সরকারি খাস জলাশয়ে অবৈধ ভাবে মাছ নিধন করে পুকুর খননের অভিযোগ

0

আতাউর শাহ:
নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর মান্দা উপজেলার ঐতিহ্যবাহি আন্দইল বিলে কতিপয় প্রভাবশালীরা বিষ প্রয়োগ করে কোটি টাকার মাছ নিধন করে শত শত বিঘা সরকারি খাস জলাশয় অবৈধ ভাবে দখল করে ভেঁকু মেশিন দিয়ে পুকুর খনন করছে বলে অভিযোগ স্থানীয় মৎস্যজীবিদের। এতে করে মুক্ত জলাশয় থেকে মাছ ধরতে না পারায় কয়েক হাজার মৎস্যজীবি পরিবার পরিজন নিয়ে পথে বসতে চলেছে।
স্থানীয়রা জানান, জেলার বৃহত্তর মান্দা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের কয়েক হাজার বিঘা জমি নিয়ে অবস্থিত আন্দইল বিল। শত বছর ধরে বিলের আশেপাশের প্রায় তিনটি মৎস্য সমবায় সমিতির প্রায় ৩ হাজার সরকারি নিবন্ধনধারী মৎস্যজীবীরা এই মুক্ত জলাশয় থেকে বছরের ৬মাস মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে।
স্থানীয় মৎস্যজীবিরা জানান, উপজেলার শাঁটিল গ্রামের সূর্যকান্তে ছেলে উজ্জ্বল কুমারের নেতৃত্বে কতিপয় প্রভাবশালীরা বছর খানেক থেকে হাজার হাজার মৎস্যজীবিদের বাধা উপেক্ষা করে বিলের মাঝে অবৈধ ভাবে জবর দখল করে প্রায় শতাধিক বিঘা জমিতে বিশাল আকারে একাধিক পুকুর খনন করে।
নতুন করে অবৈধ ভাবে পুকুর খনন কাজে মৎস্যজীবীরা বাধা দিলে তারা তাদের নানা রকমের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় মৎস্যজীবিদের ।
অবৈধ ভাবে পুকুর খনন বন্ধে মৎস্য সমবায় সমিতির পক্ষ থেকে সাম্প্রতি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তারপরেও প্রভাবশালীরা পুনরায় নতুন করে কোটি কোটি টাকার প্রাকৃতিক মাছ নিধন করে পুকুর খনন শুরু করে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানোর পাশাপাশি মৎস্য জীবিদের বাধার মুখে প্রভাবশালীরা পুকুর খনন বন্ধ করে দেয়।
বিলটিতে নতুন করে পুকুর খনন বন্ধ ও খনন করা পুকুর উচ্ছেদ করে বিলকে পুনরায় মুক্ত জলাশয়ে পরিনত করার দাবীতে শালদহ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি, পলাশবাড়ী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি, পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের ভারশোঁ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি ও ভারশোঁ একতা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নেতৃবৃন্দ আন্দইল বিলে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে বুধবার (২০ মে) সকালে মানববন্ধন করেছে।
শালদহ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারন সম্পাদক নির্মল কুমার হালদার বলেন, সরকারের খাস খতিয়ান ভুক্ত আন্দইল বিলের উন্মুক্ত জলাশয়ে আমরা বাপ-দাদার আমল থেকে বর্ষা মৌসুমে মৎস্য আহরণ করে প্রায় ৩হাজার পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। হঠাৎ করেই উপজেলার শাঁটইল গ্রামের সূর্যকান্তের ছেলে উজ্জ্বল কুমার বেআইনি ভাবে ভেঁকু মেশিন দিয়ে জোর পূর্বক এই বিলের মাঝে বিশাল দীঘি খনন করছে।
পলাশবাড়ি গ্রামের মৎস্যজীবী কৃষ্ণ, হরিনাথসহ অনেকেই বলেন এভাবে যদি উজ্জ্বল কুমার বিলের মাঝে বিশাল দীঘি খননের কাজ করতেই থাকে তাহলে আমরা পরিবার নিয়ে না খেয়ে মারা যাবো। এটা উন্মুক্ত জলাশয় এটা উন্মুক্ত হিসেবেই রাখতে হবে। তাই আমাদের দাবি এখানে কোন দীঘি খনন করা যাবে না। এছাড়াও বাধা দিতে গেলেই প্রভাবশালীরা বিভিন্ন রকমের হুমকি-ধামকী প্রদান করা অব্যাহত রেখেছে।
এবিষয়ে উজ্জ্বল কুমার বলেন, আমি জমির প্রকৃত মালিকদের কাছ থেকে জমি গুলো ১০বছরের জন্য লিজ নিয়ে এতে পুকুর খনন করছি। মৎস্য জীবিরা অন্যায় ভাবে আমার কাজে বাধা দিচ্ছে। তিনি বলেন এবিষয়ে হাইকোর্টের একটি রায় আছে আমার পক্ষে।
মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হালিম বলেন আমার কাছে অভিযোগ আসার পরই আমি বিলে পুকুর খনন কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। এছাড়াও হাইকোর্টে চলা মামলার কাগজপত্রাদি আমি পেয়েছি। পরবর্তিতে সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও কয়েক হাজার জেলেদের জীবন-জীবিকা নিশ্চিতকরণে অচিরেই এই বিলে সকল ধরনের কৃত্রিম পুকুর খননের কাজ চিরস্থায়ীভাবে বন্ধ করা হোক এমনটাই দাবী স্থানীয়দের।

নওগাঁয় পুলিশ ও শিশুসহ নতুন করে ৬জন করোনায় আক্রান্ত
নওগাঁ প্রতিনিধি:বর্তমান রাজশাহী বিভাগের মধ্যে নওগাঁ জেলা করােনা ভাইরাসে আক্রান্তের হটস্পট পরিণত হয়েছে। জেলায় প্রতিদিনই বাড়ছে করােনা ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। তবুও মানুষরা করােনা ভাইরাস প্রতিরােধের নিয়ম-কানুনগুলাে সঠিক ভাবে পালন করছে না। অনেকটা স্বাভাবিক মনে হচ্ছে জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার মানুষদের জীবন যাত্রা।
নওগাঁয় গত ২৪ঘটায় ৮বছরের ১ শিশু, ১ স্কুল শিক্ষার্থী ও ৩জন পুলিশ সদস্যসহ নতুন কর ৬জন করােনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।
নওগাঁর ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা: মঞ্জুর-এ-মাের্শেদ মঙ্গলবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আক্রান্তদের মধ্যে নওগাঁ সদরের ১পুলিশ সদস্য ও ১ স্কুল শিক্ষার্থী, পতœীতলা থানার ২পুলিশ সদস্য ও ১জন সাধারন মহিলা ও মহাদেবপুর উপজেলার ৮বছরের এক শিশু রয়েছে। শিশুটি তার পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে করােনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। করােনায় আক্রান্ত সবাইকে হােম কােয়ারটিনে রাখা হয়েছে।
এ পর্যন্ত জেলায় ৮৯জন করােনায় আক্রান্ত হয়েছে। এরমধ্যে ১৬জন সুস্থ হয় বাড়ি ফিরেছেন।

Share.

About Author

Leave A Reply