মহা ঔষধি গুণ সম্পন্ন শিমুল গাছ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে

0

মোঃ লোকমান হোসেন:
সবুজবাংলা২৪ডটকম, পার্বত্য অঞ্চল : সৌরভ নেই- নেই কোন গন্ধ, আছে ঔষধি গুণ ও আকর্ষণ। তবে আবহমান গ্রাম’বাংলার শিমুল ফুলের গাছের সারি সারি চিরন্তন এক রুপ সুন্দর আজ হারিয়ে যেতে বসেছে।
শিমুল ফুল ড্রইং রুমের ফুলের তোড়ায় স্থান পাবার যোগ্যতা কোনদিনই পায়নি আর পাবেও না। কিন্ত শিমুল গাছ গ্রামবাংলার মানুষের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনয়নে এক বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে বা রাখে বলে জ্ঞানী ও খুনিরা বলেন।
সারিবদ্ধভাবে বা বিক্ষিপ্তভাবে কাঁটাযুক্ত শিমুল গাছ গ্রামবাংলার সর্বত্রই কমবেশি নজরে পড়ে। তবে লালচে তাম্র বর্ণের মাটিতে টিলা আকারের স্থানে শিমুল গাছ বেশি জন্মায়। বীজ থেকে চারা ফুটে বের হবার পর থেকে ৭/৮ বছরের মধ্যেই শিমুল গাছে ফুল ফোটে ও ফল ধরে। তবে গাছের বয়স প্রাপ্তি হয় ১০/১২ বছর পর।
কালের বিবর্তনে বর্তমানে, পাহাড় বা পার্বত্য অঞ্চলের জেলা গুলো থেকে হারিয়ে যাচ্ছে, গ্রাম বাংলার শোভা ও ঐতিহ্য বর্ধনকারী শিমুল গাছ। মনমুগ্ধকর শিমুল ফুল নিয়ে রচিত হয়েছে গান, কবিতা ও নানা রকম গল্প।
বর্তমান সময়ের অনেক শিশুই চিনেনা শিমুল ফুল এমনি সামনে পরে অনেক। অতীতে বা এখনো বৃদ্ধ বয়সের মানুষের কাছে গল্প শুনি গ্রামের মানুষ প্রাকৃতিকভাবে গজিয়ে উঠা শিমুলের তুলা দিয়ে লেপ, তোষক, বালিশ ইত্যাদি তৈরি করত। যা ছিল খুবই আরামদায়ক এবং স্বাস্থ্যসম্মত। শিমুল গাছ কমে যাওয়ার ফলে স্বাস্থ্যসম্মত তুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মানুষ।
অপরদিকে শিমুল তুলা বাজারে বিক্রি করে একটি বড় অংকে বাড়তি আয় করতে পারতো কৃষক।
এ ছাড়াও শিমুল গাছ গ্রামাঞ্চলে ঔষধি গাছ হিসাবে সুপরিচিত ছিল এ শিমুল গাছ, শিমুলের মূল বিভিন্ন রোগের ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হতো বা এখনো হয় অনেক বয়স্করা বলেন। কিন্তু উপকারী এই গাছটি বিলুপ্তির পথে। শিমুল গাছের চারা রোপণে কৃষকের উদাসীনতার পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি কোনো উদ্যোগ না থাকায় বিলুপ্তির কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
স্থানীয় মুরুব্বীরা জানান , প্রায় ১০-১৫ বছর আগেও উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার পাশে বাড়ির আনাচে কানাচে চোখে পড়ত অসংখ্য শিমুল গাছ। আর এসব গাছে ফুটন্ত শিমুল ফুলের সমারোহ, অনুভব হইতো প্রাকৃতিক বসন্তের ইশারা এসেছে। ফুলে ফুলে পুরো এলাকা এক অপরূপ রূপে সজ্জিত হয়ে উঠতো। এখন তা নেই বললেই চলে, দিন দিন শিমুল গাছ কমে যাওয়ায় দেশি তুলা খুজে পাওয়াই অসম্ভব প্রায়। যদিও পাওয়া যায় তবে দাম আকাশ জুয়া। ১০ বছর পূর্বের কথাও যদি বলি, প্রতি কেজি শিমুল তুলা বিক্রি হতো প্রায় ৮০-১২০ টাকায়। এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৪৫০ টাকায়।
শিমুল গাছ সাধারণ ৭০/৮০ হাত লম্বা ও ৬/৭ হাত বা তদুর্ধ মোটা আকারের হয়ে থাকে। বন্যার পানি বা খরায় এর কোন ক্ষতি হয়না। বাঁচেও শতাব্দির পর শতাব্দি কাল পর্যন্ত। মাঘ ফাল্গুন মাসে এ গাছে ফুল ফুটে। আগুন ঝরা এই ফাগুনে শিমুল ফুল অন্যরকম সুন্দর্য্যের অন্যান্য উপসর্গ হয়ে উঠতো। চৈত্র বৈশাখের মাঝামাঝি সময়ে ফল পরিপক্ক হয়। এগুলি সংগ্রহ করে রোদে শুকিয়ে নিলে এর ভিতর থেকে বেড়িয়ে আসে সাদা ধবধবে শিমুল তুলা।
শিমুলের আরো গুরুত্বপূর্ণ গুনাগুণ আছে- শিমুল গাছের ছালও বিষফোঁড়া নিরাময়ে মহৌষধ। কবিরাজগণ পুরনো শিমুল গাছের ছাল চূর্ণ করে তাতে পুরানো গাওয়া ঘি মিশ্রিত করে বিষফোঁড়ার উপর প্রলেপ দিয়ে থাকে। তাছাড়া শিমুল মুলের কুচি কুচি চূর্ণ রাতে পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে ঘুম থেকে উঠে গুড়সহ খালি পেটে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময় হয়। এমনকি বলবর্দ্ধকও বটে- মন্তব্য করেছেন অনেক কবিরাজগণ। শিমুলের কচি কাঠ দিয়াশলাইয়ের কাঠি তৈরিতে উৎকৃষ্ট উপাদান হিসাবে বিবেচিত। শিমুল তুলার বীজ থেকে কোন ভোজ্য তেল তৈরি সম্ভব কিনা তাও পরীক্ষা- নিরীক্ষার দাবি রাখে।

Share.

About Author

Leave A Reply