বেড়েই চলেছে সাইবার ক্রাইম, হুমকির মুখে কিশোরীরা

0

কাজি আরিফ হাসান :
সবুজবাংলা২৪ডটকম, ঢাকা : যত দিন যাচ্ছে ততো বেড়েই চলেছে ইন্টারনেট ব্যবহার চাহিদা। আর এ কারণে প্রতারণার ভয়ংকর ছায়া পড়েছে জীবনযাত্রার। সে ক্ষেত্রে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ ক্ষতির সম্মুক্ষিণ হচ্ছে প্রতিনিয়োত। ক্ষতিগ্রস্থদের অনেকেই জানায়, যদিও বর্তমান ডিজিটাল দুনিয়ায় সারা বিশ্ব আধুনিকতার যখন উল্লাসিত তখন কোন কোন মানুষের জীবনও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে ভয়ংকর ভাবে। ডিজিটাল দুনিয়ায় আমাদের দেশ যতই সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে ততোই কোন কোন পরিবারা নিরবেই প্রতারণায় শিকার হচ্ছে আর্থিক,সামাজিক ও পারিবারিক ভাবে। আবার ইন্টারনেটের এক শ্রেনির চক্রদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ব্লাকমেইল হচ্ছে তা থেকেও সর্তক হচ্ছে না।
দেখা যায় ২/১ বছর একটি ছেলে ও একটি মেয়ে প্রেমে আবদ্ধ হলে কোন একসময় প্রেমিক বা প্রেমিকাই হয়ে ওঠে ভয়ংকর প্রতারক। এমনকি বিশ্বাসঘাতকতা করে সবকিছু তাদের মধ্যে বিনিময় হয়ে যাওয়ার পর। একটা সময় ব্ল্যাকমেল করা শুরু করে প্রেমিক বা প্রেমিকাই। ফেসবুক, ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ছবি কিংবা নগ্ন ভিডিও আপলোড করে সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়। সূত্রে জানা যায় বর্তমান জনপ্রিয় ফেসবুকের মাধ্যমে ভুক্তভোগী অনেক তরুন-তরুণীরা, তরুণী কিংবা নারী বন্দী হয়ে পড়েছে নিজ ঘরেই শুধু নারী নয় একটা অসহায় কিশোরও কখনো কখনো প্রতারক নারীর পাল্লায় পড়ে হতে হয় শেষ। ঘরের মধ্যে বন্দি জীবন করে তোলে অতিষ্ট। বন্ধ হয়ে যায় লেখা-পড়াও,এমকি চাকরি যাওয়ার ঘটনা শোনা গেছে অহরহ। ইন্টারনেটে এ ধরনের প্রতারনার(প্রতারক নারী বা পুরুষও হতে পারে) শিকারের পর ঐ তরুন-তরুনীরা হতাশায় ভোগে এবং এমকি তাদের সাথে তাদের বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনদের কোন যোগাযোগও থাকে না। প্রতারনার মিকার হওয়ার পর এমনকি তারা নিজেদের পরিবারের সদস্যরাও ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে রাখে হতাশায় জীবন-যাপন করেই চলেছে। এ সবে মুলকারন অনুসন্ধানে মেলে ইন্টার নেটে প্রতারণার ফাঁদ। সে ফাঁদ থেকে কিশোরীদের ক্ষেত্রে তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে অন্যের ঘরের স্ত্রী হওয়া পর্যন্ত তাদের যেন নিস্তার মেলে না, সব সময় একটা মনের ভিতরে অশান্তি বিরাজমান করে। আরো তথ্য জানা যায়, ধরা যাক রাজধানীর একটি প্রভাবশালী পরিবারের মেয়ে ৮ম শ্রেণি পড়ুয়া অনলাইন ক্লাস করার সুয়োগে পাশের এলাকার একই ক্লাসের ছেলের সাথে তার ঘনিষ্ঠতা সম্পর্ক হয়ে গেছে এরপর গ্রুপ স্টাডির নামে ছেলেটি একদিন মেয়েকে তারই এক আতিœয়র বাসায় নিয়ে যেয়ে প্রায় ৩০মিনিট। পড়াশোনার পর একপর্যায়ে তাদের মধ্যে আরো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হয়ে যায় তখন ছেলেটি কলেজ পড়ুয়া এক বড় ভাই সেই দৃশ্য মোবাইলে ধারন করেন পরবর্তিতে ঐ মেয়েটিকে দেখিয়ে অনৈতিক সুবিধা ও একপর্যায় ব্ল্যাকমেল করা শুরু করে। ভয়ভীতি দেখায় যে এ ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেবে সেই বড় ভাই। এমন ঘটনা দেশে নিরবেই হয়েই চলেছে অহরহ প্রতিনিয়ত। প্রশাসনের কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের বলেন,বিশেষ করে রাজধানীতে- ইউটিউব,টিকটক,লাইকি ভিডিওর নামে, মুভিতে অভিনয়ের কথা বলে মেয়েদের সাথে সবচেয়ে বেশি প্রতারণা ঘটছে বলে জানা যায়। ইন্টারনেট প্রতারণাবিরোধী , সংবাদপত্রে একের পর এক খবর,এতসব প্রচার পরও পরিস্থিতি কোন পরিবর্তনও দেখা মেলেনি। বরং অজ্ঞাত কারণে ভিডিও শুটিংয়ের কর্মকান্ড বাণিজ্যিক রূপ পেতে বসেছে। বিভিন্ন ড্যান্স ক্লাব ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাধ্যমে