পানছড়ি বাজারে গাড়ি আছে কিন্তু মানুষ নেই

0

মো:লোকমান হোসেন:
পার্বত্য অঞ্চল প্রতিনিধি: “খাগড়াছড়ির পানছড়ি বাজার ৮ মাস ভয়কট, উপজাতীরা বাজারে আসতে ভয় পাচ্ছে, মালামালের দাম বৃদ্ধি, আমদানি ও রপ্তানি হচ্ছে না অসহায় পানছড়ি বাসি” কোন উপজাতীরা পানছড়ি বাজার বন্ধ করে রেখেছে।
খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার প্রাণ কেন্দ্র পানছড়ি বাজার বয়কট আট মাস পার হলেও কোন সুরাহা আজো হয়নি। গত ১৯ মে আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ বাজার বয়কটের ঘোষনা দিলে তা ২০ মে থেকে কার্যকারিতা শুরু হওয়ার পর অদ্যবধি পর্যন্ত বাজারে বিরাজ করছে ভুতুড়ে অবস্থা।
রবিবার সাপ্তাহিক বাজারবারে সকল সম্প্রদায়ের মিলনমেলা থাকলেও বর্তমানে ক্রেতাবিহীন দোকানপাটে অলস সময় পার করছে প্রায় পাঁচ শতাধিক দোকানী। তাছাড়া পাহাড়ী সম্প্রদায়ের লোকজনও তাদের উৎপাদিত ফসলাদি বাজারজাত করতে না পেরে, পড়েছে বিপাকে।
জানা যায়, পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ ও জেএসএস এর মধ্যে ভ্রাতিঘাতি সংঘর্ষের জের ও জেএসএস এর কয়েক সদস্য খাগড়াছড়ির পানছড়ি বাজারস্থ শুকতারা বোডিংয়ে অবস্থানের কারণেই বয়কটের ডাক দেয় ইউপিডিএফ।
যার ফলে বে-সরকারী এনজিও আশা, ব্র্যাক, পদক্ষেপ, গ্রামীন ব্যাংক থেকে লোন নেয়া ব্যবসায়ীরা পরিশোধ করতে পারছে না সাপ্তাহিক কিস্তি। এদিকে মুদিমাল বিক্রেতারা চড়াদামে বিক্রি করছে নানান পণ্যাদি। ফলে বাজারে বিভিন্ন পন্যের মূল্য ক্রেতা ক্রয়সীমার বাইরে চলেগেছে।
এ ব্যাপারে পানছড়ি বাজার উন্নয়ন কমিটির সভাপতি হেদায়েত আলী তালুকদার জানিয়েছেন, বাজারের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে চেষ্টা চলছে। বাজার উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো: আবুল কাশেম এ অবস্থার জন্য প্রশাসনকেই দায়ী করেন।
তিনি বলেন, প্রশাসন হস্তক্ষেপ করলে এটা সমাধান করা কোন ব্যাপারই না। খাগড়াছড়ির পানছড়ি বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতাদের সহবস্থান নিশ্চিতসহ বিভিন্ন সমস্যাদি সমাধানকল্পে প্রশাসনের সু-দৃষ্টি চায় বাজার ব্যবসায়ী ও আপামর জনগন।
গত তিনদিন ধরে খাগড়াছড়ির ভাইবোনছড়া বাজারে কোন মালামাল নেওয়া বন্ধ হয়েছে। কারা বন্ধ করে দিয়েছে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। অনেক ব্যবসায়ী নাম বলতে অনিচ্ছুক। এই প্রতিবেদককে যানিছেন শনিবার ও মঙ্গলবার ভাইবোনছড়া বাজার একটি আঞ্চলিক সংগঠনের টেলিফোনের মাধ্যমে সব ব্যবসায়ীকে মালামাল নিতে নিষেধ করা হয়েছে।
বর্তমানে ভাইবোনছড়া বাজার এবং পানছড়ি বাজার এলাকার বসত: সাধারণ জনগণের মধ্যে হতাশ বিরাজ করছে। কোন প্রশাসন এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছেনা বলে অভিযোগ করছেন। নিত্য প্রয়োজনীয় যিনিসের দাম বাড়লেও দোকানের মালামাল নেই। চাউলের দাম বৃদ্ধি হয়েছে। সোয়াবিন তৈল, পেয়াজ, রসুন, আদা ও সব্জি উপজাতিরা নিয়ে আসতে পারছে না। তারকে ভয় দেখানো হচ্ছে।
যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। কিন্তু রাস্তাঘাটে মানুষ শূন্য। কয়েকটি ব্যটারি চালিত যাবাহন দেখাগেলও মানুষ চলাচল তেমন নেই। এই ভাবে বাজার ভয়কট আর কতদিন চলবে, সরজমিনে এই প্রতিবেদক বাজার ঘুরে দেখা যায় সেখানকার ব্যবসায়ীদের মনমরা। মাথায় হাতদিয়ে বসে থাকতে এক ব্যবসায়ীকে দেখা যায়। জিজ্ঞাসা করলে বলেছেন, বিগত ৮ মাস যাবত পানছড়ি বাজারে কোন মালামাল আনতে দিচ্ছেনা উপজাতীরা।
এই উপজাতী কারা, প্রশাসন একটু যদি নজর দেন তাহলে পানছড়ি বাজারে মালামাল নেওয়ার সুযোগ হবে, আর যদি প্রশাসন নাদেখে তাহলে অচিরেই পানছড়ি ও ভাইবোনছড়া বাজার একদম বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়তে পারে।

Share.

About Author

Leave A Reply