মার্কিন অনুরোধ না শুনে ইরানি ট্যাংকার ছেড়ে দিল জিব্রাল্টার

0

সবুজবাংলা ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গত মাসে জিব্রাল্টার প্রণালি দিয়ে সিরিয়া যাওয়ার সময় আটক করা ইরানি তেলবাহী জাহাজটি ছেড়ে দিয়েছে জিব্রাল্টার সরকার।
‘গ্রেস ওয়ান’ নামের তেলের ট্যাংকারটি না ছাড়তে যুক্তরাষ্ট্রের শেষ মুহূর্তের অনুরোধ উপেক্ষা করে জাহাজটি ছাড়ার ঘোষণা দেয় জিব্রাল্টার সরকার।
সিরিয়ায় জাহাজটি থেকে কোনো কার্গো নামানো হবে না— ইরানের কাছ থেকে এমন লিখিত নিশ্চয়তা পেয়েছে যুক্তরাজ্যের অন্তর্ভূক্ত জিব্রাল্টার কর্তৃপক্ষ।
জিব্রাল্টার প্রণালি দিয়ে সিরিয়া যাওয়ার সময় গত ৪ জুলাই ব্রিটিশ মেরিন সেনা ও জিব্রাল্টারের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় ইরানের তেলবাহী ট্যাংকারটি আটক করে জিব্রাল্টার বন্দর কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকেই লন্ডনের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে তেহরান।
জিব্রাল্টারের মুখ্যমন্ত্রী ফ্যাবিয়ান পিকারডো এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, একটি স্বাধীন আইনি কমিটি ইরানের তেলের ট্যাংকারটি না ছাড়তে মার্কিন প্রশাসনের অনুরোধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তেলের ট্যাংকারটি জিব্রাল্টার প্রণালিতেই অবস্থান করছিল। এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে জাহাজটির সামনের অংশ প্রায় ১৮০ ডিগ্রি ঘোরানো ছিল। তবে সাগরের তীব্র স্রোতের কারণে নাকি প্রণালি ত্যাগের প্রস্তুতি হিসেবে এমনটা হয়েছে তা স্পষ্ট নয় বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ দপ্তরের (এফসিও) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ট্যাংকারটি সিরিয়ায় না পাঠানোর বিষয়ে ইরানের দেওয়া লিখিত অঙ্গীকারনামা অবশ্যই দেশটিকে মেনে চলতে হবে।
সিরিয়ার শাসকগোষ্ঠি ‘নিজেদের জনগণের ওপর রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করছে’ বলে জানায় এফসিও।
ইরানের ট্যাংকারটি যেন জিব্রাল্টার না ছাড়ে সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চেষ্টার নিন্দা জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ। এক টুইটে জারিফ লেখেন, ‘ক্যানসার রোগীদের অষুধ থেকে বঞ্চিত করার মতো অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদের মাধ্যমে নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে ব্যর্থ হয়ে খোলা সাগরে আমাদের সম্পদ চুরি করার জন্য আইনি ব্যবস্থার অপব্যবহার করার চেষ্টা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এ ধরনের জলদস্যুবৃত্তি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আইন অবমাননারই বর্হিপ্রকাশ।’ করেছিল বলে জারিফ জানান
ইরানের তেলের ট্যাংকারটি আটক হওয়ার সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই পারস্য উপসাগরে স্টেনা ইমপেরো নামের ব্রিটিশ পতাকাবাহী একটি ট্যাংকার আটক করে ইরান। গ্রেস ওয়ান ছাড়া পেলে ব্রিটিশ ট্যাংকারটিও ইরান ছেড়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্কে দ্রুত অবনতি হতে থাকে। গত মাসে দেশ দুটি যুদ্ধে প্রায় জড়িয়েই পড়ছিল।

Share.

About Author

Leave A Reply