মেহেরপুরে আম্ফান এর তান্ডবে ঘর বাড়ি ভাংচুর ॥ আম-লিচু ও উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

0

মেহের আমজাদ,
মেহেরপুর : ঘূর্ণিঝড় আম্ফান এর তান্ডবে ঘর বাড়ি ভাংচুর সহ চাষিদের ব্যাপক ক্ষতি করে গেছে। বিশেষ করে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন আম-লিচুর চাষিরা। বুধবার দিবাগত রাত পোনে ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত মেহেরপুরের উপর দিয়ে বয়ে যায় আম্ফান। বাতাসের গতিবেগ ছিল ৬০ থেকে ৮০ কিঃ মিঃ। এতে মেহেরপুরে ফল ও উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে আম ও লিচুর। এ ছাড়া জেলায় ছয় শতাধিক ঘর বাড়ি ভাংচুর হয়েছে।
মেহেরপুর জেলা প্রশাসক মোঃ আতাউল গনি জানান, জেলার তিন উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ৬২০টি পরিবার আংশিক ও ২৫০ পরিবার সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আম্ফানে দুর্গত মানুষের সংখ্যা ২১ হাজার। পাঁচশতাধিক ঘর বাড়ি আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তাদের পূনর্বাসনের জন্য তালিকা তৈরির কাজ চলছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্থ আম চাষীদের পূনর্বাসন করার প্রক্রিয়া চলছে।
মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কামরুল হক মিঞা জানান, জেলায় এবছর ২ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আম এবং ৬৩০ হেক্টর জমিতে লিচু, এক হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে কলার আবাদ করেছেন চাষীরা। এর মধ্যে আম-লিচু ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কলা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে ২০ শতাংশ। এছাড়া ৯৮ শতাংশ ধান হার্ভেষ্টিং হয়ে যাওয়ায় ধানের তেমন ক্ষতি হয়নি। ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের হিসাব নিকাশ করে খামারবাড়িতে পাঠানো হবে।
আম চাষি সাখাওয়াত হোসেন জানান,ঝড়ে আমের ডালপালা ভেঙে পড়েছে। গাছ থেকে পড়ে গেছে অধিকাংশ আম। একদিকে করোনা অন্যদিকে আম্ফান ঝড়ে আম চাষিরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। মেহেরপুর সদরের ঝাউবাড়িয়া গ্রামের লিচু চাষি রায়েদুল জানান, তার চার বিঘা জমিতে লিচু ছিল। বুধবার দিবাগত গভির রাতে ঝড়ে ৬০ ভাগ গাছের লিচু ফেটে গেছে। গাছ থেকে লিচু ঝরে পড়েছে। এ বছর করোনার কারণে বাইরের জেলা থেকে কোনো ব্যবসায়ী জেলায় আসেনি। যার কারণে আগাম লিচুর বাগান বিক্রি করতে পারেননি। মেহেরপুরের সদরের কলা চাষি রাশিদুল জানান, তিনি এ বছর তিন বিঘা জমিতে কলার আবাদ করেছেন। তার ৮৫ ভাগ কলার গাছ ভেঙে পড়েছে। তিনি এ বছর ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বেন।

Share.

About Author

Leave A Reply