শান্তিচুক্তির ২ যুগ পূর্ণ হলেও পাহাড়ে বাঙালির ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেনি

0

মোঃ লোকমান হোসেন :
সবুজবাংলা২৪ডটকম, খাগড়াছড়ি : পাহাড়ে আজ ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির ২৪’বছর পূর্তি প্রতি বছরই  জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হয়। কিন্তু গুচ্ছ গ্রামের বসবাস লক্ষ লক্ষ অসহায় মানুষেমানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেনি,তারা এখনো তাদের নিজের ভূমিতে ফিরতে পারেনি,তাদের আত্মচিক্কার কারো কানে পৌঁছেনি।
আজ ০২-১২-২১ ইং তারিখ খাগড়াছড়ির  জেলা প্রশাসক সহ পার্বত্য জেলা পরিষদ ও ক্ষুদ্রনী গোষ্ঠী ও বিভিন্ন সংগঠনের ভিন্ন ভিন্ন আয়োজনে পালন করা হচ্ছে, ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির ২৪’বছর।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা মহালছড়ি উপজেলার ৪নং মাইসছড়িতে, পাঁচ একর নামক এলাকায় ১৫০ পরিবারের সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ৫’একর করে ভূমি কবুলত মূলে বন্দোবস্তি প্রাপ্ত হয়ে বৈধ মালিক হয়েও তারা তাদের নিজের ভূমিতে বসৎ ঘর নির্মাণে বাধা।
সরেজমিনে নিউজের তথ্য সংগ্রহ কালে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের ভাষ্যমতে জানা যায়, মোটরসাইকেল পুরানো ও ঘর ভাঙা থেকে শুরু করে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন ইত্যাদি সবই ৪নং মাইসছড়ির পাঁচ একর নামক এলাকার ভূমি জটিলতা নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা বলে জানান উক্ত এলাকার ও পাশ্ববর্তী এলাকার সহ ঐ ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় বসবাসকারী বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ।
৪নং মাইসছড়ি পাঁচ একর এলাকার ভুক্তভোগীরা জানান,১৯৮১-৮২ ইং সালে তাৎকালীন সরকার বাহাদুর স্থানীয় হেডম্যান কারবারি কানুনগো ও এসিল্যান্ড ভুমি অফিসের মাধ্যমে খাস জমির নির্বাচন করে উপজেলার ইউনো বা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনায় প্রতিটি ভুমিহীন পরিবারকে সরকার কর্তৃক বৈধতা নিচিৎ করতে সবাইে পাঁচ একর ভূমি কবুলিয়ত মূল্যে বন্দোবস্তি দেওয়া হয়েছে। উক্ত প্রাপ্তি জমিতে তারা বসত ঘর নির্মাণ পূর্বক বাগান লাগানো সহ চাষাবাদ করেছেন দীর্ঘ দিন। ১৯৮৫ – ১৯৮৬ইং সালের তাৎকালিন সরকার নিরাপত্তার অজুহাতে তাদের নিজ নিজ ভূমি বাগন – বাগিচা ও কৃষি আবাদ সহ নিজ নির্মিত বস ঘর (রেখে) থেকে এনে গুচ্ছগ্ৰাম নামক বন্দিশালায় আবদ্ধ করে। এর পর থেকে দীর্ঘ দিন গুচ্ছগ্ৰামে রাখার ও থাকার ফলে তাদের নিজ নামিয় ভূমি বেদখল হতে থাকে।
তিন পার্বত্য জেলায় ১৯৯৭ইং সালে বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকারের প্রধান দেশমাতা জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার  ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির ফলে এ পার্বত্য অঞ্চলে পূর্ণরায় শান্তি ফিরে আসে, এর পর থেকে বাঙ্গালী পাহাড়ি আবারও মিলে মিশে বসবাস শুরু করে। কিন্তু ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির এরপর থেকে উপজাতীয় একটি মহল (পার্বত্য এলাকার) এ শাস্তি বিনষ্ট করতে সরকার কর্তৃক কবুলিয়ত মূলে বন্দোবস্ত প্রাপ্ত ও বৈধতা পাওয়া ভূমি নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি করতে চায়। যা এখনো বিদ্যমান।
৪নং মাইসছড়ি ইউপির বাঙালী লিডার’রা এ সমস্যা সমাধানে প্রশাসন ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ সহ সুদৃষ্টি কামনার পাশাপাশি এ ঐতিহাসিক  শুভক্ষণের দিনে অসহায় বাঙালীদের ভূমি ফিরে পাওয়ার দাবী জানিয়েছেন।

Share.

About Author

Leave A Reply