নওগায়ঁ সাবেক সাংসদ শাহীন মনোয়ারা হকের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ

0

নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁয় সাবেক সাংসদ শাহীন মনোয়ারা হকের উদ্যোগে শহরের শীতার্ত প্রতিবন্ধী, গরীব, দুস্থ ও অসহায়দের মাঝে শীতবস্ত্র হিসেবে প্রায় ৩শত কম্বল বিতরণ করেন। বৃহস্প্রতিবার সকালে শহরের হোটেল যমুনা কমিউনিটি সেন্টারে ও বিকেলে বোয়ালীয়াতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব শীতবস্ত্র বিতরণ করেন।
এসময় তিনি বলেন আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকনিদের্শনায় শীতার্ত প্রতিবন্ধী, গরীব, দুস্থ ও অসহায়দের মাঝে শীতবস্ত্র হিসেবে প্রায় ৩শত কম্বল বিতরণ করার উদ্যেগ নিয়েছি যা প্রতিবছরই প্রদান করে থাকি। সমাজের বিওবানসহ সকলের উচিত সব সময় অসহায় মানুষরে পাশে থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া। এ সময় অন্যান্যোর মধ্যে জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্না-সম্পাদক রবিউল ইসলাম রুবেল, সমাজ কল্যান বিষয়ক সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী প্রিন্সসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

নওগাঁয় জাতীয় পার্টির ৪ প্রার্থীসহ ১৬ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে
আতাউর শাহ্:
নওগাঁ প্রতিনিধি: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁর ৬টি আসনে প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন খানসহ ১৬ প্রার্থীর জামানাত বাজেয়াপ্ত হবে।
এ ঘটনায় অ্যাডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন খান জানান, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ নির্বাচনের আগে দুই ধরনের বক্তব্য দেয়ায় বিবেকের তাড়নায় ভোটের আগে দিন ২৯ তারিখে রাত ৮টা ৪১ মিনিটে তার ফেইস বুকের মাধ্যমে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তার অনুসারীরা চৌদ্দ দলীয় আওয়ামীলীগ প্রার্থী ছলিম উদ্দিন তরফদারের হয়ে নির্বাচনী কাজ করেছেন। এ কারণে তিনি ৩ লাখ ৮২ হাজার ৫শ’ ৩৬ ভোটের মধ্যে মাত্র ৩শ’ ২১ ভোট পেয়েছেন। জাতীয় পার্টির অপর তিন প্রার্থী নির্বাচন থেকে সড়ে না দাঁড়ালেও ভোট না পাওয়ায় তাদেরও জামানাত বাজেয়াপ্ত হবে।
নওগাঁর ৬টি আসনেই আওয়ামীলীগ তাদের আসনে জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে। অপরদিকে ঐক্যজোট (বিএনপি) আবারও ছয়টি আসনেই বিপুল ভোটে পরাজিত হয়েছে।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্রসহ মোট ৪৮ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই বাছাই শেষে হেভিওয়েট প্রার্থীসহ ১০ প্রার্থীর জনের মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায়। প্রত্যাহার করেন ৯ জন। ৬টি আসনে ২৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বিন্দ্বিতা করেন।
জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটানিং অফিসার মিজানুর রহমান জানান, নওগাঁ-১ (সাপাহার-পোরশা-নিয়ামতপুর) আসনে ৪০২৬৭০ ভোটারের মধ্যে আওয়ামীলীগের প্রার্থী সাধন চন্দ্র মজুমদার নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন ১৮৭২৯০। তার নিকটতম প্রতিদ্বিন্দ্বি বিএনপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১৪২০৫৬টি। জাতীয় পার্টির প্রার্থী আকবর আলী (লাঙ্গল) ৭৭৩ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান (হাতপাখা) ১১৫৭২ ভোট এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) প্রার্থী মঙ্গল কিস্কু (মই) ২৮৩ ভোট পেয়েছেন।
নওগাঁ-২ (ধামইরহাট-পতœীতলা) আসনে ৩২২০৯১ ভোটারের মধ্যে আওয়ামীলীগের প্রার্থী শহীদুজ্জামান সরকার নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন ১৭২১৩১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী সামসুজ্জোহা খাঁন ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১০০৬৬৫টি। জাকের পার্টির প্রার্থী এসএমজেএআর ফারুক (গোলাপফুল) ৭৫৯, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. বদিউজ্জামান (লাঙ্গল) ৭৫৫ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন (হাতপাখা) ৩৯১৯ ভোট।
নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনে ৩৮২৫৩৬ ভোটারের মধ্যে আওয়ামীলীগের প্রার্থী ছলিম উদ্দীন তরফদার নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন ১৯০৫৮১টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১৩৬০২৩টি। কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন খান (লাঙ্গল) ৩২১ ভোট, বাসদের জেলা সমন্বয়াক জয়নাল আবেদীন মুকুল (মই) ৩১৩ ভোট, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ’র সেকেন্দার আলী (টেলিভিশন) ৯৪ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন (হাতপাখা) ৩৯১৯ ভোট।
নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে ২৮৯২২৮ ভোটের মধ্যে আওয়ামীলীগের প্রার্থী মুহা. ইমাজ উদ্দিন প্রামানিক নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন ১৬৮৮৪৫টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী আবুল হায়াত মোহাম্মদ সামসুল আলম প্রামানিক ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৫৩০৪৪টি। জাতীয় পার্টির প্রার্থী এনামুল হক (লাঙ্গল) ৬৭৪ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী শহিদুল ইসলাম (হাতপাখা) ২৯৭ ভোট এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) প্রার্থী ডা: এসএম ফজলুর রহমান (কাস্তে) ১৫০৫ ভোট এবং জাতীয় পার্টি-জেপি সাইদুল রহমান (বাইসাইকেল) ৫৯ ভোট পেয়েছেন।
নওগাঁ-৫ (সদর) আসনে ৩১১৭১৮ ভোটের মধ্যে আওয়ামীলীগের প্রার্থী জননেতা প্রয়াত আব্দুল জলিলের ছেলে ব্যারিস্টার নিজাম উদ্দীন জলিল জন নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন ১৫৬৯৬৫টি। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ধলু ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৮৩৭৫৯টি। অপর প্রার্থী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দেলোয়ার হোসেন (হাতপাখা) ৫৩০৫ ভোট।
নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনে ২৯৪৪৯৩ ভোটারের মধ্যে আওয়ালীগের প্রার্থী ইসরাফিল আলম নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন ১৮৯৮৬৪ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী আলমগীর কবীর ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৪৬১৫০টি। অপর প্রার্থী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শাহজাহান আলী প্রামনিক (হাতপাখা) ১৮৪৩ ভোট।
মাত্র ৩১৩ ভোট পাওয়ার কারণে সম্পর্কে জেলা বাসদের সমন্বয়াক জয়নাল আবেদীন মুকুলের ফোনে বারবার ফোন দেয়ার পর রির্সিভ না করায় কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নওগাঁ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শাহিনুর ইসলাম জানান, একাদশ নির্বাচনে এই ৬টি আসনে ২০ লাখ ২ হাজার ৭৩৬ জন ভোটার। জেলায় নতুন ভোটার হয়েছেন ১ লাখ ৯১ হাজার ৪০১ জন। জেলায় আওয়ামীলীগ ও বিএনপির প্রার্থী ছাড়া জাতীয় পার্টি, সিপিবি, বাসদসহ অন্য দলেও ১৬ প্রার্থী প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট পাননি। নির্বাচনী বিধি অনুসারে এই ১৬ প্রার্থীর জামানাত বাজেয়াপ্ত করা হবে।

Share.

About Author

Leave A Reply