মঠবাড়িয়ায় মাদ্রাসার সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সুপারের ঘুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন

0

নিজস্ব প্রতিনিধি :
সবুজবাংলা২৪ডটকম, মঠবাড়িয়া : নিয়মবহির্ভূত লাইব্রেরিয়ান, আয়া, মাদ্রাসায় পরিচ্ছন্নকর্মী নিয়োগে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহণ এবং প্রতিষ্ঠানের নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে রোববার (৭ নভেম্বর) মধ্য দেবত্র এন ইসলাম দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি ইলিয়াস খান ও ভারপ্রাপ্ত সুপার এনামুল হকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঘণ্টাব্যাপী কয়েকশ লোক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। ঘটনাটি ঘটেছে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার দাউদখালী ইউনিয়নের মধ্য দেবত্র এন ইসলাম দাখিল মাদ্রাসায়।
স্থানীয় বাচ্চু আকনের সভাপতিত্বে বক্তারা বলেন, তারা দুজনে ২৫ লাখ টাকা প্রার্থীদের কাছ থেকে সুকৌশলে হাতিয়ে নিয়েছেন। কোন আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই ম্যানেজিং কমিটির লোকজনকে ভুল বুঝিয়ে বা কারো স্বাক্ষর জাল করে ওই নিয়োগের তারা বৈধতা দেন। পরে আমরা এলকাবাসী ও প্রার্থীদের স্বজনদের থেকে অবগত হই যে, তাদের এ চাকুরী পেতে অনেক টাকা গুনতে হয়েছে। ১৯৮৬ সন থেকে ২০১৯ ইং সন পর্যন্ত দীর্ঘদিন অত্র মাদ্রাসার সাবেক সুপার মাও. জিয়াউল হক ফারুকি সাহেব সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। যার বিরুদ্ধে আমাদের কোন ধরনের অভিযোগ ছিল না। তার অবসর নেয়ার পর থেকে এদের অনিয়ম ও ঘুষ দূর্নীতির যাতাকলে পিষ্ট হয়ে মাদ্রাসাটি দিন দিন অতল গহবরে হারিয় যাচ্ছে। করোনা কালীন ছাত্র ছাত্রীদের অ্যাসাইনমেন্ট পরীক্ষা তাদের নিজ হাতে না দেয়ার শর্তে সুপারের দুই হাজার টাকা গ্রহন, ছাত্রীদের উপবৃত্তি টাকা বাবদ প্রত্যেক ছাত্রী থেকে এক হাজার টাকা গ্রহণ, ফরম ফিলাপের অর্থ আত্মসাৎ সহ সকল ধরনের উন্নয়ন ও সংস্কারের তহবিল সুপার আত্মসাৎ করে আসছেন।
তারা আরো বলেন, কারণিক আমিনুল ইসলাম আল আমিন আমাকে নিয়ম মাফিক অফিসিয়াল কাগজ পত্র বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। ফাইল পত্র যা কিছু সবই সুপারের আলমারিতে অফিস চলাকালীন ও তালাবদ্ধ থাকে। আমি শুধু টেবিল চেয়ারের পাহারাদার মাত্র। আমি আমার যথার্থ দায়িত্ব বুঝে নিতে চাইলে কথায় কথায় আমাকে সুপার হুমকি দিয়ে আসছেন। মানববন্ধন কালীন আমাকে তিনি হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে দেন নি এবং আমাকে অনুপস্থিত দেখিয়েছেন। অপরদিকে মানবন্ধনের পর পর সভাপতি ও সুপার তাদের অনিয়ম ধামাচাঁপা দিতে ম্যানেজিং কমিটি ও এলাকাবাসী যাতে প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতে না পারে সে লক্ষে এলাকা থেকে কিছু উৎশৃংখল নারীদের প্রতিষ্ঠানের প্রবেশ পথে দাঁড় করিয়ে বাঁধার সৃষ্টি করলে সেখানেও এলাকা বাসির মনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সভাপতি ইলিয়াস খানের সাথে এ বিষয় জানতে চাইলে তিনি তার সঠিক উত্তর দিতে পারেননি বরং প্রতিবেদককে তার সাথে বার বার অনুরোধ করেন।
সাবেক সুপার মাও. জিয়াউল হক ফারুকী বলেন, এ নিয়ম পরিপন্থি বিতর্কিত  নিয়োগ সভাপতি ইলিয়াস খান ও এনামুলের দায়িত্ব কালিন হয়েছে। যেহেতু এর দায়ভার তাদেরই বহন করতে হবে। আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে এমনকি তারা ওই নিয়োগ পত্রে দাতা সদস্য হিসেবে আমার স্বাক্ষর জাল জালিয়াতি করে তার বৈধতা দিয়েছেন। আমি এ জালিয়াতির উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটনের জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ করছি। ভাপপ্রাপ্ত সুপার মাওঃ এনামুল হক বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোন ধরনের বিনিময় গ্রহন করা হয়নি। মেধার যোগ্যতায় তাদের বাছাই করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে একটি গোষ্ঠী সর্বদা অপপ্রচারে লেগে আছে। যে কারণে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে ব্যহত হচ্ছে।
পিরোজপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ ইদ্রিস আলী আজিজি বলেন, ঘটনাটি সবে মাত্র অবগত হলাম। এ বিষয় কারো লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই দতন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Share.

About Author

Leave A Reply