চুয়াডাঙ্গায় কোরবানী পশু বিক্রি বেড়েছে: অনেকেই ছুটেছেন ঢাকায়

0

রেজাউল করিম লিটন :
সবুজবাংলা২৪ডটকম, চুয়াডাঙ্গা : গরু-মহিষ, ছাগল-ভেড়া আছে ভরপুর। বিক্রিও হচ্ছে বেশ। চোখে-মুখে স্বস্তির ঝিলিক চুয়াডাঙ্গার খামারীদের। এবার লকডাউনে কোরবানীর পশূ বিক্রি নিয়ে বিপাকে পড়েছিল এ জেলা পশু পালনকারীরা। অনেকেই তাদের পশু বিশেষ করে গরু নিয়ে ছুটেছেন রাজধানী ঢাকার পশু হাটগুলোতে।
ঢাকায় ভাল দামে গরু বেঁচে খুশি খামারিরা। জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার গড়চাঁপড়া গ্রামের খামারি নাজমুল হোসেন ৩ টি গরু নিয়ে ঢাকায় গিয়েছিলেন। মেরুল বাড্ডা হাটে ৩ টি গরুই বিক্রি করেছেন সাড়ে দশ লাখ টাকায়। ভাল দাম পেয়ে খুশি নাজমুল।
জেলার জীবননগর উপজেলার লক্ষীপুরের বড় খামারি বাশার মিয়া। তার খামারে ৬২ টি কোরবানি উপযোগী বড় বড় গরু রয়েছে। এবার ৪৫ টি গরু নিয়ে ঢাকার গাবতলী হাটে গিয়েছেন।
দামুড়হুদা উপজেলার দক্ষিন চাঁদপুরের মাসুদুর রহমানের খামারে আছে বড় বড় ১৬ টি গরু । মাসদুর রহমান জানান, এখনও তেমন ব্যাপারি ভেড়েনি তারা খামারে। কষ্ট হলেও এখন হাটে তুলবেন গরু গুলো।
গত ৬ জুলাই লকডাউনে অনলাইন পশু হাটের উদ্বোধন করেছেন জেলা প্রশাসক। মোটামুটি সাড়া মিলেছে ডিজিটাল পশু হাটে। প্রানি সম্পদ কার্যালয় সুত্র জানায়, এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার গরু-ছাগল অনলাইন পশু হাটে আপ হয়েছে। তবে বেঁচা-কেনা কত হয়েছে তা এখনও নির্দিষ্ট করে জানা যায়নি। গত বছর সাড়ে ৪ হাজার পশু অনলাইন হাটে বিক্রি হয়েছিল।
এদিকে জেলার খামারি ও এলাকাবাসির দাবীর মুখে জেলায় চার উপজেলার চারটি বড় পশু হাটসহ ৭/৮ টি হাট স্বাস্থ্য বিধি মেনে বসানোর অনুমতি দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এসব হাটে পশু বিক্রি হচ্ছে মোটামুটি। করোনার সংকটে এবার কোরবানি করা ব্যক্তির সংখ্যা অনেক কম। তাই পশু বিক্রিও তুলনামুলক কম বলে মনে করছেন হাট সংশ্লিষ্টরা।
জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ গোলাম মোস্তফা বলেন, পশু বিক্রি নিয়ে চিন্তিত হবার কারন নেই খামারীদের। ঈদের পরও পশুর ভাল দাম পাবেন তারা। যে সব পশু অবিক্রিত থাকবে সেগুলোর স্বাস্থ্য সেবাসহ রক্ষনাবেক্ষনে খামারিদের পাশে থাকবে প্রানি সম্পদ বিভাগ।
জেলা প্রশাসক মোঃ নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, অনলাইন পশু হাট চালু রয়েছে। এ ছাড়াও খামারি অর্থ্যাৎ পশুপালনকারীদের কথা মাথায় রেখে জেলার করোনা প্রতিরোধ সংক্রান্ত কমিটির সাথে আলোচনা করে স্বাস্থ্য বিধি মেনে হাটগুলো চালু করা হয়েছে। এবার জেলার হাটগুলোতে ভারতীয় গরু নেই। সুতারাং আশা করি এ জেলায় পালন করা কোরবানি উপযুক্ত সব গরু-ছাগল ঈদের আগেই বিক্রি হয়ে যাবে। খামারিরাও ভাল দাম পাবেন।
জেলা প্রানি সম্পদ বিভাগের তথ্যনুযায়ী, এবার চুয়াডাঙ্গা জেলায় কোরবানী উপযোগী পশু রয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৯’শ ৫৫টি। এর মধ্যে গরু ২৯ হাজার ৭’শ ৫০ টি,মহিষ ১’শ ৮৯ টি, ছাগল ৮২ হাজার ২’শ ৩৬ টি, ভেড়া ৭’শ ৮০ টি। এ বছর চুয়াডাঙ্গা জেলায় কোরবানি পশুর চাহিদা ৭৫ হাজার ৩ টি। উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৯’শ ৫৫টি। জেলার চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকবে ৩৭ হাজার ৯.শ ৫২ টি পশু।

Share.

About Author

Leave A Reply