মডেল বা শিল্পী খুঁজে নেওয়ার পদ্ধতি এখন বাতিল হয়েছে, এখন মডেলদের জোগান মেলে অনলাইন চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে। শর্টফিল্মে যে কোনো ধরনের অভিনয়ের জন্য চাহিদামাফিক মডেল সরবরাহ দেওয়া হয়, সে কার্যক্রমও চলে অনলাইনে। গত এক সপ্তাহে বারিধারা জে ব্লকের দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে অন্তত ১১টি টিম গেছে গাজীপুরের ভাওয়ালে বিভিন্ন শ্যুটিং স্পটে যেমন ২টি স্থানে রাঙামাটির ও সাজেক ভ্যালিতে। একেকটি টিমে ১৮ থেকে ২০ জন মডেলের সম্পৃক্ততাও তথ্য পাওয়া যায়। সূত্রটি জানান, সেখানে অভিনয়-ড্যান্স জানুক আর না জানুক কথিত শর্টফিল্ম নির্মাতারা মডেল হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদেরই অগ্রাধিকার দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
এ যেন বিভিন্ন চিত্রনাট্য সংগঠন গ্রাম থেকে চাকরি দেয়র কথা বলে,বিয়ের প্রলোভন,প্রেমের কথা বলে এরকম নানা কৌশলে উঠতি বয়সের কিশোর-কিশোরীদের সংগ্রহ করে আনে একটি দালাল চক্র। তাদের মডেল বানানোর প্রলোভন দিয়ে প্রথমেই ড্যান্স ক্লাবগুলোয় নিয়ে তোলা হয়। পরে তাদের যৌন ব্যবসার পণ্য হিসেবে বিভিন্ন গেস্টহাউস ও আবাসিক হোটেলে সরবরাহ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোনো মেয়ে যৌনকর্মে রাজি না হলে নিয়ন্ত্রিত কক্ষে আটকে রেখে তার খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করা হয়। তারপর চলে শারীরিক নির্যাতনের নানা নির্মমতা। অনুসন্ধানকালে কয়েকজন কিশোরী-কিশোরীকে যেসব কৌশলে যৌনকর্মীতে পরিণত করা হয়েছে সেসব কাহিনি যেন ছায়াছবির চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। খপ্পরে পড়েও যেসব মেয়ে যৌন বাণিজ্যের পণ্য হতে অস্বীকার করে তাদের ওপর নেমে আসে আরও বর্বরতা। ড্যান্স পার্টির এ্যারেঞ্জারদের কয়েক সদস্য মিলে তার ওপর চালায় ‘গ্যাং রেপ’। পুরো নগ্ন অবস্থায় এসব দৃশ্যের ভিডিও ধারণ করা হয়। ভিডিওচিত্র তাকে দেখিয়ে ইন্টারনেটে ছড়ানোর হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন চলে। পুলিশের সহযোগিতায় নিরাপত্তার কড়াকড়ির মধ্যে পরিচালিত পারলার কাম ম্যাসেজ সেন্টারে একবার কর্মী হিসেবে ঢুকলে আর নিরাপদে বের হওয়ার উপায় থাকে না। সবকিছু হারানোর পরও ভবিষ্যতে আরও বিপন্ন পরিস্থিতির কথা ভেবে দিশাহারা হয়ে পড়ে। এর পর থেকেই দালাল চক্রের হিংস্র মানুষগুলোর কাছেই জিম্মি হয়ে পড়ে কিশোরী-বালিকারা। গত তিন বছরেই ড্যান্স ক্লাবে নাচ শেখানোর নাম করে, পার্টির মডেল বানানোর প্রলোভন দিয়ে অসংখ্য মেয়েকে আনা হলেও তাদের বেশির ভাগই আর নিজেদের ঘরে ফিরতে পারেনি। মেয়ে হারানো বেশ কয়েকজন অভিভাবকরা (মা-বাবা) ঢাকার মুগদা, যাত্রাবাড়ী, গুলশান, বনানী ও উত্তরা,উত্তরখান,দক্ষিণখান,তুরাগ থানায় অভিযোগ দিয়েও কোনো সমাধান মেলেনি। আজও তারা ফিরে পাননি হারিয়ে যাওয়া তাদের মেয়ে বা কিশোর ছেলেদের। এর আগে মাত্র ৪ বছরেই মেয়ে হারানো অভিভাবকদের প্রায় ১ হাজার ৬০০ জিডি নিয়ে ডিএমপি পুলিশ ব্যাপক অভিযান চালায়। এভাবে কিছু দালালদের খপ্পরে পড়ে যদি অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের হারিয়ে ফেলেন এবং যার কারনেই দেশে বেড়ে যাচ্ছে সাইবার ক্রাইম তাহলে কিভাবে একটা সুন্দর দেশ ও সুন্দর সমাজ গড়ে উঠবে ? এরা শুধু এসব করেই খ্যান্ত না তার বিভিন্ন ব্যক্তির ফেসবুক এ্যাকউিন্ট হ্যাক করে ,ব্যাংক এ্যাকাইন্ট হ্যাক করেও বিভিন্ন ভাবে অপরাধও করে থাকে বলে তথ্য মেলে। অভিভাবক ও এলাকাবাসিদের মতামতে জানা যায় এই সাইবার ক্রাইম রোধ করতে হলে এলাকা ভিত্তিক ভাবে প্রশাসনকে কঠোর হাতে দমন করতে হবে এবং এই সব সাইবার ক্রাইম গড়ে উঠা পেছন মুল হোতা কার খুজে বাহির করে আইনের আওতায় আনলেই সাইবার ক্রাইম সমাজ থেকে রোধ করা সম্ভব।

Share.

About Author

Leave A Reply