চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় ব্যবসায়ীর মাথা ফাঁটালেন আ‘লীগ নেতা, থানায় মামলা

0

তৌহিদুুর রহমান :
সবুজবাংলা২৪ডটকম, ঢাকা : রাজধানীর কোতয়ালী থানার রায়সাহেব বাজারে চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় ব্যবসায়ীকে মারধর করে মাথা ফাঁটালেন স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ও তার ক্যাডাররা। ২৫ নভেম্বর ২০২১, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ভূক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় ২৭ নভেম্বর ২০২১, মামলা করেছেন। থানার ওই মামলা নং-৪৩। সূত্রে জানা গেছে, ওই ভূক্তভোগীর নাম বিপ্লব মিয়া, তার পিতার নাম আক্কাস আলী। সে খিলক্ষেত থানাধীন ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের বড়–য়া সিলন পাড়ার ৩ নম্বর বাড়ীর বাসিন্দা। বিপ্লব রায়সাহেব বাজারের উদয় বয়লার হাউজের ২০/২৮নং দোকানের মালিক। সে ১০/১২ বছর ধরে ওই দোকানে মুরগীর ব্যবসা করছেন। এ মামলার আসামীরা হলেন ঢাকা দক্ষিনের কোতয়ালী থানা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন সরকার (৩৮), একই থানার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নুরুল আমিন নুরু (৩৭), জাবেদ সরকার ওরফে ইয়াবা জাবেদ (৩৪), ফয়েজ (৩৮), ওয়ারেঞ্জ সিকদার (৩৪) ও অজ্ঞাতনামাসহ ১৫/২০ জন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামী মহিউদ্দিন সরকার সহ তার নেতৃত্বে উক্ত আসামীরা দীর্ঘদিন ধরে বিপ্লবসহ অনেকের নিকট চাঁদা দাবী করে আসছিল। ইতিপূর্বে বিপ্লবের থেকে ১০/২০ হাজার করে তারা কয়েক দফায় চাঁদাও নিয়েছে। কিন্তু এরই ধারাবাহিকতায় ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় তারা ফের চাঁদা নিতে আসে। ব্যবসায়ীরা চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে দোকান থেকে বের করে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ী মারপিট করে। ওই সময় মহিউদ্দিন এর রডের আঘাতে তার মাথা ফেঁটে যায়। ঘটনার সময় আসামীরা তার কাছে থাকা ব্যবসার ৫০ হাজার টাকা ও ৮ আনা ওজনের স্বর্নের চেইন ছিনিয়ে নেয় এবং ওই তারা বিপ্লবের পাশে আলমের দোকানের ২ শতাধিক ডিম ভেঙ্গে ফেলে। তার ডাক চিৎকারে আশে-পাশের লোকজন ছুটে এলে ওই আসামীরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দ্রুত চলে যায়। এরপর ব্যবসায়ী আসাদ ও মোকলেছ সহ আরো কয়েকজন তাকে উদ্ধার করে  দ্রুত স্যার সলিমুল্লাহ হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ ঘটনার প্রতিবাদে ২৬ নভেম্বর ২০২১, দুপুরে সহশ্রাধিক ব্যবসায়ী ও কর্মচারী রায়সাহেব বাজার চত্তরের সড়কে বিক্ষোভ মিছিল ও মানবন্ধন করে। রায়সাহেব বাজার ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতি’র সভাপতি নাসু ব্যাপারী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের, দপ্তর সম্পাদক আকবর হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মনোরঞ্জন দেসহ অনেকে জানান, আওয়ামীলীগ নেতা মহিউদ্দিন একজন দুধর্ষ্য চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও স্থানীয় আওয়ামীলীগের কুলাঙ্গার। তার বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় এরপূর্বে ডাকাতি, বাড়ী অবৈধ দখল মামলাসহ আরো ২টি মামলা রয়েছে। তারা আরো জানান, সে ওইসব মামলার চার্জসীটভূক্ত আসামী। তার ডাকাতি মামলাটি ২য় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে রয়েছে। দায়রা মামলা নং-৪৬৩/২০০২। সূত্র আরো জানায়, সন্ত্রাসী মহিউদ্দিন সরকার দীর্ঘদিন ধরে তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে এই ঐতিহ্যবাহী রায়সাহেব বাজার ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতি দখল করার অপচেষ্টা করছে। কিন্তু সে এ বাজারের ব্যবসায়ী নন। সে দলীয় অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে আর সন্ত্রাসী তান্ডব চালিয়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে আইন শৃংখলা বিনষ্ট করছে। ইতিপূর্বেও তার অনৈতিক কর্মকান্ডের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা একাধিকবার বিক্ষোভ মিছিল, জনসমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে। সমিতির সূত্রে জানা যায়, বিপ্লবের ঘটনায় আসামীদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে থানা প্রশাসনের কাছে ৪শতাধিক ব্যবসায়ীর গণস্বাক্ষরিত প্রতিবাদ লিপি দেয়া হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভূক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই মহিউদ্দিন সরকার তৎকালীন ছাত্রদল নেতা ও শীর্ষ সন্ত্রাসী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোচিত এসআই ফরহাদ হত্যা কান্ডের মূল আসামী রফিকুল ইসলাম কাজলের অন্যতম সহযোগী ছিলেন। এছাড়াও তিনি কাজলের অবৈধ অস্ত্র ভান্ডারের দায়িত্ব প্রাপ্ত বিশ্বস্ত সহকর্মী ছিলেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভূক্তভোগীদের কয়েকজন জানান, শীর্ষ সন্ত্রাসী কাজলের ওইসব অবৈধ অস্ত্র এখনো তার হেফাজতে রয়েছে। বিএনপি ঘরানার এই দুর্ধর্ষ্য ক্যাডার নিজের দলীয় পরিচয় বদলে ফেলে হাইব্রিড আওয়ামীলীগ হিসেবে ২০১০ সালে আত্মপ্রকাশ করে। সূত্র আরো জানায়, দুরন্ধর মহিউদ্দিন ছাত্র জীবনে সরকারি কবি নজরুল কলেজ শাখার একবার যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও দুইবার সভাপতির পদ টাকার বিনিময়ে ভাগিয়ে নেয়। ওই সময়ের কলেজের ভর্তি বাণিজ্য, বাস স্ট্যান্ড, ট্যাম্পু স্ট্যান্ড, বাজার ও ফুটপাত দখল বাণিজ্য এখনো ধরে রেখেছেন তিনি। সূত্র আরো জানায়, কোতয়ালী থানা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদটি কিনতে সে অঢেল টাকা বিনিয়োগ করেছে বলে জনশ্রুতি আছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে মহিউদ্দিন সরকারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।

Share.

About Author

Leave A Reply