বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ এবং শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করব : প্রধানমন্ত্রী

0

সংসদ প্রতিবেদক : সংসদনেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে উন্নত, সমৃদ্ধ এবং শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করব। আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে বিশ্বের অন্যদের সঙ্গে আগামী দিনেও সুসম্পর্ক বজায় রাখব আমরা।
বুধবার জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ এগিয়ে চলছে, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখে সমৃদ্ধ, সুখী ও শান্তিময় দেশ হবে ২০৪১ সালের মধ্যে। আমি যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন দেশের অব্যাহত উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য কাজ করে যাব।
বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দলগুলো জয়ী হওয়া সংসদ সদস্যদের সংসদে আসা রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি তাদে সংসদে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা অল্প আসন পেয়ে অভিমান করে সংসদে আসছে না, এটা তাদের ভুল সিদ্ধান্ত। সংসদে এলে তারা কথা বলার সুযোগ পাবে। সংসদ টিভি আছে, যা সারা দেশের মানুষ দেখেন। এ সুযোগ তারা কেন হারাচ্ছেন, তা আমি জানি না। কাজেই আমার আহ্বান থাকবে, যারাই নির্বাচিত সংসদ সদস্য তারা সবাই পার্লামেন্টে আসবেন, বসবেন এবং যার যা কথা সেটা বলবেন। ভোটের মালিক জনগণ। জনগণ যাকে খুশি তাকে ভোট দেবে এবং সেভাবেই তারা দিয়েছে। সংসদে আসলে তাদের যদি কোনো কথা থাকে, তাহলে তারা সেটা বলার সুযোগ পাবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অপর এক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বলেন, আমরা চেয়েছি, সকলে সম্মিলিতভাবে দেশটাকে গড়ে তুলব। তাই আমি নির্বাচনের আগে সকল দলকে ডেকেছিলাম, সুন্দর পরিবেশে বৈঠক করেছি এবং সকলকে আমি আমন্ত্রণ করেছিলাম যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।
তিনি বলেন, গত ১০ বছরের দেশে যে উন্নয়ন হয়েছে, সেই উন্নয়নের সুফল দেশের জনগণ পেয়েছে। আর সুফল পেয়েছে বলেই জনগণ বহু আগে থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েই রেখেছিল যে, তারা আমাদের নৌকা মার্কায় ভোট দেবে এবং জনগণ সেই ভোট দিয়েছে।
ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত। স্বাধীনতাবিরোধী একটি চক্র মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি হিসেবে ব্যবহারের মাধ্যমে রাজনীতি করে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে চেয়েছে। তবে আমাদের ঐকান্তিক চেষ্টার ফলে বারবার তা ব্যর্থ হয়েছে। কুচক্রী মহল যাতে কোনোভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের ক্ষেত্র তৈরী না করতে পারে, সে ব্যাপারে আমরা সজাগ রয়েছি।
তিনি বলেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। যারা সাম্প্রদায়িক অপপ্রচারের মাধ্যমে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও সুনাম ক্ষুণ্ন করবে তাদের প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমাদের বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক বন্ধন ও সম্প্রীতির বিনষ্টের চেষ্টা করা হলে আমরা তা কঠোরভাবে দমন করব।

Share.

About Author

Leave A Reply