নোয়াখালীর হাতিয়ায় অস্ত্রসহ আসামী গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

0

নোয়াখালী প্রতিনিধি : মঙ্গলবার ভোরে নোয়াখালীর হাতিয়ায় অস্ত্রসহ ২২ মামলার আসামী শীর্ষ জলদস্যু ফরিদ কমান্ডারকে গ্রেপ্তার করে কোস্টগার্ড। তবে এটি সাজানো ও মিথ্যা উল্লেখ করে এর প্রতিবাদে জানিয়ে দুপুর দেড়টায় নোয়াখালী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে গ্রেপ্তারকৃত ফরিদের স্ত্রী ইয়াসমিন আকাক্তার ও ছেলে ফয়জুর রহমান জীবন। এ সময় তার আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তারকৃত ফরিদের স্ত্রী জানান, তার স্বামী ফরিদ লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত ইউপি সদস্য এবং রামগতি উপজেলা যুবলীগের সদস্য। তিনি পেশায় একজন মৎস্য ব্যবসায়ী। নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলা ও লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতী উপজেলার সীমানা নিয়ে হাতিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছে। রামগতীর পক্ষে তার স্বামী সক্রীয় বিধায় হাতিয়ার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তার স্বামীর বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে। তার স্বামী ও পরিবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তাদের সম্মান ক্ষুন্ন করার উদ্দেশ্য হাতিয়ার লোকজন র‌্যাব, পুলিশ, কোস্টগার্ড দিয়ে তার স্বামীকে হয়রানী ও নির্যাতন করে আসছে।
তিনি আরো বলেন, আজ (মঙ্গলবার) তার স্বামী নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে কোস্টগার্ড তুলে নিয়ে আসে। এ সময় তার কাছে কোনো প্রকার অস্ত্র পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে কোস্টগার্ড পুরাতন অকেজো কতগুলো অস্ত্র দিয়ে সাংবাদিকদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। এমন অবস্থায় এমন মিথ্যা ও সাজানো ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এর বিচার দাবী করেন তিনি।

হাতিয়ায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলিসহ দস্যু প্রধান গ্রেপ্তার

নোয়াখালী প্রতিনিধি : নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমানে অস্ত্র ও গুলিসহ জলদস্যু প্রধান ফরিদ উদ্দিন কমান্ডারকে গ্রেপ্তার করেছে কোস্টগার্ড। এসময় তার কাছ থেকে তিনটি বন্দুক, তিন রাউন্ড গুলি, একটি চাপাতি ও একটি ছুরিসহ অস্ত্র তৈরির বেশ কিছু সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ভোরে সোলায়মান বাজার এলাকার তার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ফরিদ কমান্ডার লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চরগাজী গ্রামের সালেহ আহমদের ছেলে।
সকাল ৯টায় নোয়াখালী জেলা শহরের সার্কিট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন হাতিয়া কোস্টগার্ডের লে. এম হামিদুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ফরিদ কমান্ডার নদী পথে ডাকাতি, হত্যা, ধর্ষণ ও অপহরণ কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে নোয়াখালীর সদর, সুবর্ণচর, হাতিয়া ও লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, ধর্ষণ, জেলে অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধে ২২টির অধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে হাতিয়া থানায় আরও একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।

নোয়াখালীতে পৃথক ঘটনায় দুই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার, আটক-১
নোয়াখালী প্রতিনিধি : নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরএলাহি ও চরহাজারী ইউনিয়ন থেকে হোসনে আরা বেগম (৪০) এবং জাহান আরা বেগম (৩২) নামের দুই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এদের মধ্যে হোসনে আরা বেগমকে হত্যার অভিযোগে তার স্বামী আব্দুল জলিলকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতরা হলেন, চরএলাহি ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড চরকলমি গ্রামের আব্দুল জলিলের স্ত্রী হোসনে আরা বেগম ও চরহাজারী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ফারুক হোসেনের স্ত্রী জাহান আরা বেগম।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকালে চরফকিরা ১নং ওয়ার্ডের নিজ ঘরের আড়ি সাথে গলা পেছানো ঝুলন্ত অবস্থায় গৃহবধূ জাহান আরা বেগমের লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি মানষিক ভাবে অসুস্থ ছিলেন বলে পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন।
অপরদিকে, চরএলাহি ইউনিয়নের চরকলমি গ্রামের আব্দুল জলিলের দ্বিতীয় স্ত্রী হোসনে আরা বেগম রাতে বাড়ীতে একা ছিলো। সকাল গিয়ে দুপুর হলেও তার কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে বাড়ীর লোকজন ঘরে গিয়ে বিছানাতে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখে। পরে বিষয়টি থানায় অবগত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ উদ্ধার ও মৃত্যুটি রহস্যজনক হওয়ায় তার স্বামী আব্দুল জলিলকে আটক করে।
হোসনে আরার পরিবারের অভিযোগ, আগে হোসনে আরার একটি বিয়ে হয়েছিল। পরবর্তীতে জলিলের সাথে তাকে দ্বিতীয় বিয়ে দেওয়া হয়। পারিবারিক বিরোধের জেরে জলিল তাকে হত্যা করেছে বলে তাদের অভিযোগ।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসাপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। গৃহবধূ হোসনে আরার কান ও মাথার নিছে আঘাতের চিহৃ পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়না তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কোম্পানীগঞ্জে পথচারীকে বাঁচাতে প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর
নোয়াখালী প্রতিনিধি : নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভায় পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খুঁটির সাথে ধাক্কায় প্রাণ গেল মো. এরশাদ (৩৫) এক যুবকের। এসময় নূর নবী (৬৫) ওই পথচারী আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৮ জুন) দুপুর ১টার দিকে ফেনী-বসুরহাট সড়কের মাহজনদিঘী এলাকায় এ দূর্ঘটনা ঘটে। নিহত মো. এরশাদ ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার চন্ডিপুর এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। আহত নূর নবী বসুরহাট পৌরসভার মোহাম্মদপুর গ্রামের মৃত ভুলু মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে মোটরসাইকেল যোগে বসুরহাট বাজার থেকে নিজ বাড়ীর দিকে যাচ্ছিলেন এরশাদ। পথে ফেনী-বসুরহাট সড়কের মাহজনদিঘী এলাকায় পৌঁছলে হঠাৎ করে পথচারী নূর নবী তার মোটরসাইকেলের সামনে পড়ে যান। এসময় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি খুঁটির সাথে গিয়ে ধাক্কা লেগে গুরুত্বর আহত হয় এরশাদ। পরে লোকজন এরশাদকে উদ্ধার করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত পথচারী নূর নবীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান সড়ক দূর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী এরশাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

Share.

About Author

Leave A Reply