বায়োমেট্রিক পরিচয়পত্র পেয়েছে ৫ লাখ রোহিঙ্গা

0

নিজস্ব প্রতিবেদক :
কক্সবাজার : মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা পাঁচ লাখের বেশি বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে তৈরি পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছেন।
বাংলাদেশ সরকার এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা-ইউএনএইচসিআর যৌথভাবে নিবন্ধিত করেছে এ সকল রোহিঙ্গাদের।
বায়োমেট্রিক তথ্য সম্বলিত এ পরিচয়পত্র নকল বা জাল করা সম্ভব নয়। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থানকারী ১২ বছরের অধিক বয়সী তথ্য-যাচাই করা সকল মিয়ানমার নাগরিককে এ পরিচয়পত্র দেয়া হচ্ছে।
ইউএনএইচসিআর বলছে, এটিই কোনো কোনো রোহিঙ্গার জীবনে প্রথম পরিচয়পত্র প্রাপ্তি। পরিচয়পত্রটি রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সহায়তার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইউএনএইচসিআর-এর মিডিয়া কমিউনিকেশন অফিসার জোসেফ ত্রিপুরার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইউএনএইচসিআর-এর তথ্যমতে, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে নয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে। এর মধ্যে ২০১৭ সালের আগস্টে ৭ লাখ ৪০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নেয়। এ সকল রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ সরকার এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা-ইউএনএইচসিআর যৌথভাবে নিবন্ধন কার্যক্রম করার উদ্যোগ নেয়। বায়োমেট্রিক তথ্য সম্বলিত এ পরিচয়পত্রের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৮ সালের জুন মাস থেকে।
বর্তমানে বিভিন্ন ক্যাম্পে স্থাপিত সাতটি কেন্দ্রে প্রতিদিন ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে বায়োমেট্রিক তথ্য সম্বলিত নিবন্ধন করা হচ্ছে। আগামী ৩ মাসের মধ্যে সকল রোহিঙ্গা নিবন্ধন কার্যক্রমের আওতায় আনতে ৫৫০ জনের বেশি কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
ইউএনএইসিআর-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি স্টিভেন করলিসের বরাত দিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এটি নিবন্ধন কর্মকা-ে উল্লেখযোগ্য মাইফলক। এই কার্ড থাকায় নিবন্ধিত শরণার্থীরা আরো নিরাপদ বোধ করবে এবং বাংলাদেশে অবস্থানকালে তাদের প্রয়োজনীয় সেবা নিতে পারবে। এ ছাড়া এই কার্ডে স্পষ্ট করে উল্লেখ রয়েছে, তাদের মূল দেশ মিয়ানমার। তারা যখন নিজ দেশে ফিরে যেতে চাইবে, এই কার্ডটি তাদের নিজ দেশে ফেরার অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
শরণার্থী নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় তাদের মৌলিক তথ্য, পারিবারিক সংযোগ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নথিভুক্ত করা রয়েছে। ইউএনএইচসিআর-এর বায়োমেট্রিক পরিচয় ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (বিআইএমএস) বায়োমেট্রিক তথ্য, যেমন আঙ্গুলের ছাপ, চোখের মনির স্ক্যানকৃত তথ্য সংরক্ষণ করে, যা প্রত্যেক শরণার্থীর অনন্য পরিচয় নিশ্চিত করবে।
স্টিভেন করলিস বলেন, নিবন্ধন প্রক্রিয়া বাংলাদেশে অবস্থানরত শরণার্থীদের সম্পর্কিত তথ্যের যথাযথতা নিশ্চিতের পাশাপাশি জাতীয় কর্তৃপক্ষ এবং মানবিক সংস্থাকে শরণার্থী জনগোষ্ঠী এবং তাদের প্রয়োজন সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেবে।

Share.

About Author

Leave A Reply