংলাপের ফল দেখে তফসিল ঘোষণাসহ আরো কিছু বিষয়কে কেন্দ্র করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একটি প্রতিনিধিদল গতকাল সোমবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করার মতো ঘটনা ঘটে।
পরে ঐক্যফ্রন্টের নেতা জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা বলেছি, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ৭ নভেম্বর সকাল ১১টায় সংলাপের পূর্বে এবং সংলাপের ফল না জেনে নির্বাচন কমিশন যেন কোনো তফসিল ঘোষণা না করে। ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত পার্লামেন্টের মেয়াদ আছে। তফসিল পেছানোর বিষয়ে নির্বাচন কমিশন আমাদের প্রস্তাব বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছে। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপের বিষয়টি বিবেচনায় রাখার কথা বলেছেন।’
এ ছাড়া ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘ইভিএম ব্যবহার দেশের জনগণ, অর্থাৎ ভোটাররা চায় না। আমরা, কোনো রাজনৈতিক দলও চায় না। আমরা বলেছি, ইভিএমে ভোট ম্যানুপুলেশনের সুযোগ আছে। ইভিএম ব্যবহার করা হবে কি না, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কিছু বলেনি।’
তবে আজ সকালে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলোচনায় সিইসি আবারও জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করার সিদ্ধান্তে অটল ইসি। কে. এম. নুরুল হুদা বলেন, ‘ভোটারদের ভোটের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার জন্য ইভিএমের বিকল্প নেই। ব্যালট পেপারে নানা অসুবিধা রয়েছে। সেগুলো এড়িয়ে চলার জন্য ইভিএম চালু করা হবে। ইভিএমে ভোট কারচুপি করার সুযোগ নেই।’
সিইসি আরো বলেন, ‘ইভিএম নিয়ে আগে আইনি জটিলতা ছিল। সেগুলো এখন কাটিয়ে উঠেছি। রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করেছেন। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহাদৎ হোসেনকে প্রধান করে ইভিএম কমিটি করা হয়েছে।’
এর আগে ৪ নভেম্বর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে কমিশন সভা শেষে নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চোধুরী জানান, আগামী ৮ নভেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। ওইদিন জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে এই তফসিল ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা।
এর আগে বিকেল ৩টার দিকে শনিবারের মুলতবি সভা শুরু হয়। সিইসি কে এম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনের সচিব ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ওই বৈঠকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের বিধিমালার অনুমোদন দেওয়া হয়।
ওই বৈঠকের পর পরই শুরু হয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল সংক্রান্ত আরেকটি সভা। সেই সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চোধুরী।
তিনি বলেন, ‘আজকে তফসিল ঘোষণার তারিখ ছিল। আমরা সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে ৮ নভেম্বর তফসিলের তারিখ নির্ধারণ করেছি।’
তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোট গ্রহণ পর্যন্ত ৪৫ দিনের মত সময় রাখা হবে বলেও জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে ইসির সচিবালয়ের সচিব হেলাল উদ্দিন আহমেদ, যুগ্মসচিব এস এম আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে আজ নির্বাচন কমিশনের ৩৮তম মুলতবি সভায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) বিধিমালা চূড়ান্ত করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এখন আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে তা গেজেট আকারে জারি করবে ইসি সচিবালয়।
ইসি সচিবালয়ের যুগ্মসচিব এস এম আসাদুজ্জামান বলেন, ইভিএম বিধিমালা জারির মাধ্যমে একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সব ধরনের বিধি সংশোধন চূড়ান্ত হচ্ছে। ইভিএম বিধিমালা পাওয়ায় সংসদ নির্বাচনে এর ব্যবহারের সার্বিক বিষয় চূড়ান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইভিএম চালুর ৮ বছর পর প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে এ প্রযুক্তি ব্যবহার হবে।
২০১০ সালের জুন মাসে স্বল্প পরিসরে চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে ইভিএম চালু হয়। ২০১৫ সালের এসে ওই ইভিএম বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ডিজিটাইজড সুবিধা সম্বলিত নতুন ইভিএম তৈরি করে ইসি। ২০১৬ সালে রংপুর সিটি নির্বাচনে তা আবারও চালু হয়। এর দু’বছরের মাথায় সংসদে নতুন প্রযুক্তিটি চালু হচ্ছে। ’জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইভিএম বিধিমালা ২০১৮’ এ রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার, ভোট গণনা, ফল একীকরণসহ নানা বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, আইনি ভিত্তি পাওয়ার পর স্বল্প পরিসরে এ প্রযুক্তি ব্যবহার হবে। কয়টি কেন্দ্রে তা ব্যবহার করা হবে তা কমিশনই চূড়ান্ত করবে। দ্বৈচয়ন পদ্ধতিতে এসব কেন্দ্র বাছাই করা হবে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাকালে সিইসির জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে ভোটের তারিখ ও ইভিএম নিয়ে বিস্তারিত থাকবে বলে জানিয়েছেন ইসি কর্মকর্তারা।
এছাড়া অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেয়ার বিধানও বিধিমালায় যুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না করার দাবি জানায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এজন্য শনিবার বিকেলে তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর একটি চিঠিও দেয়। আবারও সীমিত পরিসরে সংলাপের জন্য রবিবার আওয়ামী লীগের কাছে একটি চিঠি দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানান, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে অমীমাংসিত বিষয়গুলো মীমাংসার লক্ষ্যে ফের ছোট পরিসরে আলোচনায় বসতে আওয়ামী লীগ রাজি।
তিনি বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে অগ্রগতি আছে, তারা চাইলে ছোট পরিসরে আবারও আলোচনা হতে পারে। সংলাপে তারা তাদের দাবিগুলো উপস্থাপন করেছে, আলোচনা হয়েছে। সভা-সমাবেশের অধিকারসহ অনেক দাবি মেনেও নেওয়া হয়েছে।’
এরই মধ্যে স্বল্প পরিসরে সংলাপ হওয়ার আগেই আজ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ ঠিক করল নির্বাচন কমিশন।

Share.

About Author

Leave A Reply