মসজিদে নামাজের আগে-পরে জমায়েত নয় : মন্ত্রণালয়

0

নিজস্ব প্রতিবেদক :
সবুজবাংলা২৪ডটকম, ঢাকা : বর্তমানে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ায় দেশের সব মসজিদে জুমা, ওয়াক্তের নামাজ এবং অন্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রার্থনার আগে ও পরে গণজমায়েত নিরুৎসাহিত করাসহ বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
বুধবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে নামাজ বা প্রার্থনার আগে-পরে যেকোনো ধরনের সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের সব মসজিদে জুমা ও ওয়াক্তের নামাজ এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রার্থনার আগে ও পরে গণজমায়েত নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। সঙ্গে আরও কিছু শর্ত প্রতিপালনের জন্য ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে সব ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিকে অনুরোধ করা হচ্ছে।
জুমা ও অন্যান্য ওয়াক্তের নামাজ এবং প্রার্থনার আগে ও পরে মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কোনও সভা সমাবেশ করা যাবে না। মসজিদে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে তারাবিসহ অন্যান্য নামাজ আদায় এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে প্রার্থনা করতে হবে।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ২৯ মার্চের (২০২১) প্রজ্ঞাপন এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ৪ এপ্রিলের (২০২১) নির্দেশনা মোতাবেক ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক ৫ এপ্রিল জারি করা সব নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট সবাইকে মেনে চলতে হবে।
এসব নির্দেশনা লঙ্ঘিত হলে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের পরিচালনা কমিটিকে উল্লিখিত নির্দেশনা বাস্তবায়ন করার জন্য অনুরোধ জানানো হলো।
এর আগে সোমবার এক নির্দেশনায় মসজিদে নামাজ আদায়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
এতে বলা হয়, করোনাভাইরাসের কারণে মুসল্লিদের জীবনের ঝুঁকি বিবেচনা করে মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখতে হবে এবং আগত মুসল্লীকে অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে।
প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে ওজু করে, সুন্নাত নামাজ ঘরে আদায় করে মসজিদে আসতে হবে এবং ওজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।
জামাতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দিয়ে পরিস্কার করতে হবে। মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন।
জামাতে আগত মুসল্লিদের অবশ্যই মাস্ক পরে আসতে হবে। মসজিদে রাখা জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না। নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে এবং এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে।
শিশু, বৃদ্ধ, যেকোনো ধরনের অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি জামাতে অংশগ্রহণ করবেন না।

Share.

About Author

Leave A Reply