খাগড়াছড়ি জেলার কৃষক’দের মাঝে জনপ্রিয় ও লাভ জনক হয়ে উঠেছে ভূট্রা চাষ

0

মো: লোকমান হোসেন:
পার্বত্য অঞ্চল প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ি জেলায় নয়টি উপজেলার চাষীদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ভুট্রা চাষ। কয়েকটি উপজেলার ভুট্রাচাষীদের সাথে কথা বলে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার দুইজন ভুট্রাচাষীর সফলতার কথা তুলে ধরা হলো।
প্রথম চাষী: খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার কমলছড়ি ইউনিয়নের ভুয়াছড়ি মেীজার কমলছড়ি গ্রামের নিবারন চন্দ্র চাকমার ছেলে জীবক চাকমা।
জীবক চাকমা জানান, প্রথম ভৃট্র চাষ করার সময় সি পি ও ক্যাটালিস্ট কোম্পানীর প্রশিক্ষণ গ্রহন করে ২০১০ইং সালে ০.৪০ শতক জমির উপর ভৃট্রা চাষ শুরু করেন। প্রখম বছর তেমন লাভ হয়নি,তবে ২য় বছর ২০১১ ইং সালে তার ভুট্রা চাষে ভালো ফলন হয় এবং সফলতার পাশাপাশী ভাল লাভও আসে। তখন থেকে এখন ২০১৮ ইং প্রর্যন্ত্য তিনি আর পিছনে ফিরে তাকান.নি। তিনি এখনো ভূট্রা চাষেই আছেন ও অন্যকেও ভৃট্রা চাষে সহযোগীতা করছেন।
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার কমলছড়ি ইউনিয়নের ভুয়াছড়ি মেীজার একই গ্রামের বাদিধন চাকমার ছেলে নিলাবরন চাকমা। তিনি পেশায় একজন চাষী হলেও তার নিজের কোন চাষযোগ্য জমি-জমা নেই, তবে তিনি নিয়মিত একজন র্বগাচাষী। বর্গাচাষী নিলাবরন চাকমা জানান, তিনি ২০০৬ইং হইতে এখন প্রর্যন্ত প্রতিবছর নিয়মিত ভ’ট্রা চাষ করেন এবারও ০.৪০ শতক জমিতে ভূট্রা চাষ করেছেন।
বর্গাচাষী নিলাবরন চাকমা জানান,০.৪০ শতক জমিতে কেজি ভ’ট্রা বীজের প্রয়োজন হয়। এক কেজি বীজের দাম পাচ শত ষাট। এক কেজি বীজ থেকে প্রায় তিন হাজার চারা গাছ হয়। প্রথম বীজ বোপনের পর চারার বয়স যখন পনের দিন হয় তখন একবার সার ও কীটনাশক দিয়ে আইল বেধে পরে সময় মত তিনবার পানি দিতে হবে। পরে আর ভুট্রা কাটা প্রর্যন্ত্য আর কোন খরচ নাই।
উল্লেখ্য প্রতি ৪০ শতাংশ জমিতে তিন কেজি বীজে প্রায় ৯ হাজার চারা গাছ হয়। আর খরচ হয় (৭-৯) হাজার টাকা। একটি গাছে একটি ভুট্রার মেীচা হলেও ৯ হাজার মেীচা হয়।একটি কাচা ভুট্রা বিক্রি হয় পাচ টাকা। তবে কাচা ভুট্রা বিক্রিতে কৃষক ৯গুন লাভবান হয়।
আর ডিলারের মাধ্যমে বিক্রিতে কৃষকের লাভের পরিমান কম, কারণ ডিলার ভুট্রা কিনে শুকনা। আর শুকনা এক কেজি ভুট্রার দাম ১৭ টাকা। শুকনা ও কাচা ভুট্রার পার্থক্য একটি কাচা ভুট্রার ওজন পাচশত গ্রাম আর একটি শুকনা ভুট্রার ওজন ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম। ৪০ শতাংশ জমিতে তিন কেজি বীজে চারা হয়, ৯ হাজার। ৯ হাজার গাছে ৯ হাজার ভুট্রার মোচা হয়, প্রায় ৪টি মোচা শুকালে কেজি ভুট্রা হয় আর কেজি ভুট্রার ১৭টাকা। ঐ হিসাবে ৯ হাজার মোচায় শুকনা ভুট্রা হবে ২৭২৫ কেজি। শুকনা ভুট্রা বিক্রিতে কৃষক লাভ পায় ৪গুন। কাচা ভুট্রা বিক্রিতে কৃষক লাভ পায় ৯গুন।
বিশেষ উল্লেক্ষ্য যে ভিন্ন ভিন্ন স্থানের এক বা একাদিক কৃষকের সাথে বলে জানা যায়, তাদের মধ্য অনেকেই আগে তামাক চাষ করেছেন।তামাক চাষে তাদের আশানুরূপ লাভ হয়নি।তবে এখন ভূট্রা চাষে, তাদের তামাকের চাইতে ৫গুন বেশী লাভ হচ্ছে। অন্ন্য তামাক চাষী ভাইদের উদ্দেশ্যে এখন’কার ভূট্রা চাষী ভাইদের প্রতি বিনিত অনুরূধ যারা এখনো তামাক চাষ করছেন।আপনাদেরকে বলছি তামাকের পরিবর্তে একবার ভূট্রা চাষ করে দেখেন এবং আমাদের কথার প্রমান করূন্।আপনারাই বলবেন যে তামাক চাষ ছার (এখন থেকে ভূট্রা চাষ ধর ও ৫গুন বেশী লাভকে যাচাই কর ধন্য কর ভূট্রা চাষ,ধন্য কর তোমাদের জীবন)ধন্য হোক সকল চাষীভাই।
শিল্পীর গানের শুরে সাংবাদিক লোকমান হোসেন বলেন:-ধন্য ধন্য বলি তারে.তামাক চাষ বাদ দিয়ে ভূট্রা চাষ যে জন করে।ধন্য ধন্য বলি কারে,তামাক চাষে বেশী খরচ” বাদ ” দিয়ে কম খরচে ৫গুন বেশী লাভ ভূট্রা চাষ যে জন করে।
জেলা কৃষি অফিসের ইনচার্জ বলেন,আমরা জেলা কৃষী অফিসের সকল মাঠ কর্মী সটিক সময় কৃষদের, সকল ক্ষেত্রে পরার্মশ কৃষক যেন ভালো ফলন পায় এবং লাভবান হয়। আমরা সে ভাবেই পরার্মশ দিয়ে থাকি।তবে আমরা তামাক চাষ সাপোর্ট করি না।

Share.

About Author

Leave A Reply