হাতিয়ায় ইউপি সদস্য হত্যা: চেয়ারম্যান সহ ৪৪ জনের নামে মামলা

0

নিজস্ব প্রতিনিধি :
সবুজবাংলা২৪ডটকম, নোয়াখালী : নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চর ঈশ্বর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য রবীন্দ্র চন্দ্র দাসকে (৪২) হত্যার ঘটনায় ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সহ ৪৪ জনের নামে মামলা হয়েছে।
হাতিয়া থানার ওসি আবুল খায়ের জানান, শুক্রবার দুপুরে নিহেতর ছেলে বিটেল চন্দ্র দাস বাদী হয়ে হাতিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় প্রধান আসামী করা হয়েছে চরঈশ্বর ইউনিয়ন পরিষদর নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী আশ্রাফুল হক সোহেলকে(২৮)। ১০ নং আসামী করা হয়েছে সোহেলের চাচা বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুল হালিম আজাদকে। মামলার এজাহারে ৪৪ জনের নাম উল্লেখ ছাড়াও অজ্ঞাত আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামী করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পুলিশ এক ইউপি সদস্যসহ এ পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন চরঈশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত নরত্তোম দাসের ছেলে সুমন চন্দ্র দাস (৪০) ও গামছাখালি গ্রামের আনাজল হকের ছেলে আমজাদ (৩৪)।
এদিকে চর ঈশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল হালিম তাকে হয়রানীর উদ্দেশ্যে মামলার আসামী করা হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি গত দুইদিন থেকে ঢাকায় অবস্থান করছি। এ ঘটনায় আমি বা আমার কোনো লোক জড়িত না হওয়া সত্বেও সামনে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেউ ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে আমি, আমার পরিবারের সদস্য ও আমার লোকজনকে আসামী করার জন্য বাদী প্রভাবিত করেছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি।’
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, বৃহস্প্রতিবার রাত সোয়া দ্ইুটার দিকে বাংলা বাজার থেকে তিনটি মোটরসাইকেলযোগে রবীন্দ্র চন্দ্র দাস সহ সাতজন এক সাথে উপজেলা সদর ওছখালীতে বাসায় ফিরছিলেন। পথে খাসেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে দুর্বৃত্তরা তাদের গতিরোধ করে। এ সময় রবীন্দ্রকে রেখে বাকিরা চলে যায়। এক পর্যায়ে দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে সড়কের ওপর ফেলে রেখে চলে যায়। আশংকাজনক অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করার কিছুক্ষণের মধ্যে সে মারা যায়।
নিহত রবীন্দ্র চন্দ্র দাস যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও হাতিয়া ডিগ্রি কলেজের শরীরচর্চা বিভাগের শিক্ষক আশরাফ উদ্দিন হত্যা মামলার অন্যতম আসামী। ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ হাতিয়ার আফাজিয়া বাজারে রবীন্দ্র চন্দ্র দাস ও তার সহযোগীদের ছোঁড়া গুলিতে আহত আশরাফ উদ্দিন ঘটনার ১০ দিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তারের পর কয়েক মাস হাজতবাস করে জামিন পান রবীন্দ্র। নিহত যুবলীগ নেতা আশরাফ উদ্দিনের এক ভাই হাতিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহম্মেদ। আরেক ভাই আলাউদ্দিন আহম্মেদ আজাদ চর ঈশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং এবারে নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী।

Share.

About Author

Leave A Reply