পাকিস্তানকে ১ উইকেটে হারিয়ে মেয়েদের ইতিহাস

0

ক্রীড়া প্রতিবেদক : পাকিস্তান সফরে বাংলাদেশ নারী দল জয়ের দেখা পাচ্ছিল না একদমই। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর হেরেছিল প্রথম ওয়ানডেতেও। তবে সফরটা জয় দিয়েই শেষ করল বাংলাদেশের মেয়েরা। দ্বিতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে আজ ১ উইকেটের নাটকীয় জয় পেয়েছে রুমানা আহমেদের দল।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের করা ২১০ রান বাংলাদেশ পেরিয়ে যায় এক বল বাকি থাকতে। দুই ম্যাচের সিরিজ শেষ হলো ১-১ সমতায়।
পরপর দুই দিন বড় দুটি সুখবর পেল বাংলাদেশের ক্রিকেট। আগের দিন দিল্লিতে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ভারতকে হারিয়েছেন মুশফিক-মাহমুদউল্লাহরা। যেটি ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের প্রথম জয়।
আজ মেয়েরা জিতল পাকিস্তানে। পাকিস্তানের বিপক্ষে তাদের মাটিতে বাংলাদেশের ছেলে কিংবা মেয়েদের দলের প্রথম জয় এটিই।
এদিন টস জিতে ব্যাট করতে নেমেছিল পাকিস্তান। ৬৫ বলে ৫৮ রানের উদ্বোধনী জুটিতে স্বাগতিকদের ভালো সূচনা এনে দিয়েছিলেন দুই খান- নাহিদা ও জাভেইরা। ২৪ রান করা জাভেইরাকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন রুমানা।
নাহিদা তুলে নিয়েছিলেন ফিফটি। পরে তাকেও ফেরান রুমানা। ৭৯ বলে ৯ চারে নাহিদা করেন ৬৩ রান। নিজের পরের ওভারে রুমানা ফেরান উমাইমা সোহেলকেও।
চতুর্থ উইকেটে ৪৬ রানের জুটি গড়েছিলেন অধিনায়ক বিসমাহ মারুফ ও আলিয়া রিয়াজ। এ জুটি ভাঙার পর নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট হারায় পাকিস্তান। আট বল বাকি থাকতেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। চারজন হয়েছেন রান আউট। আলিয়া ৩৬ ও মারুফ করেন ৩৪ রান।
৩৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সেরা বোলার রুমানা। সালমা খাতুন ৩৬ রানে নেন ২ উইকেট। একটি উইকেট পান্ন ঘোষের।
লক্ষ্য তাড়ায় স্কোর ২৯ রেখে বাংলাদেশ হারায় ২ উইকেট। ওপেনার শামিমা সুলতানা ২৬ বলে ৫ চারে ২৭ করে ফেরার পর ডাক মারেন নিগার সুলতানা।
তৃতীয় উইকেট জুটিতে মুর্শিদা খাতুন ও ফারজানা হক যোগ করেন ৮২ রান। মুর্শিদা ৬৭ বলে ৬ চারে ৪৪ করে ফিরলে ভাঙে এ জুটি। এরপর রুমানা ফেরেন ৩১ রান করে।
ফারজানার ফিফটিতে বাংলাদেশ সহজ জয়ের পথেই ছিল। শেষ ৮ ওভারে ৬ উইকেট হাতে নিয়ে দরকার ছিল ২৪ রান। কিন্তু ফারজানা ৯৭ বলে ৬ চারে ৬৭ করে ফিরতেই হঠাৎ এলোমেলো হয়ে যায় বাংলাদেশ।
ফারজানার পর দ্রতই ফেরেন সালমা, সানজিদা ইসলাম (২০) ও ফাহিমা খাতুন। ৪ উইকেটে ১৮৭ থেকে বাংলাদেশের স্কোর তখন ৮ উইকেটে ১৯৬!
এরপর পান্না ঘোষ যখন নবম ব্যাটার হিসেবে রান আউট হলেন, তখনো জয়ের জন্য চাই ৬ রান। যেটা শেষ ওভারে দাঁড়ায় ৩ রানে। এক বল বাকি থাকতে দলের জয় নিশ্চিত করেন জাহানারা আলম (৭*) ও নাহিদা আক্তার (৪*)।
ম্যাচ সেরা হয়েছেন ফারজানা। সিরিজ সেরার পুরস্কার জিতেছেন যৌথভাবে ফারজানা ও পাকিস্তানের নাহিদা।

Share.

About Author

Leave A Reply