মাধবদীতে ‘জন্মদাতা’ বাবার কাছেই ধর্ষণের শিকার ১২ বছরের শিশু কন্যা

0

মোঃ আল আমিন, মাধবদী (নরসিংদী) সংবাদদাতা : এবার জন্মদাতা পিতার কাছেই বারবার ধর্ষিত হয়েছে তার ঔরসজাত ১২ বছর বয়সী শিশু কন্যা। মাধবদী পৌর এলাকার আনন্দী গ্রামের ভাড়াটিয়া মমিন মিয়ার জোরপূর্বক ধর্ষনের শিকার হয়েছে তারই ঔরসজাত একমাত্র ১২ বছরের শিশু কন্যা। মাত্র ১২ বছর বয়সের ওই শিশুকন্যাটি স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী। স্কুল পড়ুয়া ১২ বছরের শিশু কন্যাকে তার মায়ের অজান্তে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে নরপশু পাষন্ড পিতা নিজ শিশু কন্যাকে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে বেশ কয়েক মাস ধরে টানা ধর্ষণ করে আসছিলো। পরে নিরুপায় হয়ে গত ১৪ জুলাই রোববার দুপুরে শিশুটির মা জাহানারা বেগম তার শিশু কন্যাকে সাথে নিয়ে মাধবদী থানায় এসে নিজে বাদী হয়ে শিশুটির জন্মদাতা পিতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগ পেয়েই মাধবদী থানা পুলিশ ঔই দিনই তাৎক্ষণিক ভাবে অভিযান চালিয়ে পাষ- পিতা মমিন মিয়া (৩৫) কে আনন্দী গ্রামের ভাড়াটিয়া বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজ কন্যাকে গত তিন মাস যাবৎ একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ স্বীকার করেছেন গ্রেফতারকৃত নরপশু পিতা মমিন মিয়া। লম্পট মমিন মিয়া কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরি নারায়নপুর এলাকার মৃত মিরাজুল ইসলামের ছেলে। সে পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। কাজের সুবিধার্থে গত ৫ বছর ধরে পরিবার নিয়ে মাধবদী থানার আনন্দী এলাকার হোসেন মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত মমিন ও ভুক্তভোগী জাহানারা বেগমের একটি মেয়ে। সে মাধবদীর বিদ্যাকানন মডেল স্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ে। মা জাহানারা বেগম একটি পাওয়ারলোম ফ্যাক্টরিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। গত ৪ মাস ধরে জাহানারা বেগম যখন কাজে চলে যেতেন তখন তার অনুপস্থিতিতে স্কুল পড়ুয়া কন্যাকে তার মায়ের অজান্তে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে পাষ- পিতা দিনের পর দিন মেয়েকে ধর্ষণ করতেন নরপশু লম্পট পিতা মমিন মিয়া। ওই কিশোরী তার মাকে এ ঘটনা জানালেও লোক লজ্জার ভয়ে মা জাহানারা বিষয়টি তিনি গোপন রাখেন। এরপর থেকে প্রায় সময়ই নিজ মেয়েকে ধর্ষণ করতেন মমিন। নিরুপায় হয়ে মেয়েটির মা জাহানারা বেগম গত রোববার মাধবদী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে ঔই দিনই মমিন মিয়াকে পুলিশ গ্রেফতার করেন। মাধবদী থানার ওসি আবু তাহের দেওয়ান বলেন, এ ঘটনায় ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ধর্ষণের শিকার কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত আসামী মমিন মিয়াকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে জানাগেছে।
যে বাবাকে ধরা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়, নির্ভরতা আর ভরসার জায়গা, সেই বাবা নরপিশাচ পাষন্ড হয়ে দিনের পর দিন নিজের শিশু মেয়েকেই নির্যাতন করেছে। জানি সত্যের চেয়েও ভয়াবহ এই বাস্তবতা মেনে নেওয়া খুবই অকল্পনীয় যন্ত্রণা আর ক্ষোভের! কিন্তু তবুও যদি আমরা সত্যকে এড়িয়ে এইটা আসল বাবা না সৎ বাবা? মেয়ে এতদিন কেন বলে নাই? মা এত দিন কই ছিল? কেন দেখে নাই? ইত্যাদি নানা প্রশ্নের বানে পুরো ঘটনাই ঘোলাটে করে ফেলি, অবিলম্বে বাবা নামের এই নরপিশাচ ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না চেয়ে বরং মেয়েটাকেই দোষারোপ করে যাই, তাহলে দিন শেষে আমরা একটা অপরাধকে ঢেকে হালকা করে দিলাম, ঘটে যাওয়া সত্যটা অস্বীকার করে বরং সাহায্য করলাম ধর্ষককেই!

Share.

About Author

Leave A Reply