তুহিনকে তার বাবা হত্যা করেছে বিশ্বাস করতে পারছেনা তুহিনের মা

0

নিজস্ব প্রতিবেদক :
সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় পাঁচ বছরের শিশু তুহিন হত্যায় তার বাবা আব্দুল বাছিরের জড়িত থাকার বিষয়টি কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছেন না মা মনিরা বেগম। বাবার কোলেই প্রতিদিন ঘুমাতো তুহিন, সেই বাবাই হত্যা করেছে এ কথা সে মানতে নারাজ। তবে অপরাধী যেই হোক না কেন তাদের শাস্তি দাবি করেছেন মনিরা।
বুধবার বিকেলে দিরাই উপজেলার কেজাউরা গ্রামে তুহিনের মা মনিরা বেগমের সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের কথা হয়। এ সময় সদ্যজাত কন্যা সন্তানকে কোলে নিয়ে কথা বলার শুরুতেই কেঁদে ফেলেন মনিরা।
কিছুক্ষণ কান্নার পর মনিরা বেগম বলেন, তুহিন আমাদের আদরের সন্তান। তাকে হত্যায় তার বাবা জড়িত এ কথা আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। তুহিন হত্যার ঘটনা কিছুতেই মানতে পারছি না আমি।
তিনি বলেন, দুই বছর বয়স থেকে তুহিন তার বাবার সঙ্গে ঘুমায়। কোনোদিন তুহিনকে মারধরও করেননি তার বাবা। রোববার রাতে খেয়ে সন্তানদের নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি আমরা। রাত ১০টার দিকে ঘুম থেকে উঠে দেখি বাবার সঙ্গে ঘুমাচ্ছে তুহিন। ওটাই জীবিত তুহিনকে আমার শেষ দেখা। রাত আড়াইটার দিকে ঘরের দরজা খোলা দেখি। এরপর সবাই জেগে দেখি তুহিন নেই। তখন প্রতিবেশীদের ডাকা হয়। সকালে বাড়ির পাশে রাস্তায় একটি কদম গাছের ডালে তুহিনের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পাই আমরা।
মনিরা বেগম আরও বলেন, ‘আমি জানি না কে বা কারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। মানুষের কাছে শুনছি তুহিনকে তার বাবা হত্যা করেছে। তবে আমি কারও কথা বিশ্বাস করতে পারছি না। যে তুহিন দুই বছর ধরে বাবার কোলে ঘুমাতো সে তুহিনকে ঘরের বাইরে নিয়ে কোলের ওপর হত্যা করতে পারে না বাবা, এটি বিশ্বাস হয় না আমার।’
মঙ্গলবার বিকেলে তুহিনের বাবা আব্দুল বাছির, চাচা আব্দুর মুছাব্বির এবং জমশেদ আলীকে তিনদিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। একই সময় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তুহিনের আরেক চাচা নাছির উদ্দিন ও চাচাতো ভাই শাহরিয়ার।
জবানবন্দিতে তারা জানিয়েছেন, ঘটনার দিন শিশু তুহিনকে ঘুমন্ত অবস্থায় তার বাবা আব্দুল বাছির ঘর থেকে বের করে বাইরে নিয়ে যান। এরপর ঘুমন্ত তুহিনকে গলা কেটে হত্যা করেন চাচা ও চাচাতো ভাই। পরে তুহিনের পেটে দুটি ছুরি বিদ্ধ করে গাছে ঝুলিয়ে দেন তারা। তুহিনকে হত্যায় বাবার সঙ্গে অংশ নেন চাচা নাছির উদ্দিন ও চাচাতো ভাই শাহরিয়ার।

Share.

About Author

Leave A Reply