পিরোজপুরে এহসান গ্রুপের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন

0

নিজস্ব প্রতিনিধি :
সবুজবাংলা২৪ডটকম, পিরোজপুর : পিরোজপুরে পুলিশের বাঁধা উপেক্ষা করে মানববন্ধন করেছেন এহসানের ভুক্তভোগী সদস্য ও কর্মীরা। রোববার সকালে পৌর শহরের উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন (পুরাতন সিও অফিস) এহসান গ্রুপের কার্যালয়ের সামনে ভুক্তভোগী নারী ও পুরুষদের অংশ গ্রহনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠিত ওই মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জামানত সংগ্রহকারী ফিল্ড অফিসার (এফও) ও পুজি ফেরত পাওয়ার জন্য আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম, ফিল্ড কর্মী মাওলানা মো. হারুন অর রশিদ, মো, জালাল উদ্দিন, সার্জেন্ট আব্দুর রশিদ প্রমুখ। জেলার সদর উপজেলার জুজখোলা গ্রামের মো. মোস্তফা কামাল জানান, তার ২০ লাখ টাকা এহসানের কাছে ব্যবসার জন্য জমা দেয়া। কিন্তু এহসান গ্রুপ গত ২ বছর ধরে তার টাকার জন্য পাওয়া কোন টাকা দিচ্ছে না। এমন কি পুঁজি’র টাকাও ফেরত দিচ্ছে না। তিনি এখন চরম অসহায়। পৌর শহরের ৮নং ওয়ার্ডের অসহায় ফেরদাউস মোল্লা জানান, ব্যবসার জন্য তার এক লাখ টাকা জমা দেয়া। তিনি কোন ব্যবসার টাকা পাচ্ছেন না।
জানা গেছে, পৌর শহরের পুরাতন সিও অফিস সংলগ্ন অবস্থিত কার্যালয় ‘এহসান গ্রুপ’এর উদ্যোগে অধিক মুনফা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১২ হাজার মাঠকর্মী (এফও) নিয়োগ দেন। ওই সব মাঠকর্মীদের মাধ্যমে জেলা ও জেলা পার্শ্ববর্তী বাগেরহাট, ঝালকাঠী, বরগুনা ও পটুয়াখীর প্রায় লক্ষাধীক গ্রহকের কাছ থেকে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। প্রথম দিকে কিছু গ্রাহককে মুনফা দিলেও গত দু’বছর ধরে তাদের মুনফা প্রদান বন্ধ করে দেন।
গ্রাহকদের টাকা উদ্ধার কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ওই এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান মাওলানা রাগিব হাসানের প্রতিষ্ঠিত ‘এহসান রিয়েল এস্টেট এন্ড বিল্ডার্স লিমিটেড ও নুরে মাদিনা’ নামে পৃথক ২ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সহ ১৬টি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তিনি গ্রাহকের ওই টাকা জমা নিয়ে তা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। বিভিন্ন সময় ওই টাকা ফেরত দেয়ার তারিখ দিয়েও তিনি তা ফেরত দিচ্ছেন না।
এ ব্যাপারে জানতে তার ব্যবহৃত মুঠো ফোনে একাধীক বার ফোন দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। এমন কি তার কার্যালয়ের গেট বন্ধ রয়েছে।

পিরোজপুরে মূল্যবান ক্রিস্টাল মেথ আইস মাদকসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার মাসুম খান
পিরোজপুর প্রাতনিধি:
পিরোজপুরে মূল্যবান ক্রিস্টাল মেথ আইস মাদক সহ মোহাম্মদ মাসুম খান রাজ (২৭) এক মাদক ব্যবসায়ীকে র‌্যাব গ্রেফতার করেছে। সে ওই ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক। গ্রেফতারকৃত মাসুম খান রাজ জেলার সদর উপজেলার টোনা ইউনিয়নের ওধনকাঠী গ্রামের মৃত মতিউর রহমান খানের ছেলে।
রবিবার ১২টার দিকে র‌্যাব-৮ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পরে ওই দিন দুপুরে তাকে পিরোজপুর সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় বরিশাল র‌্যাব-৮ এর ডিএডি মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার বাদী হয়ে পিরোজপুর সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। র‌্যাব-৮ জানান, গত শনিবার (১৭ জুলাই) রাত পৌনে ৯টার দিকে জেলার সদর উপজেলার টোনা ইউনিয়নের ওধনকাঠী গ্রামের আটককৃত মাসুম খানের বাড়ির সামনের ইটের রাস্তার উপর বসে মাদক জাতীয় দ্রব্য বেচা-কেনা হচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব সদস্যরা সেখানে অভিযান চালান। এ সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা অন্য মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে গেলেও মাসুম খান দৌড়ে পালানোর সময় আটক হয়। এ সময় তার কাছে থাকা একশত গ্রাম ক্রিষ্টার মেথ আইস নামের দামীয় মাদক উদ্ধার করা হয়। সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মো. রেজাউল করিম শিকদার মন্টু গ্রেফতারকৃত মোহাম্মদ মাসুম খান রাজ ওই ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটির সাধারন সম্পাদক হিসাবে নিশ্চিত করেছেন। তবে ওই কমিটি এখনো অনুমোদিত হয় নি।
র‌্যাব সূত্র আরও জানায়, মূল্যবান ক্রিস্টাল মেথ আইস মাদক একটি ভয়াবহ ক্ষতিকর মাদক। যা দেশের প্রচালিত অন্যান্য সকল মাদকের থেকে ক্ষতিকর ও ভয়াবহ। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) একাধীক সূত্র জানান, আটককৃত মোঃ মাসুম খান রাজ একজন তালিকা ভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। এর আগে মাদক সহ তার ভাই মামুন ও তার স্ত্রী সহ গ্রেফতার করা হয়েছিলো।
পিরোজপুর সদর থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) আ.জ.ম মাসুদুজ্জামান জানান, ওই মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। তাকে থানার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ মদ অত্যন্ত দামি । যার একশ গ্রামের দাম ১৫ লক্ষ টাকা। জেলা শহরে এই মাদক ঢুকে পড়েছে সত্যিই দুঃখজনক।

Share.

About Author

Leave A Reply