অর্থপাচার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার : অর্থমন্ত্রী

0

বিশেষ প্রতিবেদক :
ঢাকা : বিদেশে অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন বন্ধ করতে বিদ্যমান আইন সংশোধন করে যুগোপযোগী করা হবে। পাশাপাশি পণ্য আমদানি-রপ্তানির মাধ্যমে অর্থপাচার বন্ধ করতে প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন (পিএসআই) কোম্পানির আদলে একটি কোম্পানি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৈঠকে এনবিআর চেয়ারম্যান, অর্থ সচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদেশি কোম্পানি এককভাবে ব্যবসা করতে পারবে না। ব্যাংক ব্যবস্থা এবং আমদানি-রপ্তানির আড়ালেই অর্থপাচার হয়। আইনের কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থপাচার ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।
তিনি বলেন, অর্থপাচার রোধে সকল আমদানি-রপ্তানিকৃত পণ্য যথাযথভাবে স্ক্যানিং করা হবে। পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানিতে ওভার ইনভয়েসিং এবং আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অর্থপাচার মূলত ব্যাংক ও এনবিআর এই দুই জায়গার মাধ্যমে হয়। এর বাইরে বড় আকারে মানিলন্ডারিংয়ের ব্যবস্থা নেই। মিথ্য্যা ঘোষণা দিয়ে আমদানি-রপ্তানির মাধ্যমে এবং ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি খোলার মাধ্যমে অর্থ পাচার হয়। আমদানি-রপ্তানির মাধ্যমে অর্থপাচার রোধে আমরা শতাভাগ স্ক্যানারের ব্যবস্থা করছি।’
‘এছাড়া ওভার প্রাইসিং আর আন্ডার প্রাইসিং রোধে পিএসআইর আদলে এনবিআরে একটি সেল খোলা হবে। তারা নেটের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন এলাকায় ঢুকে পণ্যের দাম জানবে। তারপর তারা রিপোর্ট করবে। ওই দামের চেয়ে ঊনিশ-বিশ হলে সমস্যা থাকবে না। তবে বেশি পার্থক্য দেখা গেলে সেসব পণ্য বাজেয়াপ্ত করা হবে। এখানেই শেষ নয়, এটা পাথর, ইট, বালু হতে পারে। সেক্ষেত্রে যারা এর সঙ্গে জড়িত থাকবে এখন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘মানি লন্ডারিং এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন এ দুটোই রোধ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেই দিয়েছেন, আমরা আর দুর্নীতি চাই না। মানি লন্ডারিংও একটা দুর্নীতি। আর দুর্নীতির অর্থই সন্ত্রাসে অর্থায়ন হয়। সুতরাং এ দুই ক্ষেত্রকেই না করতে হবে। এটা বাস্তবায়ন করার জন্য যেখানে মানিলন্ডারিংয়ের কিছু হয় এমন তথ্য থাকলেই আইন বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে দেওয়া হবে। তারাই সেটা বাস্তবায়ন করতে হবে।’
তিনি বলেন, এর আগে এ সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক বছরে তিনটা হতো। এখন থেকে চারটা বৈঠক হবে। বৈঠকে পর্যালোচনা হবে সিদ্ধান্তগুলো কতটা বাস্তবায়ন হলো।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কারো বিরুদ্ধে নই। কিন্তু যারা দেশের ক্ষতি করে, জনগণের ক্ষতি করে, তারা পার পেয়ে যাবে এটা আমরা চাই না। সবাই ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবে। তবে কাউকে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন করতে দেওয়া হবে না। এটাই আমাদের সিদ্ধান্ত।’
তিনি বলেন, ‘এ সংক্রান্ত আইনগুলো অনেক আগেই করা হয়েছে তখন মানিলন্ডারিং ও টেরোরিস্ট ফাইন্যান্সিং বিষয়ে কিছু ছিল না। সুতরাং আইনগুলোর সংস্কার করা হবে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ট্রান্সফার প্রাইসিং হোক আর যাই হোক, এ দেশে বিদেশি বেশকিছু কোম্পানি কাজ করে। কোনো বিদেশি কোম্পানি এককভাবে ব্যবসা করতে পারবে না। কারণ, এককভাবে বিদেশি কেম্পানি কাজ করে এমন কোম্পানি থেকে আমরা রাজস্ব পাই না। তাই বিদেশি কোনো কেম্পানি বাংলাদেশে কাজ করতে হলে তাদেরকে বাংলাদেশের কোনো কেম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। অন্তত আমরা যেন অর্ধেক রাজস্ব পাই।’

Share.

About Author

Leave A Reply