গাইবান্ধায় নদীতে মাছ না পাওয়ায় প্রায় ১০ হাজার জেলে কর্মহীন

0

গাইবান্ধা প্রতিনিধি :
নদীতে মাছ না পাওয়ার কারনে গাইবান্ধা জেলার প্রায় ১০ হাজার জেলে পরিবার কর্মহীন হয়ে পড়েছে। অনেকেই দাদনের উপর টাকা নিয়ে মহাজনের টাকা শোধ করতে পারেনি। এই টাকা পরিশোধ নিয়েও তারা দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন।
গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, গোবিন্দগঞ্জ, সাঘাটা, সাদুল্লাপুর, পলাশবাড়ি ও ফুলছড়ি উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও করতোয়া শুকিয়ে নদীর বুকে জেগে উঠেছে বালুচর। বর্ষায় কানায়-কানায় পূর্ণ থাকলে এখন চারিদিকে ধূ ধূ বালুচর। ফলে নদীতে নেই পানি। কোথাও কোথাও পানি থাকলেও জাল টানলেও মাছ পাওয়া যায় না। এমনিতেই নদীতে মাছ কমে গেছে। তার উপর নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় জেলেরা হতাশ।
বছরের এই কয়েক মাস নদী নির্ভর এসব জেলে পরিবারের জীবন কাটে অনাহারে অর্ধাহারে। তার উপর চাপে ঋণের বোঝা। পরিবারের খাবার সংস্থান করতে না পেরে পুর্ব পুরুষের পেশা ছেড়ে তারা এখন অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।
ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ভাষারপাড়া জেলে পল্লীর অনিল দাস বলেন, এখন নদীতে পানি শুকিয়ে গেছে এখন আর আগের মতো মাছ ধরতে পারি না, সে জন্য এই পেশা ছেড়ে ঢাকা গিয়ে হয়তো অন্য কাজ করতে হবে। তব্ওু তো জীবন বাচাঁতে হবে।
একই গ্রামের আকালু দাস জানায়, আমার প্রতিদিন নদীতে মাছ ধরতে যাই কোনো দিন পাই আর কোনো দিন পাইনা একদিন যদি পাই আর ১০ দিন মাছ ধরতে পারি না।
গজারিয়া ইউনিয়নের নীলকুঠি গ্রামের বরুণ দাস বলেন, এখন নদীতে মাছ না পাওয়ায় সুদের উপর টাকা নিয়ে সংসার চালাতে হচ্ছে। মাছের সময় বেশি মাছ পেলে সুদের টাকা পরিশোধ করি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলে জানায়, নদীর পানি শুকিয়ে গেলেও নদীর একেকটি জায়গায় গভীর খাদের সৃষ্টি হয়ে সেখানে পানি জমে থাকে। সেই গভীর পানিতে মাছ থাকে। এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা, তারা জেলে নয় গাছের ডালপালা ফেলে সেই জায়গা দখলে নিয়ে নেয়। সেখানে জেলেরা মাছ মারতে পারবে না। তাহলে জেলেরা কোথায় মাছ ধরবে।
ফুলছড়ির কামারপাড়া এলাকার জেলে সম্প্রদায়ের নেতা ননী মোহন দাস জানায়, এখনও সব জেলে নিবন্ধন হয়নি। আরও অনেকেই বাকী রয়েছে। দ্রুত তাদের নামও নিবন্ধন করে সরকারিভাবে সাহায্য সহযোগিতা করা দরকার।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা মৎস্য কর্মকতা মো. আব্দুদ দাইয়ান জানায়, আসলে নদ-নদী বেষ্টিত এলাকা গাইবান্ধা জেলা। এ জেলায় ১৮ হাজার ৫৯৯জন জেলে ইতোমধ্যে সরকারিভাবে নিবন্ধন করা হয়েছে। এসব জেলের নিজস্ব কোন পরিচয় ছিল না। কিন্তু এখন সরকারীভাবে তাদের স্মার্ট কার্ড দেয়া হচ্ছে। খালবিল ও নদী শুকিয়ে যাওয়ায় জেলেরা বেকার হয়েছে। তারা নিজের পেশার পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে।
তবে আগামীদিনে সরকারী সুযোগ সুবিধা পেতে পারেন।

Share.

About Author

Leave A Reply