অযত্ন ও অবহেলায় ধামইরহাটে এলজিইডির ৩টি খাদ্যগুদাম

0

আতাউর শাহ্:
নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর ধামইরহাটে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর নির্মিত গ্রোথ সেন্টার হিসেবে পরিচিতি ৩টি খাদ্য গুদাম ব্যবহার না হওয়ায় দির্ঘদিন ধরে অযতœ আর অবহেলায় পড়ে রয়েছে। অথচ এসব গুদাম সংস্কার করলে শত শত টন খাদ্য শস্য মজুদ রাখা সম্ভব। এলাকাবাসী এসব খাদ্য গুদাম সংস্কার পূর্বক ব্যবহার উপযোগি করার জন্য জোর দাবী জানিয়েছেন।
ধামইরহাট এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে,১৯৭৯ থেকে ৮১ সালের দিকে তৎকালিন সরকার গুরুত্বপূর্ণ ও বড় হাট বাজারের সন্নিকটে এসব গাদ্য গুদাম নির্মাণ করেছিল। লক্ষ্যছিল কৃষকের উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী হাট থেকে সরকারিভাবে ক্রয় করে এসব খাদ্য গুদামে রাখবে। সেই লক্ষে এলজিইডির পক্ষ থেকে ধামইরহাট উপজেলায় ৩টি বড় হাট বাজারে খাদ্য গুদাম নির্মাণ করা হয়েছিল। ২শত ৫০ মে.টন ধারণ ক্ষমতা এসব খাদ্যগুদামগুলো হলো-ধামইরহাট হাটখোলা,মঙ্গলবাড়ী হাটখোলা ও রাঙ্গামাটি হাটখোলা। প্রথম দিকে এসব গুদামে মালামাল রাখা হলেও পরবর্তীতে সরকারের নীতি পরিবর্তন হওয়ায় এসব গুদাম দির্ঘ দিন ধরে অব্যবহিৃত হিসেবে পড়ে রয়েছে। অথচ এসব গুদাম সংস্কার করলে তিনটি গুদামে ৭শত ৫০ মে.টন খাদ শস্য রাখা সম্ভব। বর্তমানে ধামইরহাট উপজেলায় প্রায় ১৬ হাজার ৪শত ৫০ হেক্টর জমিতে ইরি বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে বর্তমানে প্রতিমণ ধান ৬শত ২০ থেকে ৬শত ৩০ টাকা দরে কেনা বেচা চলছে। সরকারিভাবে প্রতি মণ ধানের ক্রয় মূল্য ১হাজার ৪০ টাকা। সরকারি খাদ্য গুদামে কৃষক ধান বিক্রি করতে পারলে ধানের উৎপাদিত খরচ তোলা সম্ভব।
কিন্ত গুদাম সংকটের অজুহাত দিয়ে সরকারিভাবে এ উপজেলায় মাত্র ৫শত ৮ মে.টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ এ তিনটি গুদাম সংস্কার করলে এখানে আরও ৭শত ৫০ মে.টন ধান রাখা সম্বব। এতে কৃষকদের কাছ থেকে বেশি ধান ক্রয় করা যেত। ফলে কৃষক তার পণ্যের ন্যায্য মুল্য পেত। এব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ধামইরহাটের উপজেলা প্রকৌশলী মো.আলী হোসেন বলেন,গ্রোথ সেন্টার হিসেবে পরিচিতি এ তিনটি গুদামের মধ্যে মঙ্গলবাড়ী হাটের গুদাম সংস্কার করলেও ব্যবহার উপযোগি করা সম্ভব নয়।
লোকজন যত্রতত্রভাবে ওই গুদাম ব্যবহার করার ফলে সেটি নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অপরদিকে ধামইরহাট হাটখোলা খাদ্যগুদামটি ২০২১ সাল পর্যন্ত জনৈক ব্যক্তিকে লীজ দেয়া হয়েছে। তবে রাঙ্গামাটি হাটের গুদাম লীজ দেয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন,খাদ্য গুদামগুলো সংস্কারের জন্য উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষ স্থানীয়ভাবে লীজ প্রদান করে গুদামগুলোর সংস্কার কাজ করানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এদিকে এলাকার সুধীমহল সংস্কার পূর্বক এ তিনটি খাদ্য গুদামকে ব্যবহার উপযোগি করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন।#

Share.

About Author

Leave A Reply