পশুর চ্যানেল ড্রেজিংয়ে বালু ডাম্পিং নিয়ে ত্রিমুখী অবস্থান

0

জি এম জাকির হোসেন :
সবুজবাংলা২৪ডটকম, দাকোপ (খুলনা) : মোংলা সমুদ্র বন্দরের পশুর চ্যানেলে ড্রেজিং প্রকল্পের বালু ডাম্পিং’র ইস্যুতে ত্রিমুখী অবস্থানে বন্দর, চিনা কোম্পানী ও গ্রামবাসী। রাতের অন্ধকারে বালু ভরাটের নামে সরকারি রেকর্ডিও খাল ও কয়েকশ একর মৎস্য চিংড়ি ঘের ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে এ চিনা কোম্পানীর বিরুদ্ধে। সরকারি খাল আর কৃষি জমি ও মৎস্য ঘের ভরাট করায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
তারা বলছেন-মৎস্য ঘের, ফসলি জমি ও জলাভূমির শ্রেনী বিন্যাশে হুমকির মুখে পড়বে জীববৈচিত্রসহ স্থানীয়দের জীবন-জীবিকা। তাদের দাবি-বন্দর কর্তৃপক্ষ ও চীনা কোম্পানি পূর্ব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারি খাল, ফসলি জমি ও মৎস্য ঘেরে বালু ডাম্পিংয়ের কারণে পানিবন্দী ও ক্ষতির মুখে তিন গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। তাছাড়া খুলনা জেলার , দাকোপের অন্তরভুক্ত বাজুয়া এলাকার ৩০০ শত একর জমি ঐ অন্তরভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে ফলে এলাকার মানুষ আতংকিত।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্র জানা যায়, মোংলা বন্দরে দেশী-বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজ আগমন-নির্গমনে বড় বাধা হচ্ছে চ্যানেলে ডুবো চর। আর এ ডুবো চরে আটকা পড়ে সিডিউল মোতাবেক বিদেশী জাহাজ আর্ন্তজাতিক বন্দরে পৌঁছাতে না পাড়ায় পন্য খালাস-বোঝাইয়ে বাঁধা সৃষ্টি হয়। ফলে অনেক জাহাজ মালিক মোংলা বন্দরে বাণিজ্যিক জাহাজ পাঠাতে অনিহা প্রকাশ করে। যার ফলে ৯০ দশকে এ বন্দরে জাহাজ আগমণ আশঙ্কাজনক হারে কমে যায়। তাই মোংলা সমুদ্র বন্দরকে সচল করতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প গ্রহণ করে বর্তমান সরকার। তার মধ্যে প্রথম পর্যায় ৭শ কোটি টাকা ব্যয়ে আউটার বার (বঙ্গোপসাগর ও হিরোন পয়েন্ট মোহনা) ড্রেজিংয়ের কাজ সম্পন্ন করে।
বন্দরের গতিশীল ও উন্নয়নের জন্য এবার ৭শ’ ৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলের ইনার বার ড্রেজিং প্রকল্প গ্রহন করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। আর ড্রেজিং প্রকল্পের কাজের জন্য দুটি চীনা কোম্পানিকে নির্ধারন করা হয়। গত ১৩ মার্চ নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এ কাজের শুভ উদ্বোধন করেন। কিন্ত এ ড্রেজিংয়ের বালু ডাম্পিং করতে (ভরাটের জন্য) তাদের প্রয়োজন ১৫শ একর জমির। এখানে পশুর নদীর তীরবর্তি ৫শ’ একর সরকারি খাস জমি চিহিৃত করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। যেখানে বালু ডাম্পিং করতে কোন বাঁধা আসবে না বলে জানায় বন্দরের হারবার বিভাগ।
তবে শুধু ৫শ একর জমিতে হবে না বলে জয়মনি এলাকায় স্থানীয়দের কাছ থেকে আরো এক হাজার একর জমির প্রয়োজন, যা মালিকানা ফসলি জমি। তাই নদী খননের বালু ডাম্পিং করার জন্য ১ হাজার একর ফসলি জমি ও মৎস্য ঘের এলাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করে মোংলা বন্দর। এ জমির ৩শ একর রয়েছে পশুর চ্যানেলের পশ্চিম পাশে অর্থাৎ খুলনা জেলার বাজুয়া এলাকায়। সেখানে ফসলি জমি হুকুম দখল বা ১০ বছরের ক্ষতিপূরণ দিয়ে বালু ভরাটের জন্য জমি দখলে গেলে এলাকাবাসীর বাধার মুখে তা ওই অবস্থাতেই রয়েছে বলে জানিয়েছে ওখানকার জমির মালিক অনেকেই।
এদিকে, গত এপ্রিলে এ কাজের শুরুতে মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের ফসলি জমি ও মৎস্য ঘেরের ৭শ একর জমি হুকুম দখল বা ১০ বছরের ক্ষতিপূরণ দেয়ার আশ্বাসে পশুর নদী ড্রেজিংয়ের বালু ভরাটের জন্য ডাইক (ভেরিকেট) নির্মাণ কাজ শুরু করে ওই দুই চিনা কোম্পানী। ফসলি-মৎস্য চাষের জমিতে নদী ড্রেজিংয়ের বালু ডাম্পিংয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।

Share.

About Author

Leave A Reply