নোয়াখালীতে হাসপাতাল-ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা

0

নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলায় ৬ টি হাসপাতাল-ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৩লক্ষ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। এসময় একটি হাসপাতালকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সোমবার (৮জুলাই) দিনব্যাপী (সকাল ১১ট থেকে বিকাল ৪.৩০পর্যন্ত) সেনবাগ ও বেগমগঞ্জ উপজেলায় পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়।
ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন এক্সিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো: রোকনুজ্জামান খান, ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনায় সহযোগিতা করেন, নোয়াখালী সিভিল সার্জন কার্যালয়ে মেডিক্যাল অফিসার ডা. আরাফাত, বিএমএ প্রতিনিধি ডা. দ্বীপন চন্দ্র, ড্রাগ সুপার মাসুদুজ্জামান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক দেবানন্দ সিনহা ও বাখরাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন সেন্টারের কার্যালয়ের ম্যানেজার সগির আহমেদ এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করেন র‌্যাব-১১ লক্ষীপুর ক্যাম্পের অধিনায়ক নরেশ চাকমা।
ভ্রাম্যমান আদালত সুত্রে জানা যায়, সোমবার ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করতে দেখা যায় সেনবাগ উপজেলার হাসপাতাল ও ক্লিনিক গুলোয় মেডিকেল প্রাকটিস এবং প্রাইভেট ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরীজ (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ১৯৮২ বিধি অনুযায়ী তফসিল ক, খ ও গ তে বর্ণিত অবকাঠামো, ৩৬ ধরণের উপকরণ, ডিউটি ডাক্তার, নার্স, জীবন রক্ষাকারী ড্রাগ, ইমার্জেন্সী সেবা, অপারেশন থিয়েটার, অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং হাসপাতাল ক্লিনিক পরিচালনার লাইসেন্সও পাওয়া যায়নি।
এসব হাসপাতাল গুলো ছিল অপরিস্কার। অপারেশন থিয়েটারগুলোর বেডগুলো পাওয়া যায় জং ধরা ও অর্ধ রং বিহীন, অপারেশন থিয়েটারে যেসব ঔষধ থাকার কথা সেই ধরণের ঔষধগুলো যত্রতত্র সংরক্ষণ করা, অপারেশনের জন্য ব্যবহৃত সিজার ও অপর যন্ত্রপাতিগুলোও ছিল জং ধরা, অপারেশনে ব্যবহৃত কাপড় ও বালিশে লেগে ছিল রক্তের দাগ ও তাজা রক্ত। অভিযানের সময় এসব হাসপাতালের কোন ডিউটি ডাক্তার পাওয়া যায়নি। সর্বোপরি অধিক মূল্য গ্রহণ করে সেবার নিম্নমান প্রদান।
ড্রাগ আইন ১৯৪০ অনুযায়ী প্যাথলজি ও ফার্মেসীতে দেখা যায় কোন লাইসেন্স গ্রহণ নাই, ডিগ্রীবিহীন টেকনিশিয়ান দ্বারা ল্যাবগুলো পরিচালনা এবং একই সাথে এসব ল্যাবে নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রা ব্যবহৃত হচ্ছে না। ল্যাবগুলোতে প্রচুর পরিমাণে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ পাওয়া যায়। যা দিয়ে প্যাথলজীর টেস্ট কার্যক্রম করা হচ্ছিল।
এসময় উপজেলার কোন ফার্মেসীতেই ফার্মাসিস্ট পাওয়া যায়নি। ফার্মেসীগুলোতেও বিপুল পরিমান মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ পাওয়া যায়। এক্সরে পরীক্ষার অনুমোদনের জন্য হাসপাতাল গুলোয় পাওয়া যায়নি আনবিক শক্তি কমিশনের অনুমোদন। ক্লিনিক্যাল বর্জ্র ব্যবস্থাপনার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রও এসব প্রতিষ্ঠানে পাওয়া যায়নি। কোন হাসপাতাল-ক্লিনিক-প্যাথলজিকে বর্জ্র ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করতে দেখা যায়নি।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৩৯ধারা অনুযায়ী সেবার মূল্য তালিকা সংরক্ষণের বিষয়ে দেখা যায় প্রায় প্রতিষ্ঠানে যেসব সেবা দেওয়া হচ্ছে তার সকল সেবার নাম ও সেবার মূল্য দেয়া নাই এবং এমনকি অনেক প্রতিষ্ঠানে সেবার মূল্য তালিকাও দেখা যায়নি।
এসব অপরাধের জন্য দি নিই সেন্ট্রাল হাসপাতালকে ড্রাগ আইন ১৯৪০ ও মেডিক্যাল প্যাকটিস এবং বেসরকারী ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ১৯৮২ অনুযায়ী ৮০হাজার, এম এ লতিফ ডায়াবেটিকস হাসপাতালকে ড্রাগ আইন ১৯৪০ অনুযায়ী ৫হাজার, মায়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ড্রাগ আইন ১৯৪০ অনুযায়ী ৬৫হাজার, লাইফ স্কয়ার হসপিটালকে ড্রাগ আইন ১৯৪০ অনুয়ায়ী ৬৫হাজার, নিউ সেনবাগ প্রাইভেট হাসপাতালকে ড্রাগ আইন ১৯৪০ অনুযায়ী ৩০হাজার, সেন্ট্রাল হাসপাতালকে ড্রাগ আইন ১৯৪০ ও মেডিক্যাল প্যাকটিস এবং বেসরকারী ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ১৯৮২ অনুযায়ী ৬৫হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয় । ৬টি হাসপাতাল-ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে মোট ৩লক্ষ ১০হাজার টাকা জরিমানা করা হয় । একই সময়ে নিউ সেনবাগ প্রাইভেট হাসপাতালকে মেডিক্যাল প্যাকটিস এবং বেসরকারী ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ১৯৮২ অনুযায়ী নির্দিষ্ট মানে উত্তরণের পূর্ব পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
অন্যাদিকে, বেগমগঞ্জ উপজেলার শ্রীকৃষঞ্চ মিষ্টান্ন ভান্ডারকে অপরিস্কার ও অপরিচ্ছন্নতার এবং মেয়াদ বিহীন পণ্য বিক্রয়ের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ অনুযায়ী ৬০হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
সোমবার দিনব্যাপী (সকাল ১১ট থেকে বিকাল ৪.৩০পর্যন্ত) সেনবাগ ও বেগমগঞ্জ উপজেলায় পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালতে হাসপাতাল-ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও মিষ্টান্ন ভান্ডার সহ ৭টি প্রতিষ্ঠানকে মোট জরিমানা ৩লক্ষ ৭০হাজার টাকা।

Share.

About Author

Leave A Reply